Advertisement
E-Paper

বাসে সতীর্থের আসনে বসে রানে ফেরার কাহিনি অভিষেকের মুখে, বিশ্বকাপের আগে ‘রোগ’ সেরেছে ভারতের, মত ফিল্ডিং কোচের

নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে গুয়াহাটিতে ২০ বলে ৬৮ রান করেছেন অভিষেক শর্মা। এই ম্যাচের আগে টিমবাসে আসন বদলেছিলেন তিনি। সেই কাহিনি শোনালেন অভিষেক।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:২৪
cricket

অভিষেক শর্মা। —ফাইল চিত্র।

গুয়াহাটিতে নিউ জ়িল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। মাত্র ১০ ওভারে ১৫৪ রান তাড়া করে ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতেছে তারা। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে গুয়াহাটিতে ২০ বলে ৬৮ রান করেছেন অভিষেক শর্মা। এই ম্যাচের আগে টিমবাসে আসন বদলেছিলেন তিনি। সেই কাহিনি শোনালেন অভিষেক। খেলা জিতে দলের ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের মুখে ক্যাচ ফস্কানোর ‘রোগ’ সেরে যাওয়ার কথা।

আসন বদলে রানে ফেরা

বিসিসিআই একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে। সেখানে কথা বলছেন ভারতের দুই ক্রিকেটার অভিষেক ও অর্শদীপ সিংহ। প্রথমেই অর্শদীপ অভিষেককে জিজ্ঞাসা করেন, “দ্বিতীয় ম্যাচের আগে টিমবাসে যে আসনে বসেছিলে, এই ম্যাচের আগে সেখানে বসোনি। গল্পটা কী?”

জবাবে অভিষেক বলেন, “আমি টিমবাসে পিছন থেকে চার নম্বর আসনে বসি। বরুণ (চক্রবর্তী) সামনে থেকে আট নম্বর আসনে বসে। কিন্তু প্রতি ম্যাচে বাস বদলে যায়। এই ম্যাচের আগে যে বাসে এসেছি সেখানে একটা আসন কম ছিল। ফলে পিছন থেকে চার নম্বর ও সামনে থেকে আট নম্বর আসন একই ছিল। তখন বরুণ বলল, ‘তুই আমার আসনে বস। অর্ধশতরান করে আমার মতো (আঙুলের মাধ্যমে ভি দেখিয়ে) উল্লাস করিস।’ কিন্তু আমি ভুলে গিয়েছি।”

তিনি কখনওই আসন বদলাতে চান না বলে জানিয়েছেন অভিষেক। বাকিদেরও সেই পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের বাঁহাতি ওপেনার। অভিষেক বলেন, “আমি নিজের আসনেই বসার চেষ্টা করি। সকলকে বলব, নিজের আসনে বসো। বদলানোর চেষ্টা কোরো না। নিজের আসন আর খেলার ধরন কখনও বদলিয়ো না।”

ঈশান, সূর্যের প্রশংসায় অভিষেক

নিজে ঝোড়ো ইনিংস খেললেও দুই সতীর্থ ঈশান কিশন ও সূর্যকুমার যাদবের প্রশংসা শোনা গিয়েছে অভিষেকের মুখে। সঞ্জু স্যামসন আউট হওয়ার পরে জোড়া ছক্কা মেরে খেলার গতি বদলে দেন ঈশান। অভিষেক বলেন, “শুরুটা ঈশান করে দিয়েছিল। ও কয়েক দিন আগেই ঝাড়খণ্ডকে জিতিয়েছে। সেই ছন্দেই খেলছে। পরে সূর্য ভাই ঝোড়ো ইনিংস খেলেছে। আমাকে বলছিল, ‘তোর স্বাভাবিক খেলা খেল।’ কিন্তু সূর্য ভাইকে দেখে মনে হচ্ছিল, আরও তাড়াতাড়ি খেলা শেষ করে দেবে। আশা করছি, বিশ্বকাপেও আমরা এ ভাবেই খেলব।”

সেরেছে ক্যাচ ধরার ‘রোগ’

আগের দুই ম্যাচে ক্যাচ ফস্কেছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটারেরা। অধিনায়ক সূর্য জানিয়েছিলেন, ফিল্ডিং ভাল করতে হবে তাঁদের। তাঁরা পরিশ্রম করছেন। সেই পরিশ্রমের ফল দেখা গিয়েছে রবিবার। পাওয়ার প্লে-র মধ্যে দু’টি ভাল ক্যাচ ধরেছেন হার্দিক পাণ্ড্য ও রবি বিশ্নোই। হার্দিক বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ ধরেন। বিশ্নোইকেও অনেকটা দৌড়ে ক্যাচ ধরতে হয়। ক্যাচের ফলেই যে খেলার ছবি বদলে গিয়েছে তা মনে করেন অভিষেক। তিনি নিজেও গ্লেন ফিলিপ্সের ভাল ক্যাচ ধরেছেন। অভিষেক বলেন, “শুরুতে যে দু’তিনটে ক্যাচ ধরেছি সেখানেই খেলা বদলে গিয়েছে। পাওয়ার প্লে-তে এখানে অনেক রান হয়। কিন্তু ওই ক্যাচগুলোর ফলে খেলার রাশ আমাদের হাতে চলে আসে। আমিও প্রথমে ভেবেছিলাম ফিলিপ্সের ক্যাচ রিঙ্কু ধরবে। ও বলল, তোমার ক্যাচ। তখন দৌড়ে ধরলাম। ওই ক্যাচগুলো আমাদের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল।”

ক্যাচের প্রশংসা শোনা গিয়েছে ভারতের ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপের গলাতেও। বিসিসিআইয়ের দেওয়া আর একটি ভিডিয়োয় দিলীপ বলেন, “শুরুটা খুব ভাল হয়েছিল। আমরা শুরুতে উইকেট চেয়েছিলাম। হার্দিককে কিছুটা দৌড়াতে হয়েছে। ঠিক সময়ে ঝাঁপাতে হয়েছিল। ওকে দেখে মনে হয়েছে, খুব সহজে ক্যাচটা ধরেছে। কিন্তু অতটা সহজ ছিল না। হার্দিকের পরে বিশ্নোইও বাউন্ডারিতে দারুণ ক্যাচ ধরেছে।”

বিশ্নোই জানিয়েছেন, হার্দিকের ক্যাচ দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। ভারতীয় স্পিনার বলেন, “হার্দিক ভাই বেঞ্চমার্ক তৈরি করে দিয়েছিল। তার পর ক্যাচ ফস্কানোর জায়গা ছিল না। আমার ক্ষেত্রে বলটা খুব দ্রুত এসেছিল। আমাকে দ্রুত বলের কাছে যেতে হয়েছিল। সেটা করতে পেরেছি।”

ভারতের সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে জানিয়েছেন, বিশ্বকাপেও এই মানের ফিল্ডিং করার চেষ্টা করবেন তাঁরা। দুশখাতে বলেন, “পরের ছ’সপ্তাহে এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। প্রতিটা বলে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। হার্দিক এই ম্যাচে সেটা বুঝিয়ে দিয়েছে। ওর মতো সিনিয়র ক্রিকেটারকে এতটা পরিশ্রম করতে দেখে বাকিরাও উদ্বুদ্ধ হবে।”

India Cricket Abhishek Sharma
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy