জুন মাসে ইংল্যান্ডের মাটিতে মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার প্রস্তুতি শুরু করে দিল ভারতীয় দল। সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ২১ রানে জিতল তারা। ডাকওয়ার্থ লুইস নিয়মে বেথ মুনি, অ্যাশলি গার্ডনারদের হারিয়েছেন হরমনপ্রীত কৌর, স্মৃতি মন্ধানারা। প্রথমে ব্যাট করে ১৮ ওভারে ১৩৩ রানে অল আউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। বল হাতে দাপট দেখালেন অরুন্ধতী রেড্ডি। বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ডাকওয়ার্থ লুইস নিয়মে এগিয়ে ছিল ভারত। শেষ পর্যন্ত সেটাই জয়ের ব্যবধান হয়ে দাঁড়ায়।
টস জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেন হরমনপ্রীত। তাঁর সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণিত করেন ভারতের বোলারেরা। অস্ট্রেলিয়া শুরুতে হাত খুলে খেললেও পাওয়ার প্লে-র মধ্যে দুই উইকেট হারায়। প্রথম ধাক্কা দেন রেণুকা সিংহ ঠাকুর। বেথ মুনিকে ৫ রানের মাথায় ফেরান তিনি। পরের ওভারে জর্জিয়া ভল (১৮) আউট হন ক্রান্তি গৌড়ের বলে।
তৃতীয় উইকেটে এলিস পেরি ও ফিবি লিচফিল্ডের মধ্যে জুটি হয়। ভাল খেলছিলেন তাঁরা। সেই জুটি ভাঙেন অরুন্ধতী। তাঁর বল মিড অনের উপর দিয়ে মারার চেষ্টা করেন পেরি। কিন্তু ব্যাটে-বলে হয়নি। বল হাওয়ায় ওঠে। পিছন দিকে বেশ খানিকটা দৌড়ে ডাইভ দিয়ে ক্যাচ ধরেন হরমনপ্রীত। ২০ রান করেন পেরি। পরের ওভারে অ্যাশলি গার্ডনারকে (৪) আউট করেন দীপ্তি শর্মা। তার পরের ওভারে লিচফিল্ডকে (২৬) আউট করেন অরুন্ধতী। তিন ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
জর্জিয়া ওয়্যারহ্যাম ও নিকোলা ক্যারে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস সামলান। তাঁদের ব্যাটে অস্ট্রেলিয়ার রান ১২০ পার হয়। ৩০ রানের মাথায় অরুন্ধতীর বলে ওয়্যারহ্যাম আউট হওয়ার পর ধস নামে অসি ব্যাটিংয়ে। ১২ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট হারায় তারা। ১৮ ওভারে ১৩৩ রানে অল আউট হয়ে যায় পুরো দল।
আরও পড়ুন:
ভারতীয় বোলারদের মধ্যে অরুন্ধতী ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। ২ করে উইকেট রেণুকা ও শ্রী চরণির দখলে। ১ করে উইকেট নিয়েছেন ক্রান্তি ও দীপ্তি।
১৩৪ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে হাত খোলা শুরু করেন শেফালি বর্মা। বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় রান বাড়িয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন তিনি। সেটা করতে গিয়ে ১১ বলে ২১ রানে আউট হন শেফালি। জেমাইম রদ্রিগেজ়ও নেমে তিন বলের মধ্যে দু’টি চার মারেন। ৫.১ ওভারে ভারতের রান ছিল ১ উইকেটে ৫০। ঠিক সেই সময়ে বৃষ্টি শুরু হয়। আর থামেনি। মন্ধানা ১৭ বলে ১৬ ও জেমাইমা ৩ বলে ৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। টি-টোয়েন্টিতে অন্তত পাঁচ ওভার না হলে খেলার ফয়সালা হয় না। ভারতের ইনিংসের ৫.১ ওভার হয়েছিল। সেই সময় ডাকওয়ার্থ লুইস নিয়মে ২১ রানে এগিয়ে ছিল তারা। আর খেলা শুরু না হওয়ায় সেই রানেই ম্যাচ জিতে সিরিজ়ে এগিয়ে গেল ভারত।