দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার পর ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহালির গলায় উঠল টিমগেমের স্লোগান। রাঁচি টেস্টে ইনিংস ও ২০২ রানে জয়ের পর তিনি জানিয়ে দিলেন বিশ্বের যে কোনও জায়গায় জয়ের ক্ষমতা ধরে তাঁর দল।

প্রোটিয়াদের তিন টেস্টের সিরিজে দু’বার ফলো অন করিয়েছে ভারত। ঘরের মাঠে টানা ১১ টেস্ট সিরিজও জিতেছে টিম ইন্ডিয়া। এই দুরন্ত ধারাবাহিকতার পর অধিনায়ক বলেছেন, “আমাদের দলে খুব বেশি অভিজ্ঞতা না থাকলেও বিশ্বাস রাখি যে বিশ্বের সর্বত্র আমরা জিততে পারব। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা— যে কোথাও আমরা জেতার ক্ষমতা ধরি।”

ভারত যে জেতার জন্য কন্ডিশনের উপর নির্ভরশীল নয়, সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন বিরাট কোহালি। বলেছেন, যে কোনও জায়গায় জেতার বিশ্বাস রয়েছে এই ভারতীয় দলের। তাঁর কথায়, “আমি গর্বিত এই দলের জন্য। আমরা যখন অ্যাওয়ে সিরিজেও খেলেছি, তখনও প্রত্যেক ম্যাচে লড়েছি। আমরা জেতার জন্য উজাড় করে দিয়েছি। মানসিক ভাবেই আমরা তা শুরু করেছি। ক্রিকেটাররা প্রচণ্ড খেটেওছে তার জন্য। এই দলের মানসিকতা দেখে তাই মুগ্ধ। এই সিরিজটা দুর্দান্ত গেল। আর বিশ্বের সেরা দল হয়ে উঠতে গেলে বহুমুখি হতেই হবে।”

আরও পড়ুন: দুই ওভারেই শেষ প্রোটিয়াদের লড়াই, ইনিংস ও ২০২ রানে জিতল ভারত​

আরও পড়ুন: ঘরের মাঠে টানা ১১ টেস্ট সিরিজ জয়, দক্ষিণ আফ্রিকাকে হোয়াইটওয়াশ, নানা রেকর্ড ভারতের​

যাঁর নেতৃত্বে তিনবার টেস্টে বিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করল ভারত, সেই কোহালি আরও বলেছেন, “আমরা কেমন দাপটে খেলছি, তা সবাই দেখছেন। যে পিচে তেমন কোনও সাহায্য মজুত নেই, সেখানেও আমরা সাফল্য পাচ্ছি। এর জন্য গর্ব অনুভব করছি। যতক্ষণ আমরা সৎ ভাবে চেষ্টা করতে থাকব, এমন সাফল্য আসবে।”

সদ্যসমাপ্ত সিরিজে ভারতের সাফল্যের নেপথ্যে নজর কেড়েছেন পেসাররা। অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন যদিও ১৫ শিকার নিয়ে সিরিজের সর্বাধিক উইকেট সংগ্রহকারী। তবে অশ্বিনের পরেই রয়েছেন পেসার মহম্মদ শামি ও বাঁ-হাতি স্পিনার রবীন্দ্র জাডেজা। দু’জনেই নিয়েছেন ১৩ উইকেট। আর দুই টেস্ট খেলে ১১ উইকেট নিয়েছেন উমেশ যাদব। রাঁচীতে অভিষেককারী শাহবাজ নাদিমের চার উইকেট ধরে ভারতীয় স্পিনাররা মোট নিয়েছেন ৩২ উইকেট। কিন্তু চমকে দিয়েছেন পেসাররা।

কোহালির মতে, “স্পিন বরাবরই আমাদের শক্তি ছিল। ব্যাটিং কখনই সমস্যা ছিল না। আমাদের একমাত্র অভিজ্ঞ বোলার হল ইশান্ত শর্মা।” ভারতীয় বোলারদের প্রশংসা করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ দু’প্লেসি। তিনি বলেছেন, “ভারতীয় পেসারদের ধরনটাই হল স্কিডি। ওরা সঠিক জায়গায় বল রেখেছ। উইকেটে নিশানা রেখেছে। এই ব্যাপারগুলোই আমরা ভারতে আসার আগে আলোচনা করেছিলাম। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার পিচে লেংথ একটু শর্ট করতেই হয়। সেটাকে অ্যাডজাস্ট করতে সময় লাগে।”

আরও পড়ুন: ১১ দাবি শাকিবদের, না মানলে ধর্মঘটের ডাক, অনিশ্চিত ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ