ধারাভাষ্য ছেড়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণন। তাঁর অভিযোগ, ২৩ বছর ধরে তাঁকে বঞ্চিত করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। কার দিকে নিশানা করেছেন তিনি? ভারতীয় বোর্ডের প্রাক্তন সচিব তথা বর্তমানে আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহকে কি দায়ী করেছেন শিবরামকৃষ্ণন? নিজেই তা ফাঁস করেছেন তিনি।
শিবরামকৃষ্ণন ধারাভাষ্য ছেড়ে দেওয়ার কথা ঘোষণার পরেই সমাজমাধ্যমে অনেকে জয়কে দায়ী করেন। তার পরেই শিবরামকৃষ্ণন বিষয়টি খোলসা করেছেন। তাঁর মতে, এতে জয়ের কোনও ভূমিকা নেই। অন্য এক জনের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
শনিবার এক্স মাধ্যমে শিবরামকৃষ্ণন লেখেন, “বিসিসিআইয়ের প্রশাসনকে দয়া করে দায়ী করবেন না। বিসিসিআইয়ের এক কর্মীর জন্য সব কিছু হয়েছে। জয় শাহ ও বাকি কর্তাদের কোনও দায় নেই। আমার জীবনের সব সিদ্ধান্ত আমিই নেব।”
শিবরামকৃষ্ণনের কথা থেকে স্পষ্ট, বোর্ডের কোনও এক কর্মী বা কর্তা তাঁকে বঞ্চিত করেছেন। ২৩ বছর ধরে তিনি সুযোগ পাননি। তিনি বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। তাই শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বোর্ডের বাকি কর্তাদের কোনও ভূমিকা নেই। তাই তাঁদের নিশানা করতে নিষেধ করেছেন তিনি। তবে সেই কর্মী বা কর্তার নাম প্রকাশ্যে আনেননি শিবরামকৃষ্ণন।
শুক্রবার শিবরামকৃষ্ণন সমাজমাধ্যমের একটি পোস্টে লেখেন, “আমি ধারাভাষ্য থেকে অবসর নিচ্ছি।” তখন অনেকেই কৌতূহলী হয়ে সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চান। শিবরামকৃষ্ণন তখনই কিছু বলেননি। তিনি আরও লেখেন, “২৩ বছর ধরে ধারাভাষ্য দেওয়ার পরেও টস বা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্ব পাইনি। (রবি) শাস্ত্রী কোচ হওয়ার সময় থেকেই নতুনরা এসে পিচ রিপোর্ট, টস, পুরস্কার বিতরণী থেকে সব কিছুই করছে। তা হলে কী কারণ হতে পারে বলে আপনারা মনে করেন?”
আরও পড়ুন:
তখনই এক ব্যক্তি জানতে চান গায়ের রঙের কারণে তাঁর প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে কি না? শিবরামকৃষ্ণন বলেন, “আপনি একদমই ঠিক। রঙের কারণে বৈষম্য।” তিনি আরও লেখেন, “এই অবসর একটা গল্পের শুরু যা প্রকাশ্যে এলে সাধারণ মানুষ, ক্রিকেট সমর্থক থেকে সকলে চমকে যাবেন। যাঁরা আমাকে ঘৃণা করতেন তাঁরা শান্তি পেয়েছেন দেখে খুব ভাল লাগছে। যাঁরা মনে করেছেন আমি ভদ্র, তাঁদের ধন্যবাদ। বিসিসিআই এ সব বিশ্বাসই করতে পারবে না।” বোর্ডের তরফে এখনও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।
১৯৮৩-এর এপ্রিলে শিবরামকৃষ্ণন নজির গড়েন। ১৭ বছর ১১৮ দিনে টেস্ট অভিষেক হয়। তরুণতম অভিষেককারী হন তিনি। দেশের হয়ে ৯টি টেস্ট এবং ১৬টি এক দিনের ম্যাচ খেলেছেন তিনি। লাল বলের ক্রিকেটে ২৬টি উইকেট পেয়েছেন। তার মধ্যে ১৫ জন আলাদা ব্যাটারকে আউট করেছেন। ১৯৮৫-তে বেনসন অ্যান্ড হেজেস কাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন শিবরামকৃষ্ণন। পাঁচ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন।