শেষ পর্যন্ত কি চাপে পড়ে পিছু হটছে পাকিস্তান? বয়কট করেও কি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে হবে সলমন আলি আঘাদের? রবিবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও আইসিসির বৈঠকের বৈঠকের পর তেমনটাই দাবি করেছে একাধিক সূত্র। তাদের দাবি, বিভিন্ন দিক থেকে পাকিস্তানের উপর চাপ আসছে। এই পরিস্থিতিতে আইসিসির দাবি মেনে খেলতে রাজি হয়েছে তারা। তবে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বা সে দেশের সরকার সরকারি ভাবে কিছু ঘোষণা করেনি। কিছু জানায়নি আইসিসিও।
রবিবার লাহৌরে পাক বোর্ডের সঙ্গে বৈঠক করতে যান আইসিসির দুই প্রতিনিধি ইমরান খোয়াজা ও মুবাশির উসমানি। খোয়াজা আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের সহকারী। তাঁকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পাকিস্তান বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা চালাতে। পুরো বিষয়টির দিকে নজর রেখেছেন আইসিসির সিইও সংযোগ গুপ্ত। ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’ জানিয়েছে, সেই বৈঠক হয়েছে। সেখানেই পাকিস্তানের পিছু হটার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।
পাকিস্তান যে পিছু হটতে পারে তার ইঙ্গিত আগে পাওয়া গিয়েছিল। কারণ, পিসিবিই আইসিসিকে অনুরোধ করেছিল, বৈঠক করতে। অর্থাৎ, তারা এই বিষয়ে আলোচনা চেয়েছিল। ভারত-ম্যাচ বয়কটের বিষয়টি পুরোপুরি দেশের সরকারের ঘাড়ে চাপিয়েছে পাক বোর্ড। তারা এর মধ্যে নাক গলায়নি। কিন্তু তার পরেও আইসিসিকে বৈঠকের অনুরোধ করে পাক বোর্ড ইঙ্গিত দিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে তারা। পাক বোর্ড সূত্রেও জানা গিয়েছে, বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত ভারত-পাক ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ভারত-ম্যাচ বয়কটের বিষয় নিয়ে রবিবার জরুরি বৈঠক ডেকেছিল আইসিসি। সেখানে পাক বোর্ড ছাড়াও আইসিসির বাকি পূর্ণ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। যদিও এই বৈঠকের আগে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘জিয়ো নিউজ়’ জানিয়েছে, নকভির সঙ্গে বৈঠক করতে রবিবার সকালে লাহৌরে গিয়েছেন আমিনুল। পাকিস্তান থেকেই আইসিসির ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।
আরও পড়ুন:
ভারত-ম্যাচ বয়কটের কথা পাক সরকার জানালেও পিসিবি আনুষ্ঠানিক ভাবে বিষয়টি আইসিসিকে জানায়নি। ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ না খেললে পিসিবিকে শৃঙ্খলাভঙ্গের শাস্তি ছাড়াও আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নির্বাসিতও করা হতে পারে। আগেই নকভিদের বার্তা দেওয়া হয়েছে আইসিসির পক্ষ থেকে। তার পরও সুর নরম করা ইঙ্গিত আগে দেননি নকভিরা। এই পরিস্থিতিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারত-পাক ম্যাচের সাত দিন আগের আইসিসির বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাংলাদেশ ছাড়া আইসিসির পূর্ণ সদস্য অন্য কোনও দেশের সমর্থন পাকিস্তানের সঙ্গে নেই।
আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) বাদ দেওয়ার পর থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে একের পর জটিলতা চলছে। শনিবার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেলেও সমস্যা মেটেনি। মুস্তাফিজুর আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পর ভারতে এসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে আপত্তি জানায় বাংলাদেশ। ভারতের সে দেশের ক্রিকেটার, কর্তা, সাংবাদিক, সমর্থকদের নিরাপত্তার সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের। আইসিসিও সূচি পরিবর্তন করতে রাজি হয়নি শেষ মুহূর্তে। দফায় দফায় আলোচনার পরও জট খোলেনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পরিবর্তে দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে আইসিসি। তার পরেই পাকিস্তান সরকার জানিয়ে দেয়, তারা বিশ্বকাপ খেললেও ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না।
এই ঘোষণার পর থেকে পাকিস্তানের উপর বহু দিক থেকে চাপ আসছে। এই ম্যাচ না হলে সম্প্রচারকারী সংস্থা, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হবে। তাই তারা সরাসরি পাক বোর্ডের উপর চাপ দিচ্ছে। খেলা না হলে বাকি সব দেশের বোর্ডেরই আর্থিক ক্ষতি হবে। তাই তারাও চাইছে না এই ম্যাচ বয়কট হোক। এই চাপে হয়তো শেষ পর্যন্ত ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে রাজি হতে চলেছে পাকিস্তান। অন্তত আইসিসির বৈঠকের পর সেই সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।