দেশের মাঠে এখনও টেস্ট অভিষেক হয়নি তাঁর। আর বিদেশে ছ’টা টেস্ট খেলে করে ফেললেন তিনটে সেঞ্চুরি। সাবাইনা পার্কে লোকেশ রাহুলের সেঞ্চুরিতে ভর দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে খুব ভাল জায়গায় চলে যাচ্ছে ভারত। চা বিরতির ঠিক আগে ১৫০-র ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছন লোকেশ রাহুল। অবশেষে ১৫৮ রানে আউট হয়ে শেষ হয় লোকেশের রাজকীয় ইনিংস। পাশাপাশি বিরাট কোহালি ২৭ ব্যাটিং। চেতেশ্বর পূজারা ৪৬ রানে রান আউট হয়ে ফিরে গিয়েছেন। ৯৮ ওভার শেষে ভারতের স্কোর ২৮০-৩।
এই টেস্টে অবশ্য খেলার কথাই ছিল না রাহুলের। মুরলী বিজয় চোট পাওয়ার পর রাহুলের সামনে আবার টেস্টের দরজা খুলে যায়। কিন্তু পাশাপাশি আবার ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকেও একটা সমস্যায় ফেলে দিচ্ছেন তিনি। মুরলী বিজয় সুস্থ হলে বসবেন কে? এই টেস্টে অবশ্য শিখর ধবন প্রথম দিনে ২৭ করে ফিরে যান। ক্যারিবিয়ানদের প্রথম ইনিংস গত কালই ১৯৬ রানে শেষ দেন ভারতীয় বোলাররা। অশ্বিনের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং। ৩৪ টেস্টে এই নিয়ে অশ্বিনের আঠারোতম পাঁচ উইকেট। লোকেশ দিনের শেষে ৭৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। এ দিন রস্টন চেজকে মিড অনের উপর দিয়ে ছয় মেরে সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান কর্নাটকের ব্যাটসম্যান।
বলা হয়, সাবাইনা পার্ক ব্যাটসম্যানদের স্বর্গ নয়। গত দু’দশকে এই মাঠে টেস্টের ব্যাটিং গড়ও সেই কথা বলছে। ২৫.৫৫। সাবাইনা পার্কের বিরল সেঞ্চুরিয়ানদের মধ্যে এ বার নাম লিখিয়ে ফেললেন লোকেশও। যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্থানীয় তারকা মার্লন স্যামুয়েলসকে পর্যন্ত রানের খাতা খুলতে আগের দিন প্রায় ১০ ওভার অপেক্ষা করতে হয়েছে, এ দিন সেখানেই দাপট দেখালেন বেঙ্গালুরুর এই ওপেনার।
প্রথম দিন ভারতীয় বোলাররা যে ফর্মে ছিলেন, তার ধারে কাছেও পৌঁছতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলিং। গত দিন চেজের ধবনকে ফেরানো ছাড়া আর কোনও সাফল্য নেই কোনও ক্যারিবিয়ান বোলারের। উইকেটে যে আর্দ্রতা ছিল আগের দিন, ততটা এ দিন ছিল বলে ক্যারিবিয়ানদের বোলিং দেখে মনে হয়নি। গতি ও বাউন্সও ক্রমশ কমছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারই সুবিধা তুলে নেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা।