ছোটদের বিশ্বকাপের ফাইনালে চেনা মেজাজে দেখা গেল বৈভব সূর্যবংশীকে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৮০ বলে ১৭৫ রানের ইনিংস খেলেছে বিহারের ১৪ বছরের ব্যাটার। ১৫টি চার এবং ১৫টি ছয়ের সাহায্যে এই ইনিংসে একাধিক নজিরও গড়েছে বৈভব।
গোটা বিশ্বকাপে চেনা ফর্মে দেখা যায়নি বৈভবকে। ১৪ বছরের কিশোরকে নিয়ে খানিকটা চিন্তিত ছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ। সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৩৩ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল বৈভব। শুক্রবার ফাইনালে স্বমূর্তিতে দেখা গেল বৈভবকে। ইংল্যান্ডের বোলারদের দিশেহারা করে দিয়ে ২১৮.৭৫ স্ট্রাইক রেটে রান তুলেছে বৈভব। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টির মেজাজে ব্যাট করে বেশ কিছু নজিরও গড়েছে।
বৈভবের বয়স এখন ১৪। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ হয় দু’বছর অন্তর। বয়সের হিসাবে আরও দু’টি ছোটদের বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ রয়েছে তার। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নীতির ফলে আর ছোটদের বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাবে না বৈভব। দেশের বেশি সংখ্যক প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ এক জনকে এক বারই খেলতে দেয় বিসিসিআই। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ডিরেক্টর থাকার সময় এই নীতি নির্ধারণ করেছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। ফলেছোটদের বিশ্বকাপে শেষ ম্যাচ খেলল বৈভব (বিসিসিআই পরবর্তী সময় নীতি পরিবর্তন না করলে)। সেই ম্যাচেই একের পর এক নজির গড়ল সে।
ফাইনালে সর্বোচ্চ
ছোটদের বিশ্বকাপে রেকর্ড বৈভবের। ফাইনালে তার ১৭৫ রানের ইনিংস প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে কোনও ক্রিকেটার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে এত রান করতে পারেননি। আগে এই নজির ছিল ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার উন্মুক্ত চন্দের দখলে। তিনি ২০১২ সালের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১১১ রান করেন।
ফাইনালে দ্রুততম শতরান
ছোটদের বিশ্বকাপের ফাইনালে দ্রুততম শতরান করল বৈভব। তার ৫৫ বলে শতরান তৈরি করল নতুন নজির। এর আগে ফাইনালে দ্রুততম শতরানের নজির ছিল পাকিস্তানের কাসিম আক্রমের। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৬৩ রানে শতরান করেছিলেন তিনি।
দ্বিতীয় দ্রুততম শতরান
ছোটদের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় দ্রুততম শতরানের নজির গড়েছে বৈভব। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৮টি চার এবং ৮টি ছয়ের সাহায্যে ৫৫ বলে শতরান পূর্ণ করেছে ১৪ বছরের ব্যাটার। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দ্রুততম শতরানের তালিকায় বৈভবের এই ইনিংস থাকল দ্বিতীয় স্থানে। প্রথমে রয়েছে এ বছরই জাপানের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার উইল মালাজ়ুকের করা ৫১ বলে শতরান। ভারতীয়দের ক্ষেত্রে তার শতরানই দ্রুততম। ২০২২ সালে উগান্ডার বিরুদ্ধে রাজ বাওয়ার ৬৯ বলে শতরানের রেকর্ড ভেঙে দিল বৈভব।
তৃতীয় ভারতীয়
ভারতের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসাবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে শতরান করল বৈভব। এত দিন এই কৃতিত্ব ছিল মনজ্যোৎ কালরা এবং উন্মুক্তের।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ছক্কা
কোনও একটি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার নজির গড়ল বৈভব। এ বারের প্রতিযোগিতায় ৩০টি ছক্কা এসেছে তার ব্যাট থেকে। ১৪ বছরের ব্যাটার ভেঙে দিল দক্ষিণ আফ্রিকার ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের রেকর্ড। ২০২২ সালে ছোটদের বিশ্বকাপে ১৮টি ছয় মেরেছিলেন প্রোটিয়া ব্যাটার। উল্লেখ্য, ছোটদের বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার নজিরও এখন বৈভবের দখলে।
এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কা
ছোটদের এক দিনের ক্রিকেটের এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার নজিরও গড়ল কিশোর ক্রিকেটার। এত দিন এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছয় মারার নজির ছিল অস্ট্রেলিয়ার মাইকেল হিলের। ২০০৮ সালে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ১২টি ছয় মারেন। বৈভব ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৫টি ছক্কা মেরেছে।
চার-ছক্কায় ১৫০
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বৈভব ১৫টি চার এবং ১৫টি ছয় মেরেছে। অর্থাৎ চার এবং ছয় মিলিয়ে মোট ১৫০ রান করেছে হারারের ২২ গজে। এর আগে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে কোনও ক্রিকেটার এক ইনিংসে শুধু বাউন্ডারি থেকে এত রান করতে পারেননি। প্রথম ক্রিকেটার হিসাবে ছোটদের বিশ্বকাপে ১৫০ বা তার বেশি রানের ইনিংসও খেলল সে।
ছোটদের এক দিনের ক্রিকেটে ১০০ ছক্কা
বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার হিসাবে অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক এক দিনের ক্রিকেটে ১০০টি ছয় মারার নজির গড়েছে বৈভব। শুক্রবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই মাইলফলকে পৌঁছেছে বৈভব। এই ইনিংসের পর তার ছক্কার সংখ্যা ১১০। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের জ়াওয়াদ আবরার। অনূর্ধ্ব-১৯ এক দিনের ক্রিকেটে তার ছক্কার সংখ্যা ৫৫।
আরও পড়ুন:
ছোটদের এক দিনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান
অনূর্ধ্ব-১৯ এক দিনের ক্রিকেটে ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি ১৪১২ রান হল বৈভবের। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রাক্তন অধিনায়ক বিজয় জ়োলকে টপকে গেল বৈভব। তাঁর ১৪০৪ রান রয়েছে।
সবচেয়ে কম বয়সে শতরান
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সে শতরান করার নজির গড়ল বৈভব। ১৪ বছর ৩১৬ দিন বয়সে শতরান করল সে।