পরিচালন কাঠামো নিয়ে মতান্তর চলছে ফেডারেশন ও ক্লাব জোটের
সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের জন্য সাময়িক স্বস্তি এনে পাঁচটি চ্যানেল এবং ওটিটি সংস্থা এ বারের আইএসএল সম্প্রচার নিয়ে কৌতূহল প্রকাশ করেছে। শুক্রবার বিড-পূর্ববর্তী প্রক্রিয়ায় তারা হাজির ছিল বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে দু’টি বিদেশি ওটিটি-ও রয়েছে।
এ বারের সংক্ষিপ্ত আইএসএলের সম্প্রচার স্বত্বের জন্য ইতিমধ্যেই টেন্ডার প্রকাশ করেছে ফেডারেশন। শুক্রবার ছিল ‘প্রি-বিড কোয়্যারিজ়’ বা বিড-পূর্ববর্তী জিজ্ঞাসার দিন। সাধারণত, টিভি স্বত্বের বিড জমা পড়ার আগে এই প্রক্রিয়া হয়। আগ্রহী চ্যানেল বা ওটিটি-দের কোনও প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংস্থার সামনে এই দিনে তারা তুলে ধরতে পারে। কৌতূহল মিটিয়ে এর পর দরদাম বুঝে নিয়ে যাতে তারা ঠিক করতে পারে, দরপত্র জমা দেব কি দেব না।
ফেডারেশনের সামনে এ দিন হাজির হওয়া পাঁচটি সংস্থার মধ্যে দু’টি ছিল ভারতীয় সংস্থা— সোনি ও জি। এর মধ্যে সোনির চ্যানেল এবং ওটিটি দু’টোই রয়েছে। ফ্যানকোড ওটিটি এসেছিল, যারা এখন খেলাধুলোয় পরিচিত নাম। এ ছাড়াও দু’টি বিদেশি ওটিটি ছিল বলে জানা গিয়েছে। লক্ষণীয়, রিলায়্যান্স সংস্থার এফএসডিএল বা তাদের চ্যানেল স্টার স্পোর্টস বা ওটিটি জিয়ো-হটস্টার প্রাক-বিড প্রক্রিয়ায় আসেনি। এ বারের সংক্ষিপ্ত লিগের সঙ্গে তাদের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম, আগেই লেখা হয়েছে। এমনিতেই ফেডারেশন, ক্লাব জোট ও এফএসডিএল নানা বিষয় নিয়ে এখনও এক ছাতার তলায় আসতে পারেনি। দ্বিতীয়ত, আইএসএল শুরু হচ্ছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। তার আগে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের মাঠে শুরু হয়ে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, চলবে ৮ মার্চ পর্যন্ত। যা তাদের চ্যানেল ও ওটিটি-তে সরাসরি সম্প্রচার হবে। ওই এক মাস সন্ধ্যাবেলায় জনতা যে ক্রিকেটমুখী থাকবে, তা নিয়ে বিশেষ সন্দেহ নেই। তবে এ বারের লিগে না থাকলেও কুড়ি বছরের দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে আইএসএলের সঙ্গে নতুন ভাবে, অনেক কম বাজেটে যুক্ত হতে পারে এফএসডিএল, যদি সব পক্ষ সহমত হয়। এ নিয়ে কথাবার্তা চলছে ফেডারেশন ও ক্লাব জোটের মধ্যে।
প্রশ্ন হচ্ছে, পাঁচটি সংস্থা আগ্রহ প্রকাশ করা মানেই কি এরা সকলে বিড করবে? আজকের পর সত্যিই কি আইএসএলের টিভি সম্প্রচার নিয়ে আর চিন্তা থাকল না ফেডারেশনের? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রাক-বিড জিজ্ঞাসার দিনে হাজির হওয়া মানেই বিড করবে এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। করতেও পারে, না-ও করতে পারে। অনেকেই খোঁজখবর নিতে পারে কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বত্ব কিনতে চাইবে কি না, আরও অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে। এর আগেই আইএসএলের জন্য টেন্ডার জমা দিয়েছে ফেডারেশন, কেউ বিড করেনি। তাই আশা-আশঙ্কা দুই-ই থাকছে। তবে প্রাক-বিডে আসা মানে এটুকু বলাই যায় যে, অন্তত একটা প্রাথমিক কৌতূহল রয়েছে। তা ছাড়া যে ভাবে মাসের পর মাস ধরে দেশের এক নম্বর লিগ বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে, ভারতীয় ফুটবল ডুবে রয়েছে আঁধারে, তাতে যে অন্তত প্রাক-বিড প্রক্রিয়ায় একাধিক চ্যানেল বা ওটিটি হাজির ছিল, তা কিছুটা হলেও উৎসাহব্যঞ্জক।
১ ফেব্রুয়ারি বিড জমা পড়ার শেষ দিন। ২ ফেব্রুয়ারি তা খোলা হবে বলে ঠিক আছে। যদি কেউ শেষ পর্যন্ত দরপত্র জমা না দেয়? তা হলে দূরদর্শনের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। কেউ কেউ পরামর্শ দিয়েছেন, প্রত্যেকটি ক্লাবের ইউটিউব চ্যানেলেও ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করার কথা ভাবা হোক। তাতেও অনেক দর্শকের কাছে পৌঁছনো যাবে। ইংরেজি ছাড়াও তিনটি ভাষায় ধারাভাষ্যের কথাও ভাবা হয়েছে। হিন্দি, বাংলা ও মালয়ালম। আইএসএলের যে সূচি তৈরি হয়েছে, তা এ দিন প্রাক-বিডে উপস্থিত পাঁচ সংস্থার কাছে পাঠানো হবে।
তবে টিভি সম্প্রচারের কাজ এগোতে থাকলেও, ফেডারেশন ও ক্লাব জোটের মধ্যে এখনও নানা বিষয় নিয়ে খটাখটি লেগেই রয়েছে। লিগের পরিচালন কাঠামো নিয়ে যে নকশা পাঠিয়েছিল ফেডারেশন, তা ইতিমধ্যেই দু’বার পাল্টাতে হয়েছে। তার পরেও শুক্রবার পর্যন্ত ক্লাব জোটের দিক থেকে তা গৃহীত হয়ে সই হয়ে আসেনি। ফেডারেশন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল, ২২ জানুয়ারি সকাল দশটার মধ্যে পরিবর্তিত প্রস্তাব সই করে পাঠাতে হবে। ক্লাবদের মধ্যে থেকে একমাত্র জামশেদপুর সম্মতি জানিয়ে পাঠিয়েছে। বাকি ১৩টি ক্লাব শুক্রবার রাত পর্যন্ত কিছুই জানায়নি।
ক্লাবদের দিক থেকে সব চেয়ে বেশি আপত্তি উঠেছে ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে তাদের মাত্র পাঁচ সদস্যকে রাখা নিয়ে। এর মধ্যে দু’জন সদস্য আসবেন চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স দল থেকে। অর্থাৎ, বাকি ১২টি দলের মধ্যে থেকে তিন জনকে বাছতে হবে। ক্লাবদের বক্তব্য, কী ভাবে ৯ জনকে বাদ দেবে তারা? কাকে ছেড়ে কাকে নেবে? কেউ মানতেই চাইবে না। তারা চায়, গভর্নিং কাউন্সিলের মতো ম্যানেজমেন্ট কমিটিতেও সব ক্লাবের প্রতিনিধিকে জায়গা দেওয়া হোক। ফেডারেশনের কর্তারা আবার বলছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া তো সব সংস্থাতেই রয়েছে। তা হলে ক্লাবরাই বা তিন সদস্যকে নির্বাচিত করে আনতে পারবে না কেন? মানে জট ছাড়ানোর বদলে ক্রমশ আরও পাকাচ্ছে, যার ফলে লিগের প্রক্রিয়া এখনও বারবার ধাক্কা খাচ্ছে।
এ দিকে, চেন্নাইয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি এ আর রহমানের অনুষ্ঠান রয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি গাড়ি প্রদর্শনী রয়েছে। প্রথম ১০-১২ দিন চেন্নাই তাদের ঘরের মাঠে খেলতে পারবে না। ফেডারেশন থেকে রাজ্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে চেন্নাইয়ের মাঠকে আইএসএলের জন্য যেন দ্রুত আবার তৈরি করে দেওয়া হয়। যাতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঘরের মাঠে খেলা শুরু করতে পারে চেন্নাই।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)