Advertisement
E-Paper

কোচ-ক্যাপ্টেন যুগলবন্দি এখন তাতাচ্ছে সুদীপদের

কোচ ফ্র্যাঙ্ক টাইসন চাইলেও সে দিন বিসিএ-র ক্যাম্পে ২০ মিটারও দৌড়তে পারেননি।কী করে দৌড়বেন? এক বছর আগেই যে ছেলেটা প্রাণঘাতি সড়ক দুর্ঘটনার পর কোমায় চলে গিয়েছিল, সে এক বছরের মাথায় গোটা মাঠ দৌড়বেই বা কী করে?

রাজীব ঘোষ

শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০২:৫৭

কোচ ফ্র্যাঙ্ক টাইসন চাইলেও সে দিন বিসিএ-র ক্যাম্পে ২০ মিটারও দৌড়তে পারেননি।

কী করে দৌড়বেন? এক বছর আগেই যে ছেলেটা প্রাণঘাতি সড়ক দুর্ঘটনার পর কোমায় চলে গিয়েছিল, সে এক বছরের মাথায় গোটা মাঠ দৌড়বেই বা কী করে?

তবু তিনি দৌড়েছিলেন। মাস দুয়েক পর। দৈনিক আট-ন’ঘন্টার দাঁতে দাঁত চাপা লড়াইয়ের পর ক্রিকেট মাঠে ফিরে। আর তার এক বছর পর রঞ্জি ট্রফিতেও।

সাইরাজ বাহুতুলের জীবনের এই ওঠাপড়া সবই তো মুম্বইয়ে।

এই মুম্বইয়েই তাঁর ক্রিকেটার হয়ে ওঠা। এই মুম্বইয়েই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ফাঁড়া (যে ফাঁড়ায় কোল ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল গজল গাইয়ে দম্পতি জগজিত ও চিত্রা সিংহর)। আর এই মুম্বইয়েই অক্লান্ত লড়াই করে কোমা থেকে ফেরা সাইরাজের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন।

অথচ সেই মুম্বইয়ের ক্রিকেট কর্তাদের থেকে এমন অবহেলা পেলেন যে অভিমানে বাংলার দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্তই নিয়ে ফেলেন।

সেই বাংলা দল নিয়েই আজ রঞ্জি কোয়ার্টার ফাইনালে নামছেন সাইরাজ বাহুতুলে। সেই মুম্বইয়েই। যদিও প্রতিপক্ষ মুম্বই নয়, মধ্যপ্রদেশ। কিন্তু মুম্বই ক্রিকেটমহলের সামনে তো।

একরাশ অভিমান নিয়ে? সঙ্গে প্রতিশোধের শপথ? ‘‘পরিস্থিতিটা বড় অদ্ভুত। নিজের শহরের চেনা মাঠে যে বাংলার মতো একটা দলকে নিয়ে রঞ্জি কোয়ার্টার ফাইনালে নামব কোচ হিসেবে, আমি সত্যিই ভাবিনি কখনও,’’ মঙ্গলবার ব্রেবোর্ন স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমের সামনে বসে বলছিলেন বাংলার কোচ। এ বার ব্রেবোর্নে নামার পর থেকেই যাঁর মনে হচ্ছে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’। ‘‘তবে অভিমান-টভিমান আর কিছু নেই এখন। যা হয়ে গিয়েছে, হয়ে গিয়েছে। আর যদি কিছু প্রমাণ করার থাকে, তা হলে তা নিজের কাছে। অন্য কারও কাছে নয়।’’

ইনি যদি হন অভিমন্যু ঈশ্বরন, সুদীপ চট্টোপাধ্যায়, আমির গনিদের কাছে প্রেরণার খনি, তা হলে সে রকম আরও একজন রয়েছেন তাঁদের সামনে। তিনি ক্যাপ্টেন মনোজ তিওয়ারি। যিনি পুরো সুস্থ না হতে পারলেও কথা দিয়ে দিলেন, বাংলার রঞ্জি যুদ্ধ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন না। ব্রেবোর্নের সবুজ উইকেটের দিকে তাকিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে বললেন, ‘‘জানি আমি এখনও একশো শতাংশ ফিট নই। কিন্তু কী করব? এই ম্যাচে আমাকে নামতেই হবে। ব্যথা কমানোর ইঞ্জেকশন বা ওষুধ নিয়ে নামতেও রাজি।’’

জাতীয় টি-টোয়েন্টি চলাকালীন পায়ের পেশিতে চোট পাওয়ার পর সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো লড়াকু মানুষও মনোজের অবস্থা দেখে বলে দিয়েছিলেন, ‘‘ওর খেলার সম্ভাবনা ৪০-৬০।’’ তার পর মনোজ এনসিএ-তে গিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন ফিজিও অ্যান্ড্রু লিপাসের তত্ত্বাবধানে ও বোর্ডের ডাক্তার ডিন শয়ের চিকিৎসায় নিজেকে যতটা পেরেছেন ফিট করে তুলেছেন ঠিকই। কিন্তু এখন কী অবস্থা? মনোজ নিজেই বললেন, ‘‘জগিংয়ে সমস্যা নেই। কিন্তু তার বেশি চাপ দিলে কী হবে জানি না। দরকার হলে বেশি ঝুঁকি নিয়ে সিঙ্গলস নেব না।’’ এ ভাবেই পাঁচ দিন খেলা চালিয়ে যাওয়ার ভাবনা ভেবে রেখেছেন বাংলার অধিনায়ক। সবুজ উইকেটে মধ্যপ্রদেশের টিম ইন্ডিয়ার বোলার ঈশ্বর পাণ্ডে ও চলতি রঞ্জিতে ৪৬ উইকেট পাওয়া জলজ সাক্সেনার মোকাবিলা করতে গেলে তো মনোজের মতো ব্যাটসম্যানকে ক্রিজে দাঁড়াতেই হবে।

এত দিন লক্ষ্মীরতন শুক্ল ছিলেন বাংলার তরুণ ক্রিকেটারদের কাছে বড় প্রেরণা। বাংলার ক্রিকেট থেকে লক্ষ্মীবিদায়ের পর এটাই প্রথম রঞ্জি ম্যাচ মনোজদের। তবে ভাগ্য ভাল যে, লক্ষ্মী না থাকলেও প্রেরণা রয়েছে। সঙ্গে রয়েছে লক্ষ্মীহীন বাংলাকে জেতানোর চ্যালেঞ্জও। যে লক্ষ্মী নিজের অবসরের জন্য কাঠগড়ায় তুলেছিলেন এই বাহুতুলেকেই। লক্ষ্মীহীন বাংলাকে সেমিফাইনালে না তুলতে পারলে তো আবার উঠতে শুরু করবে নানা কথা। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে অবশ্য নীরব ক্যাপ্টেন, কোচ। তবে শপথটা নিয়ে রাখছেন। বাংলাকে সেমিফাইনালে তোলার শপথ। মনোজের বক্তব্য, ‘‘এ বার আমাদের ধারাবাহিকতা যে রকম, তাতে আমাদেরই জেতা উচিত।’’

তবে মঙ্গলবার রাতে মনোজরা একটা ধন্দ নিয়ে শুতে গেলেন বলে শোনা গেল। ব্রেবোর্নের বাইশ গজ যা সবুজ, তা বুধবারও থাকলে তিন বিশেষজ্ঞ পেসারে নামবে কি না, সেই ধন্দ। উইকেটে শেষ দু’দিন বল ঘুরবে বলে ধারণা শিবিরের। তাই দুই স্পিনার চাই। কিন্তু সঙ্গে তিন পেসার নিলে একজন বাড়তি ব্যাটসম্যান নেওয়া কঠিন। সে ক্ষেত্রে সায়নশেখরকে দিয়ে লক্ষ্মীর কাজটা করানো হবে? মানে তৃতীয় সিমারের রোলটা।

এ ছাড়া আর সব ধাঁধার উত্তরই পাওয়া হয়ে গিয়েছে বাংলার। তবে লক্ষ্মী থাকলে বোধহয় এই উত্তরটাও পাওয়া হয়ে যেত এতক্ষণে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy