বিপাকে পড়েছেন মহম্মদ নওয়াজ়। চলতি বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন নিষিদ্ধ মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। শাস্তি পেতে পারেন পাকিস্তানের অলরাউন্ডার। ছ’মাস নির্বাসিত হতে পারেন তিনি।
আইসিসি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। দ্রুত সেই তদন্তের রিপোর্ট জমা দিতে হবে। তার পরেই পদক্ষেপ করবে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা। ‘দ্য নিউজ়’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের ডোপ বিরোধী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ওয়াকার আহমেদ বলেছেন, “প্রতিযোগিতার বাইরে এই মাদক সেবন করলে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু প্রতিযোগিতা চলাকালীন কোনও ক্রীড়াবিদ এই মাদক সেবন করলে তাঁকে ছ’মাস নির্বাসিত করা হতে পারে।”
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মেডিক্যাল বোর্ড একটি তদন্ত করে ইতিমধ্যেই সেই রিপোর্ট আইসিসিকে জমা দিয়েছে। এর পর বোর্ড আলাদা করে একটি তদন্ত করবে। সেই রিপোর্টও জমা দেওয়া হবে। তার পরেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আইসিসি।
‘ইএসপিএন ক্রিকইনফো’ জানিয়েছে, বিশ্বকাপের সময় নওয়াজ়ের নমুনা নেওয়া হয়েছিল। সেখানেই নিষিদ্ধ মাদক পাওয়া গিয়েছে। যদি এই অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়, তা হলে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে নওয়াজ়কে। তাঁকে নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের সমর্থকেরাও নিন্দা শুরু করেছেন। তাঁদের দাবি, নওয়াজ়ের এই কাণ্ড পাকিস্তানের ক্রিকেটের মুখ আরও পোড়াল।
আরও পড়ুন:
এখন পাকিস্তান সুপার লিগে মুলতান সুলতানসের হয়ে খেলছেন নওয়াজ়। এমনকি, তাঁকে সারের হয়ে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে খেলার জন্য নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) দেওয়া হয়েছিল। এই সপ্তাহেই সারে তাঁর যোগদানের খবর জানাত। কিন্তু এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর নওয়াজ়ের চুক্তি খারিজ করে দিয়েছে ইংল্যান্ডের ক্লাব। এ বার আর সারের হয়ে খেলা হবে না নওয়াজ়ের।
চলতি বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে সাতটি ম্যাচেই খেলেছিলেন নওয়াজ়। মাত্র সাত উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। করেছিলেন মাত্র ১৫ রান। ব্যাটে-বলে তেমন কিছু করতে পারেননি এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার। এ বার নতুন ঝামেলায় পড়েছেন তিনি।
পাকিস্তান ক্রিকেটে অবশ্য এই ঘটনা নতুন নয়। ১৯৯৩ সালে পাকিস্তানের চার ক্রিকেটার ওয়াসিম আক্রম, ওয়াকার ইউনিস, আকিব জাভেদ ও মুস্তাক আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সফরে গিয়ে মাদক রাখার অভিযোগ উঠেছিল তাঁদের বিরুদ্ধে। এ বার সেই মাদক নিয়ে বিতর্কে আরও এক পাক ক্রিকেটার।