ম্যাচের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ক্লাবকর্তাদের প্রস্তাব মেনে নিলেন সুনীল ছেত্রীরা। কম বেতনেই এ বারের আইএসএলে নামবেন তাঁরা। বেঙ্গালুরু এফসির ফুটবলারদের এই স্বার্থত্যাগের প্রশংসা করেছেন দলের মালিক পার্থ জিন্দল। বেঙ্গালুরু দ্বিতীয় দল, যাদের ফুটবলারেরা কম বেতনে এ বারের প্রতিযোগিতায় নামতে রাজি হয়েছে।
এক্স মাধ্যমে পার্থ লেখেন, “ভারতীয় ফুটবল যে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তার কথা সকলেরই জানা। বেঙ্গালুরু এফসির মালিক হিসাবে ফুটবলের সঙ্গে আমি গভীর ভাবে যুক্ত। এটা আমাদের জীবনের কঠিন মুহূর্ত। এই সময়ে দলের ফুটবলারেরা যে বেতন কমাতে রাজি হয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।” পার্থ আরও জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। তিনি বলেন, “নিঃসন্দেহে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব কঠিন ছিল। ক্লাব ও ফুটবলের স্বার্থে ফুটবলারেরা যে ত্যাগ করেছেন তার জন্য ওদের প্রশংসা প্রাপ্য।”
গত কয়েক মাস ধরে আইএসএল নিয়ে যে ডামাডোল চলেছে, তার মধ্যে বেঙ্গালুরু ফুটবলারদের বেতন বন্ধ করে দিয়েছিল। পার্থ জানিয়েছিলেন, বেতন না কমালে ক্লাব বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন ফুটবলারেরা।
ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা সুনীল এই ক্লাবে খেলেন। রয়েছেন ভারতীয় দলের প্রথম গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিংহ সান্ধু। আরও কয়েক জন ফুটবলার রয়েছেন যাঁরা নিয়মিত জাতীয় দলে খেলেন। আগামী আইএসএলের জন্য রেনেডি সিংহকে প্রধান কোচ করেছে বেঙ্গালুরু। এর আগে এই দলে বিদেশি কোচদেরই দেখা গিয়েছে। অ্যাশলি ওয়েস্টউডের মতো বড় নাম কোচিং করিয়েছেন। সেই জায়গায় ভারতীয় রেনেডিকে আনার কারণও নিঃসন্দেহে বেতন।
গত মাসে এফসি গোয়ার ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফেরা জানিয়েছিলেন, তাঁরা কম বেতনে আইএসএল খেলবেন। তাঁদের সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিল ক্লাব। এ বার সেই পথে হাঁটল বেঙ্গালুরু।
আরও পড়ুন:
এ বার আইএসএলে প্রতিটি দল ২৪টি করে ম্যাচ খেলবে না। ১৩টি করে ম্যাচ খেলবে তারা। মোট ৯১টি ম্যাচ হবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু আইএসএল। প্রথম ম্যাচে মোহনবাগান খেলবে কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে। সে দিনই দ্বিতীয় ম্যাচে খেলবে এফসি গোয়া এবং ইন্টার কাশী।
এর মধ্যেই সোমবার জানা গিয়েছে, পরের মরসুমের আইএসএল দেখা যাবে ‘ফ্যানকোড’ ওয়েবসাইট এবং অ্যাপে। বাকি সংস্থাগুলিকে টেক্কা দিয়ে তাদেরই বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রোডাকশনের দায়িত্ব পেয়েছে ‘কেপিএস স্টুডিয়োস’। তবে গত ১০ বছরের তুলনায় ম্যাচ পিছু অনেক কম টাকা পাবে ফেডারেশন। ফলে ক্লাবগুলির আর্থিক লাভও কমবে। সেই কারণেই হয়তো ফুটবলারদের কম বেতন নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে গোয়া, বেঙ্গালুরুর মতো ক্লাব। সেই দাবি মেনে নিয়েছেন ফুটবলারেরা।