গত বছর যেখানে শেষ করেছিল, সেখান থেকেই নতুন আইপিএল শুরু করল বেঙ্গালুরু। শনিবার প্রথম ম্যাচে হায়দরাবাদকে ৬ উইকেটে হারিয়ে দিল তারা। প্রথমে ব্যাট করে হায়দরাবাদ তোলে ২০১/৯। জবাবে ৪ উইকেট হারিয়েই জয়ের রান তুলে দেয় বেঙ্গালুরু। দেবদত্ত পাড়িক্কল এবং বিরাট কোহলি অর্ধশতরান করলেন। অধিনায়ক রজত পাটীদারের ইনিংস ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হয়ে থাকল। জলে গেল ঈশান কিশনের ৮০ রানের ইনিংস।
হায়দরাবাদের তোলা ২০১ রান তাড়া করতে নেমে দু’টি চার মেরে শুরুটা ভালই করেছিলেন ফিল সল্ট (৯)। তবে দ্বিতীয় ওভারেই আউট হন তিনি। তিনে নামেন ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ পাড়িক্কল। প্রথম বলেই জয়দেব উনাদকাটকে ছয় মেরে শুরু করেন। তখনই বোঝা গিয়েছিল কী রকম মেজাজে রয়েছেন। এর পর নীতীশ রেড্ডি, ডেভিড পেন, হর্ষ দুবে, এশান মালিঙ্গা— কাউকেই ছাড়েননি কর্নাটকের ব্যাটার। ২১ বলে অর্ধশতরান করেন। ৮.১ ওভারেই ১০০ পেরিয়ে যায় বেঙ্গালুরু।
চারে নামেন পাটীদার। তিনি পাড়িক্কলের থেকেও আগ্রাসী খেলতে থাকেন। বেঙ্গালুরু অধিনায়কের ১২ বলে ৩১ রানের ইনিংসে রয়েছে দু’টি চার এবং তিনটি ছয়। দুই ব্যাটারকেই যতটা সম্ভব বেশি বল খেলতে দিয়েছেন কোহলি। তার মাঝে নিজেও যথেষ্ট চালিয়ে খেলেছেন। পাটীদার এবং জিতেশ শর্মা (০) পর পর দু’বলে ফিরে যান। এর পর দলের দায়িত্ব নেন কোহলি।
গত বছর আইপিএলের ফাইনাল খেলার পর আর কোনও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেননি কোহলি। ১০ মাস পর ফিরেছিলেন ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে। এক বারের জন্যও মনে হয়নি তিনি আর টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে খেলেন না। কোহলির প্রতিটি স্ট্রোকে ছিল আত্মবিশ্বাস। এক বার তাঁর ক্যাচ পড়েছে। এ ছাড়া সুযোগই দেননি বিপক্ষকে।
অর্ধশতরান পূরণ করার পর আর বেশি সময় নেননি ম্যাচ শেষ করতে। ১৬তম ওভারে হর্ষল পটেলকে একটি ছয় এবং তিনটি চার মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন। ২৬ বল বাকি থাকতেই জেতে বেঙ্গালুরু।
তার আগে ব্যাট করতে নেমে ঝড় তোলেন ঈশান কিশন। গোটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি ছন্দে ছিলেন। সেখান থেকেই শুরু করেন। আইপিএলের প্রথম ম্যাচে ৮০ রানের ইনিংস এল তাঁর ব্যাট থেকে। অধিনায়কত্ব পেয়েও তাঁর প্রভাব পড়েনি ঈশানের ব্যাটিংয়ে। তবে অভিষেক শর্মা আবারও ব্যর্থ হলেন।
ট্রেভিস হেড এবং অভিষেকের জুটি গত দু’টি মরসুম ধরেই ঝোড়ো গতিতে রান তোলার জন্য বিখ্যাত হয়েছে। তবে এই আইপিএলের প্রথম ম্যাচে দু’জনেই ব্যর্থ। অভিষেককে শুরু থেকেই নড়বড়ে লাগছিল। জেকব ডাফির প্রথম ওভারে তিনি ভাল খেলতে পারেননি। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই আউট হন তিনি। ডাফির বলে পুল করতে গিয়েছিলেন। ব্যাটের কানায় লেগে বল উঠে যায়। ক্যাচ ধরেন জিতেশ শর্মা।
ফিরে যান হেডও। তিনি দু’টি চার মেরে শুরু করেছিলেন ভালই। তবে ডাফির ওই ওভারেই ফিরে যান তিনি। সফল হননি নীতীশ রেড্ডিও (৯)। এই অবস্থায় হাইনরিখ ক্লাসেনের সঙ্গে জুটি বেধে হায়দরাবাদের হাল ধরেন ঈশান। যে বেঙ্গালুরুর বোলিংকে ভয়ঙ্কর মনে হচ্ছিল তাকেই পাড়ার স্তরে নামিয়ে আনেন তিনি।
আরও পড়ুন:
চতুর্থ উইকেটে ৯৭ রানের জুটি হয় এই দুই ব্যাটারের। ক্লাসেন বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। এই ম্যাচে দেখালেন, তাঁর আগ্রাসন একটুও কমেনি। দু’টি চার এবং একটি ছয়ের সাহায্যে ২২ বলে ৩১ করেন তিনি। এই জুটিতে তিনি ঈশানকেই বেশি খেলতে দিয়েছেন। তবে আউট হলেন বিতর্কিত ভাবে। রোমারিয়ো শেফার্ডের বল তুলে মেরেছিলেন। বাউন্ডারির ধারে ক্যাচ নেন সল্ট। ক্যাচ ধরার সময় সল্টের পা বাউন্ডারির দড়িতে লেগেছে কি না তা নিয়ে দীর্ঘ রিপ্লে চলে। শেষ পর্যন্ত আম্পায়ার আউট দেন ক্লাসেনকে। প্রোটিয়া ব্যাটার তা বিশ্বাসই করতে পারেননি।
ঈশানকে দেখে মনে হচ্ছিল তাঁর ব্যাট থেকে শতরান আসতে চলেছে। কিন্তু সল্টের আর একটি ভাল ক্যাচে আউট হন তিনি। অভিনন্দন সিংহের ফুলটস বলে মেরেছিলেন পয়েন্টের দিকে। ঝাঁপিয়ে পড়ে এক হাতে দুরন্ত ক্যাচ নেন সল্ট। নিয়মিত উইকেট হারালেও হায়দরাবাদ ২০০ পেরোয় অনিকেত বর্মার সৌজন্যে। সাতে নেমে তিনি ১৮ বলে ঝোড়ো ৪৩ রান করে যান। মারেন তিনটি চার এবং চারটি ছয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। গত বছর প্রয়াত ১১ সমর্থকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বার হয়নি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
- এখনও পর্যন্ত আইপিএলের গ্রুপ পর্বের ৭০টি ম্যাচের সূচি ঘোষণা হয়েছে। প্রথমে ২০টি ম্যাচের সূচি জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পরে বাকি ৫০টি ম্যাচেরও সূচি ঘোষণা করেছে তারা। তবে প্লে-অফের সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
- আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি, পাঁচ বার করে ট্রফি জিতেছে চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতা নাইট রাইডার্স জিতেছে তিন বার। গত বছর প্রথম বার ট্রফি জিতেছিল বেঙ্গালুরু।
-
২৩:৪৭
এক পায়েই ভাই হার্দিকের দলকে হারালেন ক্রুণাল! কোহলির ‘গোল্ডেন ডাক’, তবু মুম্বইকে রুদ্ধশ্বাস শেষ ওভারে হারাল বেঙ্গালুরু -
১৫:১১
তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ, লখনউ ম্যাচের আগে সমর্থকদের বার্তা চেন্নাইয়ের, জানিয়ে দেওয়া হল কী কী আনা যাবে না -
টানা চার জয় গুজরাতের, রাজস্থানের জোড়া হার! বৈভবদের হারিয়ে পাঁচ থেকে এক লাফে দুইয়ে শুভমনেরা
-
জয়পুরে স্টেডিয়ামের ফ্লাড লাইটের প্রশংসা করলেও খুশি নন সাঙ্গাকারা! ক্যাচ পড়ার জন্য আলোর নতুন ব্যবস্থাকে দুষলেন রাজস্থান কোচ
-
বৈভব নাকি এক বছরের চমক! শুনেই নড়েচড়ে বসে রাজস্থান, সূর্যবংশীকে পরিণত করার চ্যালেঞ্জ নেন দলেরই এক জন