টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের অন্যতম ভরসা হার্দিক পাণ্ড্য। ব্যাট এবং বল হাতে প্রতি ম্যাচেই ভরসা দিচ্ছেন সূর্যকুমার যাদবের দলকে। বিশ্বকাপের মাঝে এক সাক্ষাৎকারে হার্দিক বলেছেন, ১০ বছর আগে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচ বদলে দিয়েছে তাঁর ক্রিকেটজীবন।
২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শেষ ওভারে বল হাতে জয় এনে দিয়েছিলেন হার্দিক। শেষ ওভারে ১১ রান তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের পারফরম্যান্স তাঁকে প্রচারের আলোয় নিয়ে এসেছিল। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে হার্দিক বলেছেন, ‘‘আমার মনে হয় কিছু কঠিন মুহূর্ত আমাকে পরিণত করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটজীবনের প্রথম দিকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের সামনে পড়েছিলাম। ঠান্ডা মাথায় সেগুলো সামলাতে হয়েছিল। নিজের উপর আস্থা রাখতে হয়েছিল। আত্মবিশ্বাস বজায় রাখতে হয়েছিল। শিখেছিলাম, এক শতাংশ সুযোগ থাকলেও চেষ্টা করতে হবে। ম্যাচের শেষ বল না হওয়া পর্যন্ত খেলা শেষ হয় না।’’
এ প্রসঙ্গে ২০১৬ সালের বাংলাদেশ ম্যাচের উদাহরণ দিয়ে হার্দিক বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচটার কথা বলতে পারি। খেলা শেষ হওয়ার এক বল আগে বাংলাদেশের ব্যাটার এমন ভাবে উচ্ছ্বাস করতে শুরু করেছিল, মনে হচ্ছিল ওরা জিতেই গিয়েছে। আমার সামনেই লাফালাফি করছিল। সব কিছু একদম আমার চোখের সামনে হচ্ছিল। তার পরের ঘটনা সকলে জানেন। এই ধরনের চ্যালেঞ্জগুলোই আমাকে আজকের হার্দিক পাণ্ড্য করেছে। এমন বেশ কিছু মুহূর্ত রয়েছে। যেগুলো মনে থেকে যায়। শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করতে উৎসাহ দেয়।’’
এখনও প্রতি দিন শেখার চেষ্টা করেন হার্দিক। নিজেকে ক্রিকেটার হিসাবে উন্নত করার চেষ্টা করেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সম্প্রচারকারী সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘‘আমি এখনও ক্রিকেটের ছাত্র। এখনও শেখার আগ্রহ রয়েছে। বোলার হিসাবে আরও দক্ষ হয়ে ওঠার চেষ্টা করি। বোলিং নিয়ে আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল না কখনও। তবে ব্যাটিংই আমার বেশি প্রিয়। গত আইপিএলের পর বুঝতে পারি, এখনও দু’বিভাগেই নিজের সেরাটা দিতে পারি। আমার ব্যাটিং দক্ষতার হয়তো ৪০ শতাংশ ব্যবহার করতে পেরেছি এত দিনে। স্বীকার করতে অসুবিধা নেই, এখনও সবটা পারিনি। ক্রিকেটার হিসাবে যতটা পরিশ্রম করি, যতটা শিখেছি, যতটা আশা করি, সে সবের ৪০ শতাংশের বেশি পারিনি। একটা সময় মনে হত, কী ভাবে নিজের সবটা দিতে পারব। নিজের খেলা নিয়ে ভাবতাম। সে সময় আমার জীবনে মাহিকা আসে। ও আমার মধ্যে খুদে ক্রিকেটারটাকে আবার জাগিয়ে তুলেছে।’’
আরও পড়ুন:
কী ভাবে চেষ্টা করছেন এখন? হার্দিক বলেছেন, ‘‘কঠোর পরিশ্রম করতে শুরু করি। দিনে ছয়-সাত ঘণ্টা অনুশীলন শুরু করি। ব্যাটিং, বোলিং অনুশীলন বাড়িয়ে দিয়েছি। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে থাকার সময়, রোজ দুপুর ৩.৩০টে মাঠে যেতাম। রাত ১২.৩০ পর্যন্ত অনুশীলন করতাম। আমি রোজ আলো নিভিয়ে মাঠ ছাড়তাম। নিজের ক্রিকেটীয় দক্ষতার সবটা প্রকাশ করতে চাই।’’
২০২৪ সালে নাতাশা স্তানকোভিচের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মাহিকা শর্মার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন হার্দিক। তাঁর উৎসাহে নিজেকে আবার ক্রিকেটের জন্য উজাড় করে দিতে চান হার্দিক।