১৪ বছর বয়সেই ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বৈভব সূর্যবংশী। ঘরোয়া ক্রিকেট হোক বা আন্তর্জাতিক, আগ্রাসী ব্যাটিং করতেই পছন্দ করে বিহারের কিশোর। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও বৈভবকে নিয়ে সতর্ক ছিল প্রতিপক্ষ দলগুলি। অল্প দিনেই ক্রিকেটমহলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা বৈভবকে নিশানা করলেন তারই জাতীয় দলের সতীর্থ জিতেশ শর্মা। জানালেন, বৈভব কতটা অবাধ্য ছেলে।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন অধিনায়ক এবি ডিভিলিয়ার্সের ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জিতেশ। ডিভিলিয়ার্স বলেন, ‘‘আমার মনে হয়, বৈভব বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করতে পারে। ও সব সময় ছ’নম্বর গিয়ারে ব্যাট করে। ব্যাটিং দক্ষতা বেশ ভাল।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বৈভব খুব ভাল খেলোয়াড়। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ওকে দেখেছি। আইপিএলের মতো বড় প্রতিযোগিতা খেলার পর, এ রকম খেলা কঠিন। সব ম্যাচে একই মানের ব্যাটিং করে। বিশ্বকাপে ওর খেলা দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছি। খুব পেশাদার। এই বয়সেই দারুণ পরিণত।’’
ডিভিলিয়ার্সের মুখে বৈভবের এক টানা প্রশংসা শোনার পর জিতেশ বলেন, ‘‘বৈভব একদমই পেশাদার নয়। অনেকে ওকে পেশাদার করার চেষ্টা করেছে। তবে আমার মনে হয়, ও কোনও দিন পেশাদার হতে পারবে না। মাঠের মধ্যে ও বেশ ভাল হলেও বাইরে একদমই নয়। আমি নিজেও অনেক চেষ্টা করেছি। নিজের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করেছি। রাতে ওকে আইসক্রিম খেতে অনেক বার বারণ করেছি। কথাই শোনে না।’’ বৈভবের দুষ্টুমির কথা বলেই হেসে ফেলেছেন জিতেশ।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর উইকেটরক্ষক-ব্যাটার সম্ভবত বোঝাতে চেয়েছেন, ফিটনেস নিয়ে সচেতন নয় বৈভব। আধুনিক ক্রিকেটে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটিং দক্ষতা, প্রতিভা নিয়ে সংশয় না থাকলেও ফিটনেস ঠিক না থাকলে আগামী দিনে পিছিয়ে পড়তে পারে কিশোর ব্যাটার।
গত বছর ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে এমার্জিং এশিয়া কাপ খেলেন বৈভব। নেতৃত্বে ছিলেন জিতেশ। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই হয়তো জুনিয়র সতীর্থকে সতর্ক করে দিতে চেয়েছেন ভারতের হয়ে ১৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার।