২২ বছর ধরে ভারতসেরা হতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। প্রথম বার আইএসএল জয়ের সুযোগ তাদের সামনে। বৃহস্পতিবার ইন্টার কাশীতে হারাতে পারলেই চ্যাম্পিয়ন হবে তারা। অর্থাৎ, নিজেদের হাতেই সুযোগ রয়েছে তাদের। ফাইনালে নামার আগে দলকে বার্তা দিলেন ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজ়ো। শেষ ৯০ মিনিটে নিজেদের সেরা দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
ম্যাচের আগের দিন দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ইউসেফ এজেজারিকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে আসেন অস্কার। তিনি বলেন, “এই দলের উপর আমার বিশ্বাস ছিল। প্রতিদিন দল উন্নতি করেছে। কাল পাঁচটা দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু আমরা এগিয়ে আছি। তাই শুধু নিজেদের খেলার দিকে তাকাচ্ছি। আগেই বলেছি, একটা করে ম্যাচ ধরে এগিয়েছি। এ বার শেষ ম্যাচ। শেষ ৯০ মিনিট। সকলকে বলেছি, শেষ ৯০ মিনিট নিজেদের সেরাটা দাও।”
চলতি মরসুমে একটা সময় পয়েন্ট নষ্ট করে পিছিয়ে পড়েছিল ইস্টবেঙ্গল। সেখান থেকে এগিয়েছে তারা। মুম্বই সিটি এফসির মতো কঠিন দলকে তাদের ঘরের মাঠে হারিয়েছে। ডার্বিও প্রায় জিতে ফেলেছিল ইস্টবেঙ্গল। দলের ফুটবলারদের খিদে এখনও কমেনি বলেই জানিয়েছেন অস্কার। তিনি বলেন, “কালকেই আসল দিন। এই দিনের উপরেই সবকিছু নির্ভর করছে। ছেলেরা জিততে মরিয়া। ওদের খিদে একটুও কমেনি। ২২ বছর আমরা ভারতের সেরা ক্লাব হতে পারিনি। সেই সুযোগ এ বার পেয়েছি। এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না।”
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
চলতি মরসুমের মাঝেই অস্কার জানিয়েছেন, আর ইস্টবেঙ্গলের কোচ থাকবেন না। তবে বিনিয়োগকারী ইমামির কাছে ক্লাব অনুরোধ করেছে, অস্কারই যেন কোচ থাকেন। কোচ হিসাবে নিজের সাফল্যের কৃতিত্ব সাপোর্ট স্টাফদেরও সমান ভাবে দিয়েছেন অস্কার। তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারি মাসে যখন এসেছিলাম, তখন দল এত ভাল জায়গায় ছিল না। ফাঁক ভরাট করেছি। খারাপ সময়ও গিয়েছে। কিন্তু আমরা দল হিসাবে খেলেছি। ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস কমেনি। তার ফল এখন দেখা যাচ্ছে।”
আরও পড়ুন:
পাশাপাশি সমর্থকদের কথাও শোনা গিয়েছে কোচের গলায়। তিনি বলেন, “এই ক্লাবের ৫০০ বা ১০০০ জন সমর্থক নেই। লক্ষ লক্ষ সমর্থক রয়েছেন। তাঁরা সারা ক্ষণ ক্লাবের জন্য গলা ফাটান। কঠিন সময়েও ক্লাবের সঙ্গে ছিলেন। ওঁরা চান, দল চ্যাম্পিয়ন হোক। সেই লক্ষ্যেই আমরা নামব।” বৃহস্পতিবার কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে খেলা। টিকিটের দাম অনেক বেশি। তার পরেও মাঠ ভারে যাবে বলে মনে করেন অস্কার। প্রিয় দলকে ভারতসেরা হতে দেখে সমর্থকেরা আসবেন বলেই জানিয়েছেন তিনি।
ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে লড়াই সহজ হবে না বলে মনে করেন অস্কার। কারণ, প্রতিপক্ষ দল কয়েক দিন আগে মোহনবাগানকে রুখে দিয়েছে। অস্কার বলেন, “ওরা রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলবে। আমাদের আটকাতে চাইবে। সেটা খুব ভাল ভাবে যায়নি। সেই মতোই পরিকল্পনা করব। জয় ছাড়া কিছু মাথায় নেই। প্রথম একাদশ এখনও ঠিক করিনি। পরিকল্পনা করেছি। সেই অনুযায়ী দল নামাব।”