Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৯ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

Lionel Messi: যে কোপা খেলা ছাড়িয়েছিল, সেই মঞ্চে স্বপ্নপূরণ লিয়ো মেসির

শান্তনু ঘোষ
কলকাতা ১১ জুলাই ২০২১ ০৯:০৯
প্রথম বার আন্তর্জাতিক ট্রফিতে চুম্বন।

প্রথম বার আন্তর্জাতিক ট্রফিতে চুম্বন।
ছবি: রয়টার্স

সাল ২০১৬। চিলির বিরুদ্ধে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হার লিয়োনেল মেসির আর্জেন্টিনার। চরম হতাশায় রাজপুত্র ঘোষণা করলেন দেশের হয়ে আর ফুটবল খেলবেন না। অবাক বিশ্ব ফুটবল। হতাশ সমর্থকরা।

সাল ২০২১। ব্রাজিলকে তাদের ঘরের মাঠে হারিয়ে ট্রফি জিতল লিয়োনেল মেসির আর্জেন্টিনা। বহু ইতিহাসের সাক্ষী মারাকানা স্টেডিয়াম। আবারও এক ইতিহাস। এক শাপমুক্তি। আবেগে ভাসল ফুটবল বিশ্ব। আনন্দে মাতোয়ারা সমর্থকরা।

রবিবার ভোরে (স্থানীয় সময় শনিবার) দুই দল যখন জাতীয় সঙ্গীতের জন্য দাঁড়িয়ে, মেসির মুখ দেখে বোঝার উপায় নেই কী চলছে তাঁর মনে। জাতীয় সঙ্গীত শুরু হওয়ার আগে একে অপরের কাঁধে হাত রেখে আরও কাছাকাছি চলে এলেন মেসিরা। গাইতে শুরু করলেন জাতীয় সঙ্গীত। প্রথম আবেগ ফুটে উঠল মেসির মুখে। দেশের জন্য ট্রফি জিততে মরিয়া মনে হল তাঁকে।

Advertisement

খেলার শুরু থেকেই মেসিকে আটকে রেখেছিলেন ব্রাজিলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা। তাঁর পায়ে বল গেলেই তিন-চার জন ঘিরে ধরেছেন তাঁকে। বার বার আটকে যেতে দেখা গিয়েছে মেসিকে।

৩২ মিনিটের মাথায় ব্রাজিলের ডিফেন্ডার মারকুইনাসকে আড়াল করে একটা শট নিয়েছিলেন মেসি। তবে তা গোলের মধ্যে রাখতে পারেননি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার মুখে জিয়োভানি লো সেলসোকে সঙ্গে নিয়ে ব্রাজিলের বক্সে সুযোগ তৈরি করছিলেন মেসি। তবে আটকে দেন মারকুইনাস।

৬১ মিনিটের মাথায় ফ্রি কিক থেকে ক্রস তুলেছিলেন মেসি। তা থেকে কোনও বিপদ তৈরি হয়নি। ৬৫ মিনিটের মাথায় ফের সুযোগ আসে। মারকুইউনাসের ভুলে বল পেয়ে গিয়েছিলেন মেসি। পাশে ছিলেন ফাইনালের এক মাত্র গোলদাতা অ্যাঙ্খেল দি মারিয়া। কিন্তু তাঁকে বল বাড়াতে পারেননি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। সেই ফাঁকটাই দেননি ব্রাজিলের ডিফেন্ডাররা।

পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন মেসি।

পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন মেসি।
ছবি: রয়টার্স


গোটা ম্যাচে বার বার আটকে যাওয়া মেসি ৮৯ মিনিটের মাথায় ব্রাজিলের গোলরক্ষক এডেরসন মোরায়েজকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন। তাও গোল করতে পারেননি। ম্যাচের সব চেয়ে সহজ সুযোগ বোধ হয় সেটাই ছিল। রড্রিগো ডি পলের বাড়ানো বল পেয়ে গিয়েছিলেন মেসি। গতিতে ব্রাজিল রক্ষণকে ভেঙে গোলের ছয় গজের মধ্যে চলে আসেন তিনি। সামনে একা এডেরসন। কিন্তু তাঁর শটে কোনও জোর ছিল না। সহজেই বল আটকে দেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক।

ফাইনাল ম্যাচে সেই ভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি এ বারের কোপায় ৭ ম্যাচে ৪ গোল করা মেসি। তবে খেলা শেষের বাঁশি বাজতেই আর্জেন্টিনা যেন মেসিময়। জাতীয় সঙ্গীতের আগে এক হয়ে উঠেছিলেন মেসিরা। ম্যাচ শেষে মেসিকে মাথার ওপর তুলে লোফালুফি বুঝিয়ে দিল সতীর্থরাও মেসির হাতে ট্রফি দেখার জন্য কতটা মরিয়া ছিলেন।

১৯৯৩ সালের পর ট্রফি জয়।

১৯৯৩ সালের পর ট্রফি জয়।
ছবি: রয়টার্স


২০১৬ সালের ইউরো কাপ জিতেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। সে বারের ফাইনালে চোটের জন্য পুরো ম্যাচ খেলতে পারেননি। সতীর্থরা ট্রফি এনে দিয়েছিলেন তাঁকে। আন্তর্জাতিক ট্রফি ছুঁয়েছিলেন রোনাল্ডো। পাঁচ বছর পর দি মারিয়ার গোল, ট্রফি এনে দিল মেসিকে। আন্তর্জাতিক ট্রফি ছুঁলেন মেসি।

১৯৯৩ সালের পর ফের কোপা জয় আর্জেন্টিনার। ২৮ বছর পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে ট্রফি জয়। সেই শাপমুক্তি ঘটল মেসির হাত ধরেই। দিয়েগো মারাদোনার সঙ্গে তুলনা করে ‘মেসিদোনা’ বলে ডাকা হয় আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে। আন্তর্জাতিক ট্রফি নেই বলে নিন্দুকদের সমালোচনা শুনতে হয়েছে বার বার। সেই সব কিছুর জবাব ২০২১ সালের কোপা। ম্যাচ শেষে শিশুর মতো হাসি মেসির মুখে। সব চেয়ে প্রিয় উপহারটা ছোঁয়ার আনন্দ তাঁর মুখে।


আরও পড়ুন

Advertisement