এখনও ধার কমেনি মহম্মদ শামির। এখনও বল কথা শোনে তাঁর। দীর্ঘ দিন জাতীয় দলে ডাক পান না তিনি। কিন্তু তাঁর বলের ধার যে এখনও কমেনি তা লখনউ সুপার জায়ান্টসের অনুশীলনে বুঝিয়ে দিলেন মহম্মদ শামি। তাঁর একের পর এক ইয়র্কারে ভাঙল স্টাম্প।
লখনউয়ের অনুশীলনের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, দু’টি স্টাম্প রেখে অনুশীলন করছেন শামি। আম্পায়ারের জায়গায় দাঁড়িয়ে পেস বোলিং কোচ ভরত অরুণ। জাতীয় দলে শামির সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছেন তিনি।
শামি দৌড়ে এসে একটি বল করলেন। অফ স্টাম্পের গোড়ায় পড়ল সেটি। পরের বলটি গিয়ে পড়ল লেগ স্টাম্পের গোড়়ায়। একটি বল দুই স্টাম্পের মাঝখান দিয়ে ঢুকল। অরুণের মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছিল, ছাত্রের এই বোলিং দেখে কতটা খুশি তিনি।
পরে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলার সময় আলাদা করে শামির প্রশংসা করেন সঞ্জীব গোয়েন্কার দলের কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার। শামির দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, “তোমার ইয়র্কারগুলো, ওই ইয়র্কারগুলো, শ্বাসরোধ করে দেয়।” সেই কথা শুনে দলের বাকিরা হাততালি দেন। শামির মুখে অবশ্য সে রকম কোনও অনুভূতি দেখা যায়নি। ভাবখানা এমন, এ রকম ইয়র্কার তিনি বহু করেছেন। তাই আলাদা করে উল্লাসের প্রয়োজন নেই।
২০২৩ সালের এক দিনের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েছিলেন শামি। তার পর চোটের জন্য কয়েক মাস মাঠের বাইরে ছিলেন। ফেরার পর ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেললেও শামির বোলিং নজর কাড়েনি প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর ও প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের। তাই তার পর থেকে ভারতীয় দলে ব্রাত্য শামি। তাঁকে কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও বাদ দিয়ে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। এই সিদ্ধান্ত থেকে ইঙ্গিত, আর ভারতীয় দলে দেখা যাবে না তাঁকে।
আরও পড়ুন:
শামি অবশ্য সে সব ভাবছেন না। তিনি বল করে যাচ্ছেন। বাংলার হয়ে রঞ্জিতে লাল বল হোক, বা মুস্তাক আলিতে সাদা বল, শামি সমান ভয়ঙ্কর। আইপিএলের নিলামের আগে সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদ থেকে ১০ কোটি টাকায় শামিকে নিয়েছে লখনউ। আবেশ খান, মায়াঙ্ক যাদবদের পেস বোলিংয়ের নেতৃত্ব যে শামিই দেবেন, তা পরিষ্কার।
২০১৩ সাল থেকে আইপিএল খেলছেন শামি। মাঝে ২০১৫ ও ২০২৪ সাল ছাড়া প্রতি বছর খেলেছেন তিনি। ১১৯ ম্যাচে নিয়েছেন ১৩৩ উইকেট। ১১ রান দিয়ে ৪ উইকেট তাঁর সেরা বোলিং। বয়স বেড়েছে। ফিটনেস হয়তো কিছুটা কমেছে। চোট পান ঘন ঘন। কিন্তু এখনও যে শামির বলের ধার কমেনি তা আরও এক বার দেখিয়ে দিলেন তিনি।