বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল কাব্রিস্তান ক্রিকেট টিম। প্রথমবার ভারতকে হারাল। জিতল প্রথম বিশ্বকাপও।
হঠাৎ করে উপরের লেখাগুলো পড়লে অনেকেই হয়তো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যেতে পারেন! চকিতে মনে হতে পারে— এ কেমন বিশ্বকাপ! কোথায় হল? কবে-ই বা হল?
‘বিশ্বকাপ’ অবশ্য হল।
আরও অবাক লাগবে, যদি জানা যায় যে, খোদ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের শহরেই বিশ্বকাপের আসর বসেছিল?
ভরা গ্যালারির সামনে ভারত হারল। হাততালির ঝড়ও উঠল...
না ঘাবড়াবেন না!
ম্যাচ ইডেনে হয়নি। ম্যাচ পঞ্চাশ ওভার কিংবা টি-টোয়েন্টিও নয়। ম্যাচ মাত্র এক ঘণ্টা চল্লিশ মিনিটের।
খেললেন—ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব পারফর্মিং আর্ট, পাকিস্তান।
স্থান—রবিবারের অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস।
আয়োজক—ব্রাত্য বসুর ‘কালিন্দি ব্রাত্যজন’।
যেখানে দেখান হল, কীভাবে ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতল কাব্রিস্তান। মাঠে খেলে নয়। মাঠের বাইরে গড়াপেটা করে।
আসলে ‘স্টাম্পড’ (নাটকের নাম) ভারত-কাব্রিস্তান ক্রিকেট টিমের গড়াপেটা কেলেঙ্কারিতে জড়ানো নিয়ে একটা কাল্পনিক গল্প। যা খুব তাৎপর্যপূর্ণ, যখন পাকিস্তানের নাট্যদল-ই সেটা পর্দায় তুলে ধরল খোদ ভারতীয় ক্রিকেটের নন্দনকানন থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে দাঁড়িয়ে। চারজন পাক অভিনেতার অনবদ্য অভিনয় আর ব্যাকস্ক্রিনে একটা ভারত-পাক ম্যাচ দেখিয়েই কলকাতা আন্তর্জাতিক থিয়েটর উৎসবের চতুর্থ দিন জমিয়ে দিলেন পাক নাট্য শিল্পীরা। যদিও নাটকের পরিচালক জৈন আমেদের দাবি, ‘‘আমরা কাব্রিস্তান মানে পাকিস্তানকে মাথায় রেখেই স্ক্রিপ্ট তৈরি করেছি। সেটা প্রকাশ্যে বলিনি কারণ, তা হলে ২১টা শো আমাদের দেশে করতে পারতাম না!’’
নাটক শুরু কাব্রিস্তান অধিনায়ক চিক্কুর হোটেল রুম থেকে। ইংল্যান্ডে ভারত-কাব্রিস্তান কাল্পনিক বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচের আগের দিন নানা কৌশলে যিনি তাঁর দলের প্রধান পেসার স্যামকে গড়াপেটা করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যেমন চিক্কু সফল হননি তাঁর মনস্কামনায়, স্যামও গড়াপেটার কেলেঙ্কারি থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারেননি। কী ভাবে? অধিনায়ককে ডাবলক্রস করে স্যামকে ঘুর পথে গড়াপেটায় জড়িয়ে ফেলেন টিমের সিনিয়র ব্যাটসম্যান ফার্নি। স্যাম সেটা বুঝতেও পারেননি যে এক ফাঁদ থেকে বেরোতে গিয়ে তিনি অন্য ফাঁদে পড়ে গিয়েছেন। যাঁকে ভরসা করেছেন সেই ফার্নি যে আগেই ভারতীয় দলের চার সিনিয়র ক্রিকেটারের সঙ্গে গড়াপেটা করে বসে আছেন। যেখানে পূর্বনির্ধারিত, ভারত ম্যাচটা হারবে।
পরিশেষে সব জানতে পেরে সাংবাদিক বন্ধুদের কাছে স্যামের সমস্ত ফাঁস করার চেষ্টা এবং পরিণতিতে মৃত্যু।
পুরো শোয়ে যে হাস্যরসে ক্রিকেটের অন্ধকার দিককে তুলে ধরা হয়েছে, তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে ভারতে এসে কল্পনায় ভারতকে যে গড়াপেটার ফাঁদে জড়িয়ে দিলেন পাক নাট্য-পরিচালক, সেটা কেন? তাঁর নাটকে কৌশলে পাকিস্তানের নাম না নিলেও, সরাসরি ভারতের নাম জড়ালেন গড়াপেটায়।
সেটা কি পাক জনতার মন জয় করার জন্য? বিশ্বকাপ তো কাব্রিস্তান জিতল। গড়াপেটা করে হারল ভারত? জৈন আমেদ একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বললেন, ‘‘ওটা আন্দার কি বাত!’’
সান্ত্বনা পুরস্কার বোধহয় এটাই! বিশ্বকাপে তো আর হল না। কল্পনার জগতেই হোক!