কোচের প্রশংসা পেয়েছেন সূর্যকুমার যাদব। ওয়াংখেড়েতে খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলেছেন তিনি। খেলেছেন ম্যাচ জেতানো ইনিংস। খেলা শেষে গৌতি জানিয়েছেন, এই ধরনের ইনিংস তিনি খুব কম দেখেছেন। সূর্য নিজের ইনিংসে খুশি হলেও দলের খেলায় খুব খুশি হতে পারছেন না। এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিতে চান তিনি।
চোখ খুলে গিয়েছে সূর্যদের
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছে। সেখানেই গম্ভীর ও সূর্যের কথা রয়েছে। খেলা শেষে সাজঘরে জয়ের কৃতিত্ব পুরোটাই সূর্যকে দিয়েছেন কোচ গম্ভীর। তিনি বলেন, “এত চাপের মধ্যে টি২০ ক্রিকেটে এমন ইনিংস খুব কম দেখেছি। সূর্য ব্যাটিংয়ের পাঠ দিয়েছে। আমার দেখা সেরা ইনিংসগুলোর মধ্যে উপরের দিকে থাকবে।” সতীর্থেরাও হাততালি দিয়ে সূর্যের ইনিংসের প্রশংসা করেন।
পরে সূর্য জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে চাপে পড়ায় কিছুটা হলেও সুবিধা হয়েছে তাঁদের। তিনি বলেন, “শুরুতেই একটু ধাক্কা খেয়েছি। ভাল হয়েছে যে, শুরুতেই এটা হয়েছে। আমাদের চোখ খুলে গিয়েছে। তবে ক্রিকেটে এমন ঘটনা হতেই পারে। আমি এই পরিস্থিতিতে অনেক ক্রিকেট খেলেছি। তাই জানতাম, শেষ পর্যন্ত খেলতে হবে।” উইকেট যে কঠিন ছিল তা মেনে নিয়েছেন সূর্য। পাশাপাশি ব্যাটারদের আরও দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হত বলে মনে করেন তিনি। সূর্য বলেন, “জানতাম, একটু কঠিন উইকেট। এই ধরনের উইকেটে খুব বেশি খেলিনি। কিন্তু উইকেটের দোহায় দিলে হবে না। আমাদের শিখতে হবে এই ধরনের উইকেটে কী ভাবে খেলতে হয়। এই ম্যাচ আমাদের অনেক শিক্ষা দিয়েছে।” এই শিক্ষা নিয়েই পরের ম্যাচে নামতে চান তিনি।
ভারতের ইনিংসে যখন পর পর উইকেট পড়ছে, তখনও প্রতিটি রানের পর চিৎকার করছিলেন দর্শকেরা। ওয়াংখেড়ের দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন অধিনায়ক। ভারতের অধিনায়ক হিসাবে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই ঘরের মাঠে নামতে পারায় খুশি তিনি। সূর্য বলেন, “এখনও বহু দর্শক মাঠ ছেড়ে যাননি। ওয়াংখেড়ের দর্শকেরা অন্য রকমের। ওঁরা সারা ক্ষণ আমাদের পাশে থাকেন। গলা ফাটান। আইপিএলেও দেখেছি। ভারতীয় দলের হয়ে খেলার সময়ও সেটাই দেখছি।”
আরও পড়ুন:
জয়ের কৃতিত্ব অর্শদীপের!
খেলা শেষে টিমবাসে করে হোটেলে ফেরার সময় অর্শদীপ ও সূর্যের কথোপকথনের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট হয়েছে। শেষ দিকে দু’জনের মধ্যে ১৪ বলে ২২ রানের জুটি হয়েছিল। তাতে সূর্য ১৬ ও অর্শদীপ ৪ রান করেছিলেন। সেই জুটির কথাই বলেছেন তাঁরা। অর্শদীপ প্রথমে সূর্যকে বলেন, “পাজি, দারুণ খেলেছ। আমাদের জুটি কেমন ছিল?” তা শুনে পিছনের আসনে বসে থাকা সূর্য বলেন, “দারুণ জুটি হয়েছে। উপভোগ করেছি। তোমার সঙ্গে খেলার সময় আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।” তার পরেই মজা করেন অর্শদীপ। তিনি বলেন, “আমার যোগদান একটু কম ছিল। কিন্তু গিয়েই আমি যে আক্রমণাত্মক মানসিকতা দেখিয়েছি, সেখানেই ওরা ভয় পেয়ে গিয়েছে।”
সূর্যও পিছিয়ে থাকেননি। তিনি বলেন, “না না তুমিই সব করেছ। গিয়ে যে চারটা মারলে ওখান থেকেই তো খেলা ঘুরে গেল। তোমার জন্যই জিতেছি।” মজার ছলেই অর্শদীপকে জয়ের কৃতিত্ব দিয়েছেন ভারত অধিনায়ক। তা শুনে পাল্টা অর্শদীপ বলেন, “আমার মনে হয়, ওরা ভেবেছে আমিই মারছি। তা হলে তুমি তো আরও মারবে। ওখানেই ওরা ভয় পেয়ে গেল।” অর্শদীপকে একটি প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন সূর্য। পরের ম্যাচ থেকে অর্শদীপ ব্যাটিং আক্রমণে এক ধাপ উপরে নামবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এই যোগ্যতা নাকি ছিনিয়ে নিয়েছেন ভারতের বাঁহাতি পেসার। এখন দেখার, পরের ম্যাচে দরকার পড়লে সূর্য নিজের প্রতিশ্রুতি রাখেন কি না।