কারও বাকি এক ম্যাচ। কারও বাকি দুই। একেবারে শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছে চলতি মরসুমের আইএসএল। কিন্তু কোন দল চ্যাম্পিয়ন হবে, তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না। পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে থাকা দল ও সাত নম্বরে থাকা দলের পয়েন্টের ব্যবধান মাত্র ৩। ফলে এই সাতটি দলেরই সুযোগ রয়েছে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। তবে প্রত্যেকের সামনে আলাদা অঙ্ক। একমাত্র ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ নিজেদের হাতে রয়েছে। বাকিদের অন্য দলের খেলার উপর নির্ভর করতে হবে। কোন অঙ্ক মিললে কোন দল চ্যাম্পিয়ন হবে তা খতিয়ে দেখল আনন্দবাজার ডট কম।
১) ইস্টবেঙ্গল (১১ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট)
(ম্যাচ বাকি- মোহনবাগান, ইন্টার কাশী)
লিগ জেতার সবচেয়ে বেশি সুযোগ রয়েছে ইস্টবেঙ্গলের। তার জন্য ডার্বিতে মোহনবাগানকে হারাতে হবে। ডার্বি জিতলে ইস্টবেঙ্গলের পয়েন্ট হবে ২৫। সে ক্ষেত্রে যদি তারা পরের ম্যাচ হারে, তার পরেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে গোলপার্থক্যে। কারণ, সে ক্ষেত্রে মোহনবাগান সর্বাধিক ২৫ পয়েন্ট পাবে। বাকি দলগুলির মধ্যেও পঞ্জাব ও মুম্বই সর্বাধিক ২৫ পয়েন্ট পেতে পারে। তাদের নিজেদের খেলাও রয়েছে। ফলে ডার্বি জিতলেই ধরে নেওয়া যেতে পারে ভারতসেরা হবে ইস্টবেঙ্গল।
২) মোহনবাগান (১১ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট)
(ম্যাচ বাকি— ইস্টবেঙ্গল, স্পোর্টিং দিল্লি)
ইস্টবেঙ্গলের পর সুযোগ রয়েছে মোহনবাগানের। তবে তার জন্য তাদের ডার্বি জিততেই হবে। শেষ ম্যাচে দিল্লির বিরুদ্ধে অন্তত ড্র করতে হবে। তা হলে মোহনবাগানের পয়েন্ট হবে ২৬। সে ক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গল সর্বাধিক ২৫ পয়েন্টে যেতে পারবে। পঞ্জাব ও গোয়াও ২৫ পয়েন্টের বেশি পাবে না। সে ক্ষেত্রে গত বারের পর এ বারও ভারতসেরা হবে মোহনবাগান।
৩) জামশেদপুর এফসি (১২ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট)
(ম্যাচ বাকি— ওড়িশা)
ওড়িশাকে হারালে জামশেদপুরের পয়েন্ট হবে ২৪। তাদের প্রার্থনা করতে হবে, ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ডার্বি ড্র হোক। শেষ ম্যাচেও দুই প্রধান হারে। পাশাপাশি পঞ্জাব ও মুম্বই একটি করে ম্যাচ ড্র করে। তবেই এই চার দল ২৩ পয়েন্টের বেশি পাবে না। সে ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়ন হবে জামশেদপুর।
৪) বেঙ্গালুরু এফসি (১২ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট)
(ম্যাচ বাকি— চেন্নাইয়িন)
শেষ ম্যাচে চেন্নাইয়িনকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে বেঙ্গালুরুকে। তা হলে তাদের পয়েন্ট হবে ২৩। তার পর সুনীল ছেত্রীদের প্রার্থনা করতে হবে, ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ডার্বি ড্র হোক। শেষ ম্যাচেও দুই প্রধান বড় ব্যবধানে হারে। পাশাপাশি পঞ্জাব ও মুম্বই একটি করে ম্যাচ ড্র করে। তবেই এই চার দল ২৩ পয়েন্টের বেশি পাবে না। সে ক্ষেত্রে গোলপার্থক্যে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে বেঙ্গালুরু। তবে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান গোলপার্থক্যে অনেক উপরে থাকায় বেঙ্গালুরুর সম্ভাবনা অনেকটাই কম।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম। isl
৫) এফসি গোয়া (১২ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট)
(ম্যাচ বাকি— কেরল ব্লাস্টার্স)
বেঙ্গালুরু ও গোয়ার সামনে সমান অঙ্ক। শেষ ম্যাচে কেরল ব্লাস্টার্সকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে গোয়াকে। তা হলে তাদের পয়েন্ট হবে ২৩। তার পর গোয়াকে প্রার্থনা করতে হবে, ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ডার্বি ড্র হোক। শেষ ম্যাচেও দুই প্রধান বড় ব্যবধানে হারে। পাশাপাশি পঞ্জাব ও মুম্বই একটি করে ম্যাচ ড্র করে। তবেই এই চার দল ২৩ পয়েন্টের বেশি পাবে না। সে ক্ষেত্রে গোলপার্থক্যে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে গোয়া। তবে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান গোলপার্থক্যে অনেক উপরে থাকায় গোয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম।
৬) পঞ্জাব এফসি (১১ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট)
(ম্যাচ বাকি— ওড়িশা, মুম্বই)
পঞ্জাবের হাতে এখনও দু’টি ম্যাচ রয়েছে। ওড়িশা ও মুম্বই দুই দলকেই হারাতে হবে তাদের। তা হলে পঞ্জাবের পয়েন্ট হবে ২৫। তাদের প্রার্থনা করতে হবে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান যেন তাদের শেষ দুই ম্যাচে ২ পয়েন্টের বেশি না পায়। দুই প্রধানের দু’টি ম্যাচ ড্র হলে সর্বাধিক ২৪ পয়েন্ট হবে তাদের। সে ক্ষেত্রে বাকি কোনও দলই ২৫ পয়েন্ট পাবে না। চ্যাম্পিয়ন হবে পঞ্জাব।
৭) মুম্বই সিটি এফসি (১১ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট)
(ম্যাচ বাকি— মহমেডান, পঞ্জাব)
মুম্বইয়ের অঙ্কটাও একই। মহমেডান ও পঞ্জাবকে হারাতে হবে তাদের। তা হলে মুম্বইয়ের পয়েন্ট হবে ২৫। তাদের প্রার্থনা করতে হবে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান যেন তাদের শেষ দুই ম্যাচে ২ পয়েন্টের বেশি না পায়। দুই প্রধানের দু’টি ম্যাচ ড্র হলে সর্বাধিক ২৪ পয়েন্ট হবে তাদের। সে ক্ষেত্রে বাকি কোনও দলই ২৫ পয়েন্ট পাবে না। আরও এক বার চ্যাম্পিয়ন হবে মুম্বই।