Advertisement
E-Paper

বিশ্বকাপে অঘটন ঘটতে ঘটতেও হল না, ইংল্যান্ডের নাভিশ্বাস তুলে দিল নেপাল, হারের মুখ থেকে ৪ রানে জয় দু’বারের বিশ্বজয়ীদের

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে ভারতের বিরুদ্ধে সুযোগ পেয়েও অঘটন ঘটাতে পারেনি আমেরিকা। সেই মাঠেই রবিবার আরও একটি অঘটনের সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। শেষ পর্যন্ত পারল না তারা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪৪
cricket

আউট হয়ে হতাশ নেপালের অধিনায়ক রোহিত পৌড়েল। ছবি: পিটিআই।

শেষ ওভারে দরকার ছিল ১০ রান। সকলে ভেবেছিলেন, এ বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম অঘটন ঘটিয়ে ফেলবে নেপাল। কিন্তু তীরে এসে তরী ডুবল। শেষ ওভারে দুর্দান্ত বল করলেন স্যাম কারেন। মাত্র ৫ রান দিলেন তিনি। ৪ রানে হারল নেপাল। হারলেও খাতায়-কলমে অনেক বেশি শক্তিশালী টি-টোয়েন্টিতে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের নাভিশ্বাস তুলে দিল তারা।

এ বারের বিশ্বকাপে প্রায় প্রতি ম্যাচেই বড় দলগুলিকে চাপে ফেলছে ছোট দলগুলি। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে ভারতের বিরুদ্ধে সুযোগ পেয়েও অঘটন ঘটাতে পারেনি আমেরিকা। সেই মাঠেই রবিবার আরও একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হল। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৪ রান করেছিল ইংল্যান্ড। হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচে নেপালের ইনিংস শেষ হল ৬ উইকেটে ১৮০ রানে। ৪ রানে জিতে কোনও রকমে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন হ্যারি ব্রুকেরা।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল হয়নি ইংল্যান্ডের। ১ রানে আউট হন ওপেনার ফিল সল্ট। তবে অপর ওপেনার জস বাটলার ও তিন নম্বরে নামা জেকব বেথেল বড় জুটি বাঁধেন। দ্রুত রান তোলেন তাঁরা। ১৭ বলে ২৬ রান করে আউট হন বাটলার। টম ব্যান্টন (২) রান পাননি। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকও প্রথম বলেই আউট হতে পারতেন। কিন্তু ভাগ্য সঙ্গে ছিল তাঁর। সুযোগ কাজে লাগান ব্রুক।

বেথেল ৩৫ বলে ৫৫ রান করে আউট হন। ব্রুক ৩২ বলে ৫২ রান করেন। তাঁরা আউট হওয়ার পর মনে হচ্ছিল, ১৬৫-১৭০ রান হবে। সেই রানকে ১৮৪ পর্যন্ত নিয়ে যান উইল জ্যাকস। ১৮ বলে অপরাজিত ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। শেষ বলে ছক্কা মারেন জ্যাকস। সেটিই তফাত গড়ে দেয়। নেপালের বোলারদের মধ্যে দীপেন্দ্র সিংহ ঐরি ও নন্দন যাদব ২ করে এবং শের মল্ল ও সন্দীপ লামিছানে ১ করে উইকেট নেন।

জবাবে রান তাড়া করতে নেমে আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করে নেপাল। বিশেষ করে ওপেনার কুশল ভুরতেল প্রথম ওভার থেকে হাত খোলেন। ইংরেজ পেসারদের বিরুদ্ধে ভাল খেলছিলেন তিনি। ১৭ বলে ২৯ রান করেন কুশল। অধিনায়ক রোহিত পৌড়েল ও ঐরি মিলে দলের ইনিংস সামলান। মাঝেমধ্যেই বড় শট খেলছিলেন তাঁরা। ইংল্যান্ডের বোলারদের চাপে ফেলে দেন তাঁরা।

ইংল্যান্ডকে খেলার ফেরান কারেন। ২৯ বলে ৪৪ রান করা ঐরিকে ফেরান তিনি। পরের ওভারেই ৩৪ বলে ৩৯ রান করে আউট হন রোহিত। মনে হচ্ছিল, আর আশা নেই নেপালের। কিন্তু লোকেশ বাম হাল ছাড়েননি। একার কাঁধে দলের রান টানতে থাকেন। একের পর এক বড় শট মারেন। কিন্তু অপর প্রান্তে কোনও ব্যাটার না থাকায় পুরো দায়িত্ব তাঁকে নিতে হয়। সেই কারণে, কয়েকটি বলে সুযোগ থাকলেও রান নিতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪ রানে হারতে হয়ে নেপালকে। ২০ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন লোকেশ।

এই ম্যাচ দেখতে ওয়াংখেড়েতে প্রচুর নেপালের সমর্থক এসেছিলেন। তাঁরা সারা ক্ষণ দলের জন্য গলা ফাটান। জয়ের কাছে পৌঁছে যাওয়ার পর তাঁদের উল্লাস চোখে পড়ছিল। কিন্তু তীরে এসে তরী ডুবল। ম্যাচ হারলেও তাঁরা দলের লড়াইয়ে খুশি। খেলা শেষে যে ভাবে হাততালি দিয়ে তাঁরা দলের ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর চেষ্টা করলেন, তাতে সেটাই বোঝা গেল।

T20 World Cup 2026 Nepal Cricket england cricket
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy