Advertisement
E-Paper

ভিনিসিয়াস ম্যাজিকে বিশ্বকাপে চেনা ব্রাজ়িল, হাইতিকে ৩ গোল দিয়ে প্রথম জয়, উদ্বেগ বাড়াল সুযোগ নষ্ট আর রাফিনহার চোট

বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেল ব্রাজ়িল। হাইতির বিরুদ্ধে জয়ে ব্রাজ়িলের নায়ক ভিনিসিয়াস জুনিয়র। গোল করলেন। গোল করালেন। গোলের সুযোগ তৈরি করলেন। কার্লো আনচেলোত্তির দলের প্রাণ ভোমরা তিনিই।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ০৮:০১
picture of football

গোলের পর ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ছবি: রয়টার্স।

ব্রাজ়িল ৩ (কুনহা ২, ভিনিসিয়াস ১)

হাইতি ০

হাইতির বিরুদ্ধে জিততেই হত ব্রাজ়িলকে। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দেখা গেল ব্রাজ়িলীয় ফুটবলের ঝলক। পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জয়ের নায়ক ভিনিসিয়াস জুনিয়র। গোল করলেন, করালেন। কার্লো আনচেলোত্তির দলের প্রাণ ভোমরা ভিনিই। ভিনিসিয়াস না থাকলে প্রথম সারির দলগুলির বিরুদ্ধে সমস্যায় পড়তে পারে ব্রাজ়িলকে। যদিও ফিফা ক্রমতলিকায় ৮৫ নম্বরে থাকা হাইতির বিরুদ্ধে দেখা গিয়েছে ব্রাজ়িলীয়দের চেনা ফুটবল।

হাইতিকে ব্রাজ়িল বড় ব্যবধানে হারাবে, এটাই প্রত্যাশিত। বোঝার জন্য ফুটবল বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন হয় না। সমস্যা হয়নি ভিনিসিয়াস, রাফিনহাদেরও। প্রথম মিনিট ১০ প্রতিপক্ষকে দেখে নেওয়ার পর খেলার রাশ নিয়ে নেয় ব্রাজ়িল। বল এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন ব্রাজ়িলের ফুটবলারেরাই। কোনও কোনও সময় হাইতির ফুটবলারদের দর্শকের মতো দেখিয়েছে। ব্রাজ়িলীয়রা ফুটবল দক্ষতায় অনেক এগিয়ে। দু’দলের শক্তির তুলনা টানার অর্থ হয় না। ভিনিসিয়াস, কাসেমিরোদের দেখা ছাড়া হাইতি ফুটবলারদের করার কিছু ছিল না। সাধ্য মতো চেষ্টা করেছেন তাঁরা। অকারণ রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করেনি। ৬৩ মিনিটে কর্নার থেকে প্রায় গোলও করে ফেলেছিল হাইতি। গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার বাঁচিয়ে দেন।

জ়োনাল মার্কিংয়ে ব্রাজ়িলকে আটকানো পরিকল্পনা করেছিলেন হাইতির কোচ। লাভ হয়নি। ব্রাজ়িল খেলা ধরে নিতেই হাইতির রক্ষণ সংগঠনে ভাঙন শুরু হয়। ভাঙন ঠেকানো মতো মশলা হাইতি শিবিরে নেই। সুযোগ কাজে লাগিয়েছে পাঁচ বারের বিশ্বজয়ীরা। হাইতিকে প্রথমার্ধেই তিন গোল দিয়ে গ্যালারিতে হাই-টির আবহ তৈরি করে দেয় আনচেলোত্তির দল। ব্রাজ়িলের দাপটের মধ্যে হাইতির ফুটবলারেরা বিক্ষিপ্ত ভাবে আক্রমণের চেষ্টা করেছেন কয়েক বার। তবে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেননি।

ঘন নীল এবং সমুদ্র-সবুজ জার্সি পরে খেলতে নেমেছিল ব্রাজ়িল। দূর থেকে বোঝার উপায় ছিল না। তবে ব্রাজ়িলীয়দের প্রধান পরিচয় ফুটবল। আর সেই ফুটবল দিয়েই চেনা গেল তাদের। স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, জার্মানি, আর্জেন্টিনা, পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলগুলির বিরুদ্ধেও এই ব্রাজ়িলকে দেখা যাবে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কা থাকলই। ভিনিসিয়াস নির্ভরতা কাটাতে হবে সেলেকাওদের।

২৩ মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের শট হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিড প্রতিহত করলে বক্সের সামনে বল পান ডিফেন্ডার হানেস ডেলক্রোইক্স। তিনিই প্রায় আত্মঘাতী গোল করে ফেলছিলেন! তাঁর পায়ে লেগে গোলমুখী বল ম্যাথেউস কুনহার পায়ের ছোঁয়ায় সামান্য দিক পরিবর্তন করে গোলে ঢুকে যায়।

৩৬ মিনিটে ব্রাজ়িলের দ্বিতীয় গোলও কুনহার। এ ক্ষেত্রেও কৃতিত্ব ভিনিসিয়াসের। মাঝ মাঠে প্রতিপক্ষ ফুটবলারের পা থেকে বল কেড়ে কিছুটা দৌড়ে ডিফেন্স চেরা পাস দেন কুনহাকে। হাইতির এক ডিফেন্ডারকে গায়ে নিয়েও বাঁ পায়ের শটে গোল করেন কুনহা।

প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময় গোল করে ব্রাজ়িলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়াস। লুকাস পাকুয়েতা মাঝ মাঠ থেকে বল বাড়ান সেন্টার সার্কেলের বাঁ দিকে অপেক্ষারত অরক্ষিত ভিনিসিয়াসকে। গতিতে হাইতির ডিফেন্ডারকে পিছনে ফেলে ডান পায়ের শটে গোল করেন ভিনিসিয়াস। এই গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় এ বারের বিশ্বকাপে ব্রাজ়িলের প্রথম জয়।

ভিনিসিয়াসের গোল।

ভিনিসিয়াসের গোল। ছবি: রয়টার্স।

আরও বড় ব্যবধানে জিততে পারত ব্রাজ়িল। ৭৭ মিনিটে ডগলাস স্যান্টোসের শট বারে গেলে ফিরে আসে। যদিও সহকারী রেফারি জানান আগেই অফসাইড হয়ে গিয়েছিল। প্রথমার্ধে রাফিনহাও অফসাইডের ফাঁদে একাধিক বার জড়িয়ে পড়েন। ১২ মিনিটে তাঁর একটি গোলও বাতিল হয়। ৭৮ মিনিটে অফসাইডের জন্য বাতিল হয় পরিবর্ত হিসাবে নামা এনদ্রিকের গোলও!

সহজ জয়ের মধ্যেও আচনেলোত্তির উদ্বেগ বাড়ালেন রাফিনহা। পেশীতে চোট পেয়ে প্রথমার্ধে মাঠ ছাড়েন তিনি। ৪০ মিনিট মাঠে ছিলেন। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিরা যে ভাবে বেশ কয়েকটি সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করলেন, তা নিয়ে ভাবতে হবে ব্রাজ়িলের ইটালীয় কোচকে। ২২ মিনিটে হাইতির গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি রাফিনহা! প্রতিপক্ষের অফসাইডের ফাঁদ এড়ানোর দক্ষতা বাড়াতে হবে। গ্যালারিতে থাকা রোনাল্ডিনহোকে দারুণ উচ্ছ্বসিত মনে হয়নি। প্রথমার্ধে ৩ গোল দেওয়া ব্রাজ়িল দ্বিতীয়ার্ধে একটা গোলও দিতে পারবে না?

সংক্ষেপে
  • ১১ জুন থেকে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এ বারই প্রথম ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
  • ফুটবল বিশ্বকাপ হচ্ছে তিনটি দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ফিফা।
  • বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হয়েছে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ।
সর্বশেষ
৭ মিনিট আগে
Haiti Brazil Vinicius Junior
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy