ফুটবল বিশ্বকাপ খেলতে আমেরিকায় দল পাঠাবে ইরান? পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং কিছু দিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া প্রচ্ছন্ন হুমকির পর পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। তবে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে আয়োজিত ফিফা কংগ্রেসে ইরান সম্পর্কে সুর নরম করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। যদিও ফিফা সভাপতির ইজ়রায়েল-প্যালেস্টাইন সন্ধির চেষ্টা ভেস্তে গেল মঞ্চেই।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘‘শুরুতেই একটা বিষয় পরিষ্কার করে দিতে চাই। সেটা হল, আসন্ন বিশ্বকাপে ইরান অবশ্যই অংশগ্রহণ করবে এবং তাদের ম্যাচগুলো আমেরিকাতেই হবে। কারণ খুব সহজ। প্রিয় বন্ধুরা আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এটা আমার দায়িত্ব। এটা আমাদের দায়িত্ব। ফুটবল বিশ্বকে এক করে। ফিফা বিশ্বকে একসূত্রে বাঁধে। আপনারা সকলে মিলে বিশ্বকে এক করেন। আমরা বিশ্বকে এক করি।’’
এর পর নিজের ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘‘জিয়ান্নি যখন বলেছেন, আমার আর কোনও আপত্তি নেই। জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এটা আমাদের কাজের একটা অংশ। ওদের খেলতে দাও। জিয়ান্নি আমার বন্ধু। অসাধারণ মানুষ। ও এটা নিয়ে আমার সঙ্গে আগেই কথা বলেছিল। বলেছিলাম, ‘তোমার যা ইচ্ছা কর।’ তুমি ওদের নিতে পার। আবার না নিলেও হবে। কিন্তু ওদের দল কি ভাল? এটা বিশ্বাস করা কঠিন। তা-ও বলব, ওদের খেলতে দেওয়া উচিত।’’
ফুটবল বিশ্বকাপের আগে বিশ্বকে একসূত্রে বাঁধার ইনফান্তিনোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে ফিফা কংগ্রেসেই। নিজের প্রশাসনিক দক্ষতা দেখানোর জন্য তিনি মঞ্চে একসঙ্গে ডাকেন প্যালেস্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজুব এবং ইজ়রায়েলের ফুটবল সংস্থার প্রতিনিধি তথা সহ-সভাপতি শেখ সুলিমানকে। দু’জনে মঞ্চে ওঠার পর ইনফান্তিনো বলেন, ‘‘আগামী বছর ফিফা সভাপতি নির্বাচনে আমি প্রার্থী হব। আমি চেয়েছি, আপনারাই সকলের আগে বিষয়টি জানুন। আপনাদের উৎসাহ এবং সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ।’’ এ কথা বলার পর রাজুব এবং সুলিমানের সঙ্গে করমর্দন করেন ফিফা সভাপতি। কিন্তু সুলিমানের সঙ্গে হাত মেলাতে রাজি হননি রাজুব। এমনকি একসঙ্গে ছবি তোলা নিয়েও আপত্তি জানান। স্বাভাবিক ভাবেই অপ্রস্তুত ইনফান্তিনো পরিস্থিতি সামাল দিতে বলেন, ‘‘আমরা একসঙ্গে কাজ করব। সভাপতি রাজুব এবং সহ-সভাপতি সুলিমান আসুন শিশুদের আশা জোগাতে আমরা একসঙ্গে কাজ করি। এগুলো জটিল বিষয়।’’
আরও পড়ুন:
এ নিয়ে প্যালেস্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি সুসান শালাবিকে প্রশ্ন করা হয় করমর্দন করতে না চেয়ে রাজুব কী বলেছিলেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘‘রাজুব বলেছেন, ‘ইজ়রায়েলিরা তাদের ফ্যাসিবাদ এবং গণহত্যাকে ধামাচাপা দিতে যাঁকে নিয়ে এসেছে, আমি তাঁর সঙ্গে করমর্দন করতে পারব না। আমরা ওদের জন্য কষ্ট পাচ্ছি।’’’