শাহবাজ শরিফ সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-ম্যাচ বয়কট করছে পাকিস্তান। এর ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তান ম্যাচ না খেললে আইসিসির সঙ্গে পূর্ণ সদস্য দেশগুলির যে চুক্তি রয়েছে, তা ভঙ্গ হবে। ফলে অংশগ্রহণকারী হিসাবে প্রাপ্য টাকার পুরোটা পাবে না পিসিবি। বিশ্বকাপের সম্প্রচারকারী সংস্থার আর্থিক ক্ষতির দায়ও তাদের উপর বর্তাবে। আইনি সমস্যাতেও জড়িয়ে পড়তে পারেন মহসিন নকভিরা।
ভারত-পাক ম্যাচ না হলে পিসিবির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে পারে বিশ্বকাপের সম্প্রচারকারী চ্যানেল। ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে তারা। আইসিসির যে কোনও প্রতিযোগিতায় ভারত-পাক ম্যাচ সবচেয়ে লাভজনক। এই ম্যাচের দিকে তাকিয়েই সম্প্রচারকারী এবং বিভিন্ন স্পনসর সংস্থা বিপুল টাকা দেয় আইসিসিকে। সম্প্রচারকারী চ্যানেলও ভারত-পাক ম্যাচকে সামনে রেখে বিপুল টাকার বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করে। স্বভাবতই ভারত-পাক ম্যাচ না হলে সম্প্রচারকারী সংস্থাও এই ম্যাচ বাবদ টাকা আইসিসিকে দেবে না।
আইসিসির সঙ্গে ২০২৩ থেকে ২০২৭ পর্যন্ত সময়কালের জন্য সম্প্রচারকারী সংস্থার চুক্তিতে ভারত-পাক ম্যাচের মূল্য ধরা রয়েছে প্রায় ২২৮৮ কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিযোগিতায় অন্তত একটি ভারত-পাক ম্যাচ বাধ্যতামূলক। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতিটি ভারত-পাক ম্যাচের মূল্য প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩২০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, খেলা না হলে অন্তত ৩২০ কোটি টাকা ক্ষতি হবে সম্প্রচারকারী সংস্থার। পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট করলে সম্প্রচারকারী সংস্থার এই ক্ষতি পূরণ করতে হবে পিসিবিকে।
আইসিসির প্রতিটি বড় প্রতিযোগিতার আগে একটি চুক্তি হয়। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট বা অংশগ্রহণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তির মধ্যে সব ম্যাচ ধরা থাকে। একটি ম্যাচ না খেলা মানেই সেই চুক্তিভঙ্গ করা। শর্ত অনুযায়ী আইসিসি লভ্যাংশ বাবদ পূর্ণ সদস্য দেশগুলিকে বছরে যে টাকা দেয়, তা চুক্তিভঙ্গকারী দেশকে দেবে না। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে যা হতে পারে ৩১৬ কোটি টাকা।
আইসিসির কাছ থেকে ৩১৬ কোটি পাবে না পিসিবি, যা তাদের প্রাপ্যের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। আবার সম্প্রচারকারী সংস্থাকেও ক্ষতিপূরণ হিসাবে দিতে হতে পারে ৩২০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার ধাক্কা সামলাতে হবে পিসিবিকে। এমনিতেই আর্থিক সমস্যায় রয়েছে নকভির বোর্ড। তার উপর অতিরিক্ত এই আর্থিক ধকলও সামলাতে হবে তাদের।
বিশ্বকাপের আগেই সম্প্রচার সংক্রান্ত ধাক্কা খেয়েছে পিসিবি। রবিবার শেষ হওয়া পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়ার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ় সম্প্রচার করেনি অস্ট্রেলিয়ান টিভি নেটওয়ার্ক। প্রথমে সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েও পিছিয়ে যায় তারা। কারণ ম্যাচগুলি শুরু হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার রাত ১০টার সময়। এই সময়ে দর্শকসংখ্যা এবং পর্যাপ্ত বিজ্ঞাপন না পাওয়ার আশঙ্কায় পিছিয়ে যায় সংস্থাটি। পাকিস্তান সফরে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া দলে প্রথম একাদশের সাত জন না থাকায় বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সিরিজ় নিয়ে উৎসাহ তেমন ছিল না সেখানে।