×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৯ জুন ২০২১ ই-পেপার

বক্সিং ডে টেস্ট কী?

নিজস্ব প্রতিবেদন
২৬ ডিসেম্বর ২০১৭ ১৬:০০
চলতি অ্যাশেজে বক্সিং ডে টেস্টে শতরানের পর ডেভিড ওয়ার্নার। ছবি: রয়টার্স।

চলতি অ্যাশেজে বক্সিং ডে টেস্টে শতরানের পর ডেভিড ওয়ার্নার। ছবি: রয়টার্স।

ক্রিকেট সার্কিটে বেশ জনপ্রিয় বক্সিং ডে টেস্ট। অস্ট্রেলিয়া এবং সে দেশে সফররত কোনও জাতীয় দলের মধ্যেই বক্সিং ডে টেস্ট ম্যাচ খেলা হয়। একমাত্র মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড(এমসিজি)-এ হয় বক্সিং ডে টেস্ট।

কিন্তু হঠাৎ করে টেস্ট ম্যাচের নাম বক্সিং ডে কেন দেওয়া হল?

এর উত্তর খুঁজতে গেলে আগে জানতে হবে, বক্সিং ডে বিষয়টা কী। ২৫ ডিসেম্বর বড় দিন। এর ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ২৬ ডিসেম্বরকে বলা হয় বক্সিং ডে।

Advertisement

অক্সফোর্ড ইংরাজি অভিধান অনুযায়ী ১৮৩০-এর সময় ক্রিসমাসের পর ছুটির দিন হিসেবে ২৬ ডিসেম্বরকে পালন করা হত। সেই দিন ডাক পিয়ন, সংবাদ বাহক এবং বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বাক্স ভর্তি উপহার দেওয়ার একটা চল ছিল। সারা বছর দেশের মানুষকে নিঃস্বার্থ ভাবে সেবা করার উপহার হিসেবে তাঁদের এই উপহার দেওয়া হত। আর এই কারণেই ২৬ডিসেম্বরকে বক্সিং ডে বলা হয়ে থাকে। স্যামুয়েল পেপিস-এর ডাইরিতেও এর উল্লেখ আছে।

ইংল্যান্ডে বক্সিং ডে প্রথম শুরু হয়েছিল। তবে শুধু ইংল্যান্ডে নয়,ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে বেড়ে ওঠা বিভিন্ন দেশে ২৬ ডিসেম্বর বক্সিং ডে পালন করা হয়। স্পেনে কাতালানরাও এই দিনটি পালন করে থাকেন।

এই দিনে কোনও টেস্ট ম্যাচ এমসিজি-তে অস্ট্রেলিয়া খেললে সেই ম্যাচকে বক্সিং ডে টেস্ট বলা হয়ে থাকে। তবে বক্সিং ডে ক্রিকেট প্রথম শুরু হয় ১৮৯২ সালে শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে ভিক্টোরিয়া এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের ম্যাচ দিয়ে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম বক্সিং ডে টেস্ট খেলা হয় ১৯৫০ সালে। ম্যাচটি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া এবং তাদের চির প্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মধ্যে। ১৯৫০-৫১ এ অ্যাশেজে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। যদিও ম্যাচটি শুরু হয়েছিল ২২ ডিসেম্বর। কিন্তু পাঁচ ম্যাচের টেস্টে ২৬ ডিসেম্বর পড়ায়, এই টেস্টকেই প্রথম বক্সিং ডে টেস্টের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৯৮০ সালের আগে পর্যন্ত এমসিজিতে মোট চারটি বক্সিং ডে টেস্ট খেলা হয়েছিল(১৯৫২, ১৯৬৮, ১৯৭৪, ১৯৭৫)।

আরও পড়ুন: স্টেনকে ভয় নেই, মত ভাজ্জির

আরও পড়ুন: আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলেন উনাদকাট

১৯৭৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় সফররত ক্লাইভ লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দিনই বক্সিং ডে টেস্টের উত্তেজনার সাক্ষী থাকতে গ্যালারিতে ভিড় জমিয়েছিলেন ৮৫ হাজার ৫৯৬ সমর্থক। ওই টেস্টের মোট দর্শক সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৭৫৫। ম্যাচটি ৮ উইকেটে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া।

বিভিন্ন সময় বিক্ষিপ্ত ভাবে বক্সিং ডে টেস্ট খেলা হলেও ১৯৯০ থেকে বক্সিং ডে টেস্ট অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের সূচিতে নিয়মিত ভাবে জায়গা করে নেয়।

বক্সিং ডে টেস্টের কিছু খুঁটিনাটি:

বক্সিং ডে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যের হার ৭০ শতাংশ, যেখানে সফল বিদেশি দল হিসেবে নিঃসন্দেহে এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড। চারটি বক্সিং ডে টেস্টই জিতেছে ইংল্যান্ড। অন্য দিকে, ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা এমসিজিতে কখনও বক্সিং ডে টেস্ট জিততে পারেনি। ২০০৮ সালে বক্সিং ডে টেস্ট জিতে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম সিরিজ জেতে দক্ষিণ আফ্রিকা। বিগত ৩০ বছরে একটিও বক্সিং ডে টেস্ট খেলেনি নিউজিল্যান্ড।

বক্সিং ডে টেস্টে ভারত:

১৯৮৫ সাল থেকে এমসিজিতে মোট ৭টি বক্সিং ডে টেস্ট খেলেছে ভারত যার মধ্যে পাঁচটিতেই হারতে হয়েছে টিম ইন্ডিয়াকে। বাকি দু’টি টেস্ট ড্র হয়েছে। সাতটি টেস্টের মধ্যে সব থেকে উত্তেজক এবং নাটকীয় ম্যাচ ছিল ২০০৩-০৪ এ খেলা ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়ার বক্সিং ডে টেস্ট। ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়া জিতলেও দুরন্ত পারফরম্যান্স ছিল বীরেন্দ্র সহবাগের। ১৯৫ রান করেছিলেন বীরু।

Advertisement