×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৮ জুন ২০২১ ই-পেপার

রুনির গোলে এগোল ইংল্যান্ড

স্পেনকে জিতিয়ে অস্বস্তি কাটল কোস্তার

নিজস্ব প্রতিবেদন
১৪ অক্টোবর ২০১৪ ০২:১৭
কোস্তার উচ্ছ্বাস। ছবি: এএফপি

কোস্তার উচ্ছ্বাস। ছবি: এএফপি

ব্রাজিল বিশ্বকাপ থেকেই অভিশাপটা তাড়া করে বেড়াচ্ছিল তাঁকে। গোল না পাওয়ার অভিশাপ। ক্লাবের জার্সিতে দুরন্ত সাফল্য পেলেও দেশের জার্সিতে কিছুতেই গোলের ঠিকানা পাচ্ছিলেন না। তার উপর নিজের দেশ ব্রাজিল ছেড়ে স্পেনের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত প্রবল বিতর্কের মুখে পড়েছিল। সমালোচনায় বিদ্ধ হলেও এত দিন পাল্টা জবাব দিতে পারেননি স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। শেষ পর্যন্ত সাত নম্বর ম্যাচে অভিশাপ কাটল তাঁর--দিয়েগো কোস্তার। গোল পেলেন চেলসির তারকা স্ট্রাইকার। তাঁর হাত ধরে ছন্দে ফিরল দলও। রবিবার ইউরো কোয়ালিফায়ারে স্পেন ৪-০ জিতল লুক্সেমবার্গের বিরুদ্ধে। চেলসির ফর্ম ঝলসে উঠল স্পেনের জার্সিতেও।

বিশ্বকাপে স্পেনের জার্সিতে নামলেও ব্রাজিলীয় বংশোদ্ভূত কোস্তার জালে বল জড়াতে না পারার ব্যর্থতা নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়েছিল। আটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে চলতি মরসুমে চেলসিতে সই করার পর সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছিলেন আগুনে ফর্মে। সাত ম্যাচে ন’গোল করে। তবে ক্লাবের জার্সিতে যতই সফল হোন একটা কাঁটা খচখচ করছিলই। স্প্যানিশ বুটে ঝড় তুলতে না পারার অস্বস্তি। যা এ দিন মিটল কোস্তার। প্রথমার্ধেই দাভিদ সিলভা ও পাসো আলকেসার এগিয়ে দেওয়ার পর দলের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে চতুর্থ গোল পরিবর্ত ফুটবলার হোয়ান বেরনাতের।

স্লোভাকিয়ার কাছে বৃহস্পতিবার হারের পর স্পেনের উঠে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জে এ দিন ভিসেন্তে দেল বস্কি গোলকিপারও পরিবর্তন করেছিলেন। ইকার কাসিয়াসের বদলে দাভিদ দ্য জিয়া। তবে জয়ের জন্য ইপিএলে চলতি মরসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতা কোস্তার উপরই তাকিয়েছিলেন সমর্থকরা। সেই পরীক্ষায় এ বার উতরে গেলেও প্রথমার্ধে সহজতম সিটার নষ্ট না করলে জোড়া গোল অনায়াসে লেখা থাকত কোস্তার নামের পাশে।

Advertisement

ম্যাচের পর কোস্তা বলেন, “সত্যি খুব অস্বস্তি হত। গোল করতে না পারার অস্বস্তি। টিম যে ম্যাচটা হারল তাতে আমি থেকেও কিছু করতে পারিনি। কী ভাবে গোল করব সেই রাস্তাটাই খুঁজে পাচ্ছিলাম না।” সঙ্গে চেলসি স্ট্রাইকার যোগ করেন, “ঈশ্বরকে ধন্যবাদ বলটা ঠিক যেখানে চাইছিলাম সেখানেই পাওয়ার জন্য। আমাকে শুধু জালে বলটা ঠেলতে হত। সেটাই করেছি। কোচকেও ধন্যবাদ। আশা করছি এ বার সবকিছু ঠিকঠাক হবে।”

টিমের অন্যতম তারকা ফরোয়ার্ড গোলে ফেরায় স্বস্তিতে স্প্যানিশ কোচ দেল বস্কিও। তিনি বলে দেন, “প্রচুর পরিশ্রম করলেও ভাগ্য সঙ্গ দিচ্ছিল না কোস্তার। শেষ পর্যন্ত ও গোল পাওয়ায় খুব খুশি। লক্ষ্যে অনড় থেকে পরিশ্রম করলে ফল ঠিকই পাওয়া যায়।”

জিতেছে ইংল্যান্ডও। তবে এস্তোনিয়ার বিরুদ্ধে রয় হজসনের টিমের সেই জয় কষ্টার্জিত। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এস্তোনিয়া দশ জন হয়ে যাওয়ার পরও ইংল্যান্ড তার সুবিধে তুলতে পারেনি। ৭৩ মিনিটে দুরন্ত বাঁকানো ফ্রি কিক থেকে রুনি গোল না করলে ইংল্যান্ড জয়ের মুখ দেখত কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে ইংরেজ সমর্থকদেরই। তবে সে যাই হোক না কেন আপাতত ইংরেজ ক্যাপ্টেনের জাতীয় দলের জার্সিতে ৪৩ নম্বর গোলের সাহায্যে কোয়ালিফায়ারে তিন ম্যাচে ন’পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘ই’ শীর্ষে ইংল্যান্ডই।

রবিবারের ফল

স্পেন ৪ : ০ লুস্কেমবার্গ

ইংল্যান্ড ১ : ০ এস্তোনিয়া

ইউক্রেন ১ : ০ ম্যাসেডোনিয়া

অস্ট্রিয়া ১ : ০ মন্টেনেগ্রো

রাশিয়া ১ : ১ মলডোভা

সুইডেন ২ : ০ লিচেনস্টেইন

স্লোভেনিয়া ২ : ০ লিথুয়ানিয়া

স্লোভাকিয়া ৩ : ১ বেলারুশ

Advertisement