আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়তে পারেন পাকিস্তানের ক্রিকেটারেরা। ইংল্যান্ডের ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর কয়েকটি দলের মালিকানা রয়েছে ভারতীয়দের হাতে। তাঁরা সম্ভবত পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের দলে নেবেন না। আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট মহলে।
পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের জন্য আইপিএলের দরজা বন্ধ হয়েছিল ২০০৯ সালে। এ বার সম্ভবত ‘দ্য হান্ড্রেড’-এও দরজা বন্ধ হবে বাবর আজ়ম, শাহিন আফ্রিদিদের জন্য। মোট ৬৩ জন পাক ক্রিকেটার এই লিগের জন্য নাম নথিভুক্ত করিয়েছেন। আইপিএলের দেখাদেখি বিভিন্ন দেশে শুরু হয়েছে ২০ ওভারের লিগ। প্রায় সব লিগেই দল কিনেছেন আইপিএল দলের মালিকেরা। তাতেই চাপ বাড়ছে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের উপর। ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর আটটি দলের মধ্যে চারটি দলের মালিকানা এখন ভারতীয় ব্যবসায়ীদের হাতে। এগুলি হল ম্যাঞ্চস্টার সুপার জায়ান্টস (সঞ্জীব গোয়েন্কার আরপিজি গ্রুপের ৭০ শতাংশ মালিকানা), এমআই লন্ডন (মুকেশ অম্বানীর রিলায়্যান্সের ৪৯ শতাংশ মালিকানা), সাদার্ন ব্রেভ (গ্রান্ধি কিরণ কুমারদের জিএমআর গ্রুপের ৪৯ শতাংশ মালিকানা), সানরাইজার্স লিডস (কলানিথি মারানের সান গ্রুপের ১০০ শতাংশ মালিকানা)।
ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রতিযোগিতাতেও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সুযোগ কমতে চলেছে। ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) এক কর্তার ইঙ্গিত, এ বার ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর বেশ কয়েকটি দল সম্ভবত পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের দলে নেবে না। বিশেষ করে যে দলগুলির মালিকানা ভারতীয়দের হাতে রয়েছে, সেই দলগুলিতে পাকিস্তানিদের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই।
ইসিবির ওই কর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সুযোগ কমার বিষয়টি কোনও সিদ্ধান্ত নয়। এমন কোনও চুক্তি কোনও দলের সঙ্গে হয়নি। এটা সম্ভাবনা মাত্র। দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০-র উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘দক্ষিণ আফ্রিকার লিগে ছ’টি দলের মালিকানা রয়েছে ভারতীয়দের হাতে। ওই দলগুলোয় পাকিস্তানের কোনও ক্রিকেটার নেই। তাই আমাদের লিগেও সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের সব দেশের লিগগুলোতেই এই সম্ভাবনা বাড়ছে।’’
ইসিবির চিফ এক্সিকিউটিভ গত বার বলেছিলেন, ‘‘যে কোনও দেশের ক্রিকেটার যে কোনও দলের হয়ে খেলতে পারেন। সকলের জন্য দরজা খোলা। আমরা কোনও বৈষম্যের পক্ষে নই।’’ সরকারি ভাবে এ বারও কোনও দেশের ক্রিকেটারদের উপর নিষেধাজ্ঞা নেই। ইসিবির এক কর্তা বলেছেন, ‘‘পুরুষ এবং মহিলাদের প্রতিযোগিতায় আমরা গোটা বিশ্বের ক্রিকেটারদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আশা করব, আটটি দলেই ক্রিকেট বিশ্বের সামগ্রিক ছবি দেখা যাবে।’’ আশঙ্কা নিয়ে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক সংগঠনের চিফ এক্সিকিউটিভ টম মোফাট বলেছেন, ‘‘প্রত্যেক ক্রিকেটারের ন্যায্য এবং সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকার থাকা উচিত।’’
আরও পড়ুন:
ইসিবি কর্তারা বা প্রাক্তন ক্রিকেটারেরা চান না কোনও একটি নির্দিষ্ট দেশের ক্রিকেটারদের বাদ দেওয়া হোক। আবার পছন্দ মতো ক্রিকেটার নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে দলগুলির কর্তৃপক্ষদের হাতে। ইসিবির এই সীমাবদ্ধতা পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ভারতীয়দের মালিকানাধীন দলগুলির তরফে অবশ্য পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ব্যাপারে কিছু ঘোষণা করা হয়নি।
‘দ্য হান্ড্রেড’-এর নিলামের জন্য ১৮টি দেশের এক হাজারের বেশি ক্রিকেটার নাম নথিবদ্ধ করিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউ জ়িল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ় এবং পাকিস্তানের ৫০ বেশি ক্রিকেটার রয়েছেন তালিকায়। পাকিস্তানের পরিচিত মুখদের মধ্যে রয়েছেন শাহিন আফ্রিদি, হ্যারিস রউফ, শাদাব খান, মহম্মদ আমির। মহিলাদের জাতীয় দলের বেশ কয়েক জন ক্রিকেটারও রয়েছেন।