এক-দু’দিন নয়, পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত নিতে সময় লেগেছে পাক্কা ২৯ দিন। শুরু হয়েছিল ৩ জানুয়ারি। শেষ হল ১ ফেব্রুয়ারি। মাঝে ২৯ দিন ধরে ন’ধাপে সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার ও সে দেশের ক্রিকেট বোর্ড। অবশেষে বিশ্বকাপে ভারত-ম্যাচ বয়কটের পথে গিয়েছে তারা।
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই ২৯ দিনের সময়সরণি:
৩ জানুয়ারি— ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজ়ুর রহমানকে ছেড়ে দিতে হবে। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতির মাঝে এই নির্দেশ দেয় বিসিসিআই। তা মেনে নেয় কেকেআর।
৬ জানুয়ারি— বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ঘোষণা করে, সে দেশে আইপিএলের কোনও ম্যাচ সম্প্রচার করা হবে না। পাশাপাশি তারা প্রশ্ন তোলে, যদি এক জন ক্রিকেটারের নিরাপত্তা ভারত দিতে না পারে, তা হলে বিশ্বকাপে গোটা দলের নিরাপত্তা তারা কী ভাবে দেবে। বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে না যাওয়ার দাবি জানায় তারা।
১২ জানুয়ারি— তাদের বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর বিষয়ে আইসিসিকে চিঠি লেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তারা প্রস্তাব দেয়, হাইব্রিড মডেলে প্রতিযোগিতা হোক। বাংলাদেশ তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে।
২১ জানুয়ারি— আইসিসির বৈঠকে ভোটাভুটি হয়। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে একমাত্র পাকিস্তান ভোট দেয়। তাদের বিপক্ষে ১৪টি ভোট পড়ে। আইসিসি স্পষ্ট করে দেয়, ভারতে খেলতে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার কোনও সমস্যা নেই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত জানাতে বলে বিশ্বক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা।
২২ জানুয়ারি— ঢাকায় জাতীয় দলের ক্রিকেটার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্জের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন দেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। পরে তিনি জানিয়ে দেন, বাংলাদেশ নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়। কোনও ভাবেই ভারতে খেলতে যাবে না তারা।
২৪ জানুয়ারি— বাংলাদেশ নিজেদের দাবিতে অনড় থাকায় তাদের বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে দেয় আইসিসি। পরিবর্ত দেশ হিসাবে স্কটল্যান্ডের নাম ঘোষণা করে তারা। স্কটল্যান্ডও জানিয়ে দেয়, বিশ্বকাপ খেলতে তারা তৈরি।
আরও পড়ুন:
২৫ জানুয়ারি— বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে বেআইনি আখ্যা দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। চেয়ারম্যান মহসিন নকভি জানান, তাঁরা বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। বিশ্বকাপে পাকিস্তান খেলবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে দেশের সরকার।
২৬ জানুয়ারি— পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন নকভি। পরে তিনি জানান, সমস্ত বিষয় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। এ বার প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটা তাঁরা মেনে চলবেন।
১ ফেব্রুয়ারি— পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করে, বিশ্বকাপে পাকিস্তান খেলবে। কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত-ম্যাচ তারা খেলবে না। এই সিদ্ধান্তের পর পাল্টা বিবৃতি দিয়ে আইসিসি জানিয়েছে, জাতীয় নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের ভূমিকাকে আইসিসি সম্মান করে। কিন্তু পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থের পরিপন্থী। গোটা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ ক্রিকেটপ্রেমী, যাঁদের মধ্যে পাকিস্তানের সমর্থকেরাও রয়েছেন, তাঁদের ভালর কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নয়। আইসিসি জানিয়েছে, তারা প্রত্যাশা করে পাকিস্তান সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।