গত মরসুমে আর্সেনাল। এ বার বায়ার্ন মিউনিখ। আরও একবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আট থেকে বিদায় রিয়াল মাদ্রিদের। বুধবার রাতে ৩-৪ (দুই পর্ব মিলিয়ে ৪-৬) হারের জন্য রেফারিকেই কাঠগড়ায় তুললেন ম্যানেজার আলভারো আরবেলোয়া। কিলিয়ান এমবাপেদের স্বপ্নভঙ্গের রাতেই স্পোর্টিং লিসবনের সঙ্গে ০-০ ড্র করে (দুই পর্ব মিলিয়ে ১-০) শেষ চারেউঠল আর্সেনাল।
আলিয়াঞ্জ এরিনায় বুধবার রাতে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের পরতে পরতে নাটক, যা হার মানাবে জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ়কেও। এ ভাবেই হয়তো ব্যাখ্যা করা যায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটে বায়ার্ন বনাম রিয়াল দ্বৈরথকে। ৮৬ মিনিট পর্যন্ত ২-৩ গোলে পিছিয়ে ছিলেন হ্যারি কেন-রা। তখনই এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে লাল (দ্বিতীয় হলুদ) কার্ড দেখান রেফারি। ফলে ১০ জনের রিয়ালের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণ করে বায়ার্ন। ফলও মেলে হাতেনাতে। তিন মিনিট পরে লুইস দিয়াসের গোলে সমতা ফেরায় বায়ার্ন। দুই পর্ব মিলিয়ে ফল তখন বায়ার্নের পক্ষে ৫-৪। কিন্তু না, কিলিয়ান এমবাপেরা প্রত্যাবর্তনের কাহিনি লিখতে পারেননি। বরং দ্বিতীয়ার্ধের সংযুক্ত সময়ে মাইকেল ওলিসের গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। শুধু ম্যাচে ৪-৩ জেতাই নয়, দুই পর্ব মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে জিতে ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়ালকে ছিটকে দেয় বায়ার্ন।
ম্যাচের পরে রিয়াল ম্যানেজারের নিশানায় রেফারি। আরবেলোয়া মনে করছেন ৮৬ মিনিটের মাথায় কামাভিঙ্গার লাল (দ্বিতীয় হলুদ) কার্ড দেখে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরেই বায়ার্ন একের পর এক আক্রমণ করে। ছয় মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে দলের শেষ চার নিশ্চিত করেন যথাক্রমে লুইস দিয়াস এবং মাইকেল ওলিসে। ক্ষুব্ধ আরবেলোয়া রেফারিকে তোপ দেগে বলেছেন, “এ রকম রোমাঞ্চকর ম্যাচে সামান্য কারণে কোনও ফুটবলারকে লাল কার্ড দেখানো মেনে নেওয়া যায় না। প্রচণ্ড হতাশা এবং রাগ হচ্ছে। কারণ এই ম্যাচে আমাদের শেষ চারে ওঠার সুযোগ ছিল।” তিনি যোগ করেছেন, ‘‘আমার মনে হয়, রেফারি জানতেন না যে আগে থেকে কামাভিঙ্গার একটি হলুদ কার্ড দেখা ছিল। তাই তিনি এ রকম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে দারুণ একটি নক-আউট ম্যাচ শেষ হয়ে গিয়েছে। ওই কার্ড দেখানোর আগে পর্যন্ত ম্যাচটি সুন্দর গতিতে চলছিল। উচ্চমানের খেলা হচ্ছিল। কিন্তু রিয়ালকে দশ জনের করে দেওয়ার ফলেই ম্যাচটির ইতি ঘটে।’’ রিয়াল তারকা জুড বেলিংহাম রেফারির সিদ্ধান্তকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। ডিফেন্ডার আন্তোনিয়ো রুডিগার বলেছেন, “আপনারা নিজেরাই সব কিছু দেখছেন। সুতরাং এই বিষয়ে কোনও কথা না বলাই ভাল।”
শেষ আট থেকে বিদায়ের রাতে রিয়াল সমর্থকদের যন্ত্রণা আরও বাড়িয়েছেন বায়ার্ন ম্যানেজার ভিনসেন্ট কোম্পানি। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কোথায় রিয়াল পিছিয়ে পড়েছিল? তিনি বলেছেন, “আমরা দুই পর্বেই হারিনি। প্রত্যেক বারে ওরা যখন গোল করছিল, আমরা কিন্তু জবাব দিয়েছি। হার মানিনি। ছেলেদের এই মানসিকতাই আমাকে মুগ্ধ করেছে।” যোগ করেছেন, ‘‘দুই দলেই উপযুক্ত গুণমানের ফুটবলার রয়েছে। রিয়ালের তো প্রত্যেকটি বিভাগে সেরা ফুটবলাররা রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বলব, ওরা আমাদের মোটেও অবাক করতে পারেনি। কিন্তু ম্যাচে যে নাটকীয়তা, রোমাঞ্চকর মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল তা আমার সারাজীবনমনে থাকবে।”
শেষ চারে বায়ার্নের প্রতিপক্ষ গত বারের চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সঁ জরমঁ। রিয়ালকে হারিয়েই প্রতিপক্ষকে হুঙ্কার দিয়েছেন কোম্পানি। তিনি বলেছেন, ‘‘রিয়াল এবং পিএসজি এখন বিশ্ব ফুটবলের দুই সেরা দল। কিন্তু আমরা এক ইঞ্চিও জমি ছেড়ে দেব না। ওদের হারাতে যা যা অস্ত্র প্রয়োজন সবই আমাদের দলে রয়েছে। মাঠে নেমে জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।”
শেষ চারে আর্সেনাল খেলবে আতলেতিকো দে মাদ্রিদের বিরুদ্ধে। স্পোর্টিং লিসবনের বিরুদ্ধে প্রথম পর্বে ১-০ জিতেছিল ইংল্যান্ডের ক্লাব। বুধবার রাতে ঘরের মাঠে গোলশূন্য ড্র করে দুই পর্ব মিলিয়ে ১-০ জিতে টানা দ্বিতীয়বার শেষ চারে উঠল আর্সেনাল। জিততে না পারলেও ম্যানেজার মিকেল আর্তেতা খুশি দলের খেলায়। ম্যাচের পরে তিনি বলেছেন, ‘‘স্বীকার করছি আমরা নিখুঁত নই। কিন্তু ছেলেরা প্রচুর পরিশ্রম করেছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের ছাড়াই আমরা লক্ষ্যে পৌঁছেছি। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য এই লড়াকু মানসিকতাই সব চেয়েবেশি দরকার।’’
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
বায়ার্ন ৪ -৩ রিয়াল
(দুই পর্ব মিলিয়ে ৬-৪ জয়ী বায়ার্ন)
আর্সেনাল ০ -০স্পোর্টিং লিসবন ০
(দুই পর্ব মিলিয়ে ১-০ জয়ী আর্সেনাল)
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)