Advertisement
E-Paper

মরণ-বাঁচন ম্যাচে বড় বদলের ইঙ্গিত ভারতীয় দলে, কোপ পড়তে চলেছে বাঁ হাতি ব্যাটারের উপর

জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে সুপার এইটের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ভারতের ব্যাটিং অর্ডারে বড় বদলের ইঙ্গিত দিলেন ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক। বৃহস্পতিবার প্রথম একাদশে কী বদল হতে পারে?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:১১
cricket

অনুশীলনে অভিষেক শর্মা। ছবি: পিটিআই।

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারতেই সমালোচনার তীর ধেয়ে এসেছে ভারতের ক্রিকেটারদের দিকে। ব্যাটারদের ব্যর্থতা, বোলারদের প্রভাব ফেলতে না পারা, সব দিক থেকেই সমালোচিত হচ্ছে দল। জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে সুপার এইটের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ভারতের ব্যাটিং অর্ডারে বড় বদলের ইঙ্গিত দিলেন ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক। বৃহস্পতিবার প্রথম একাদশে হয়তো সঞ্জু স্যামসনকে দেখা যেতে পারে। আরও কিছু বদল হলেও অবাক হওয়ার নেই।

শুরুতেই তিন বাঁ হাতি থাকায় বিপক্ষ দলগুলি অফস্পিনারকে এনে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে। গত তিনটি ম্যাচে একই জিনিস দেখা গিয়েছে। প্রথম ওভারেই উইকেট হারিয়েছে ভারত। এর সমাধান খুঁজতে মরিয়া দল।

কোটাক বলেছেন, “দলে বদল হতে পারে। আমরা এটা নিয়ে আলোচনা করেছি। দু’জন বাঁ হাতি ওপেনার রয়েছে দলে। তিনে যে ব্যাট করতে নামে সে-ও বাঁ হাতি। তাই বিপক্ষ অফস্পিনারদের দিয়ে চাপ তৈরি করছে। ব্যক্তিগত ভাবে আমার মনে হয় না কোনও সমস্যা রয়েছে। কিন্তু টানা তিনটে ম্যাচে কোনও দল উইকেট হারালে সেটা নিয়ে ভাবতেই হয়। তাই আমরাও ভাবছি এবং দেখছি সব কিছু কোন দিকে এগোয়। আসলে আমরা কখনওই এত আগে থেকে দল তৈরি করি না। এত আগে পরিকল্পনা বলার জায়গাও আসেনি। তবে আলোচনা হয়েছে এটা ঠিক।”

ঈশান কিশন বাদে প্রথম তিনের বাকি দুই ব্যাটারই ব্যর্থ। অভিষেকের অবদান চার ম্যাচে ১৫ রান। তিলক রান পেলেও এত ধীরে খেলছেন যে, দল সমস্যায় পড়ছে। সেটা নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাতে চাইলেন না কোটাক।

ব্যাটিং কোচ বলেছেন, “দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়ে ওরা ভালই খেলছিল। আগের ম্যাচটার পরেই চিন্তা শুরু হয়েছে। কারণ গত দেড় বছরে আমরা ধারাবাহিক ভাবে প্রতি ম্যাচে ১৫০-র বেশি রান তুলেছি। কে কত বার ব্যর্থ হয়েছে সেই হিসাব রাখতে চাই না। তাতে সেই ব্যাটারের উপর বাড়তি চাপ দেওয়া হবে। গত দু’বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ খেলেছি আগের ম্যাচে। তবে আমার মনে হয় এটা নিয়ে বেশি না ভেবে সামনের দিকে তাকানো উচিত।”

কোটাক আরও বলেছেন, “এই বিশ্বকাপে আমাদের ওপেনারেরা সে ভাবে খেলতে পারেনি। ঈশান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত খেলেছে ঠিকই, কিন্তু দু’-তিনটে ম্যাচে অভিষেক খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। তাতে ঠিক আছে। খুব বেশি চিন্তার কিছু নেই। আমি তো সামনের দিকে তাকাচ্ছি। প্রস্তুতি নিচ্ছি, নিজেদের মধ্যে কথা বলছি এবং বিপক্ষ ওদের দিকে কেমন বল করতে পারে তার পরিকল্পনা করছি। ওরা অফস্পিন করবেই। তাতে চিন্তার কিছু নেই। পরিকল্পনা থাকাই আসল।”

সমালোচনা হচ্ছে কোটাককে নিয়েও। ব্যাটারেরা ব্যর্থ হলেও ব্যাটিং কোচ হিসাবে তাঁর ভূমিকা কী, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কোটাক অবশ্য বলেছেন, “আমাদের মধ্যে কৌশলগত আলোচনা হয়। পরামর্শ দেওয়া আমাদের কোচ। গৌতম অনেকের সঙ্গে বিভিন্ন জিনিস নিয়ে কথা বলে। একটা জিনিস জানতে হবে, ক্রিকেটারেরা মাঠে খেলার সময় বাইরে থেকে দেখা খুব সহজ। আমরা খেয়াল রাখি কোন ব্যাটার কী করতে পারে। সেটা খাতায় লিখে রাখি এবং পরে তা নিয়ে ওদের সঙ্গে কথা বলি। এই আলোচনাগুলো হয় অনুশীলনের সময়। কোথাও একটা বসে কথাবার্তা বললেই হয় না।”

কোটাক মনে করেন, বিশ্বকাপ জিততে গেলে চাপ নেওয়া জানতেই হবে। তাঁর কথায়, “ভারতে বিশ্বকাপ হচ্ছে। তাই চাপ এবং প্রচুর প্রত্যাশা থাকবেই। আমি বিশ্বাস করি, যে কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচেই থাকে। বিশেষ করে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার চাপ মারাত্মক। তবে একটা ম্যাচ হেরেছি বলেই চাপের প্রসঙ্গ তোলার অর্থ নেই। দলে যারা রয়েছে তারা চাপ নিতে জানে। বিশ্বকাপ জিততে গেলে চাপ নিতেই হবে।”

ভারত যে আগ্রাসনের রাস্তা থেকে সরে আসবে না এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন কোটাক। বলেছেন, “আমরা একই ঘরানার ক্রিকেট খেলব। আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে এবং যে ঘরানার ক্রিকেট সাফল্য দিয়েছে তাতে বিশ্বাস রাখতে হবে। এ ভাবেই আমরা খেলি। তবে পিচ আলাদা হলে তার সঙ্গে মানিয়েও নিতে হবে। যেমনটা কলম্বোয় করেছি।”

India vs Zimbabwe Sitanshu Kotak Abhishek Sharma
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy