ক্রমশ চাপ বাড়ছে ফরাসি ওপেনের উপর। আর্থিক বৈষম্যের অভিযোগ তুলে এই গ্র্যান্ড স্ল্যাম বয়কটের হুমকি দিয়েছিলেন বিশ্বের এক নম্বর মহিলা টেনিস তারকা এরিনা সাবালেঙ্কা ও এক নম্বর পুরুষ টেনিস তারকা ইয়ানিক সিনার। এ বার একই সুর শোনা গেল নোভাক জোকোভিচের মুখেও। পরিস্থিতি ভাল না হলে বয়কটের হুমকি দিলেন পুরুষদের মধ্যে সর্বাধিক ২৪ গ্র্যান্ড স্ল্য়ামের মালিক।
গত বছরের তুলনায় এ বার ফরাসি ওপেনে পুরস্কারমূল্য বেড়েছে ১০ শতাংশ বা ৫৯ কোটি টাকা। এ বার সব খেলোয়াড়েরা মোট পুরস্কারমূল্য বাবদ পাবেন ৬৮৫ কোটি টাকা। কিন্তু খেলোয়াড়দের দাবি, এই প্রতিযোগিতা থেকে গত বছর ৪৩৮২ কোটি টাকা আয় করেছিলেন ফরাসি ওপেন কর্তৃপক্ষ। এ বার সেই টাকার অঙ্ক বেড়ে ৪৪৩৮ কোটি টাকা হবে। তার মাত্র ১৫ শতাংশ খেলোয়াড়দের দেওয়া হচ্ছে। এই বৈষম্যেরই অভিযোগ করেছেন সাবালেঙ্কারা।
গত বছর ফরাসি ওপেনজয়ী খেলোয়াড় পেয়েছিলেন ৩০ কোটি টাকা। রানার্স পেয়েছিলেন ১৫ কোটি টাকা। সেমিফাইনালে ওঠা বাকি দুই খেলোয়াড় পেয়েছিলেন ৮ কোটি টাকা করে। যাঁরা প্রথম রাউন্ডে হেরে গিয়েছিলেন তাঁরা পেয়েছিলেন ৯৬ লক্ষ টাকা করে। এই অঙ্ক বেশ কম বলেই দাবি সাবালেঙ্কাদের।
ইটালিয়ান ওপেন চলাকালীন নিজেদের দাবির কথা বলেছেন সাবালেঙ্কা। মহিলাদের সিঙ্গলসে এক নম্বর তারকা বলেন, “আমাদের ছাড়া তো প্রতিযোগিতাই হবে না। তা হলে দর্শকেরা বিনোদনও পাবেন না। তাই আমাদের মতে, খেলোয়াড়দের আরও বেশি টাকা পাওয়া উচিত।” সাবালেঙ্কা জানিয়েছেন, কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। বেলারুশের তারকা বলেন, “একটা সময়ে আমাদের কড়া পদক্ষেপ করতেই হত। আমার মনে হয়, এটাই সঠিক সময়।”
আরও পড়ুন:
সিনারের মতে, টাকার থেকেও এটা সম্মানের প্রশ্ন। তিনি বলেন, “এটা সম্মানের বিষয়। শুধুমাত্র সেরা খেলোয়াড়দের কথা নয়। সবার কথা মাথায় রাখতে হবে। যোগ্যতা অনুযায়ী পারিশ্রমিক দিতে হবে। নইলে আমরা খেলব না।”
এই বিষয়ে সাবালেঙ্কার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন জোকোভিচ। তিনি বলেন, “সাবালেঙ্কাকে দেখে আমার গর্ব হচ্ছে। ও নেত্রীর মতো লডজ়ছে। টেনিসে যে রাজনীতি হয়, তা সকলের সামনে নিয়ে এসেছে সাবালেঙ্কা। ও তো শুধু নিজের ভালর জন্য এটা করছে না। সকলের ভালর জন্য করছে। ওর নেতৃত্বে আমি মুগ্ধ। ওকে সেলাম জানাই। ওর পাশে আছি।” চলতি মাসের ২৪ তারিখ থেকে শুরু ফরাসি ওপেন। তার কয়েক সপ্তাহ আগে সমস্যায় পড়েছেন ফরাসি ওপেন কর্তৃপক্ষ।