Advertisement
E-Paper

মানসিক যুদ্ধে জিতেছি, অভিনব খোলা চিঠি জোকারের

ফাইনালে কেভিন অ্যান্ডারসনকে হারিয়ে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সেই মুহূর্তে নোভাকের পাশে ছিলেন তাঁর তিন বছরের ছেলে স্টেফান।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২১ জুলাই ২০১৮ ০৩:৫৮
প্রেরণা: উইম্বলডনে ট্রফি জেতার পরে নোভাক জোকোভিচ। ছবি: রয়টার্স।

প্রেরণা: উইম্বলডনে ট্রফি জেতার পরে নোভাক জোকোভিচ। ছবি: রয়টার্স।

চোট সারিয়ে সার্কিটে ফিরে উইম্বলডনে সাফল্য পেতে সবার আগে মানসিক প্রতিবন্ধকতা জয় করতে হয়েছে নোভাক জোকোভিচকে।

বন্ধুদের এবং পরিবারের সদস্যদের লেখা খোলা চিঠিতে জোকার নিজেই জানিয়েছেন সে কথা। সার্বিয়ান মহাতারকার সেই চিঠি বড়ই আবেগময়। দু’বছর পরে আবার গ্র্যান্ড স্ল্যামের ট্রফি হাতে ধরতে পেরে এতটাই তিনি খুশি যে, নিজের অনুভূতি জানাতে এই চিঠি লিখেছেন। জোকোভিচের কথায়, ‘‘আমার এই সাফল্যের রহস্য একটাই। টেনিস, জীবনের অগ্রাধিকার ও পরিবারের মধ্যে সোনালি ভারসাম্য তৈরি করা।’’

গ্র্যান্ড স্ল্যামে ভাল করতে পারছিলেন না দু’বছর ধরে। সেই অন্ধকার সময়কার কথা বলতে গিয়ে লিখছেন, ‘‘কত দিন ধরে কত রকম ভাবে এই সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বুঝলাম, অন্য কোথাও নয়, সমাধান লুকিয়ে আছে আমার নিজের ভিতরেই।’’

গ্যালারিতে তাঁর পরিবার।

ফাইনালে কেভিন অ্যান্ডারসনকে হারিয়ে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সেই মুহূর্তে নোভাকের পাশে ছিলেন তাঁর তিন বছরের ছেলে স্টেফান। ‘‘যত দিন বাবা হইনি, যত দিন বিয়ে করিনি, তত দিন টেনিসই আমার কাছে সব কিছু ছিল। কিন্তু এখন ছবিটা অন্য রকম। স্বপ্ন দেখতাম আর প্রার্থনা করতাম, এক দিন নিশ্চয়ই আমি আমার ছেলের সামনে গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফি হাতে ধরব,’’ লিখেছেন নোভাক। সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘‘মাঝে-মাঝেই আমি ভেঙে পড়েছি ঠিকই, কিন্তু তা নিয়ে আমার কোনও লজ্জাবোধ নেই।’’

জোকোভিচের কনুই নিয়ে প্রথম সমস্যা দেখা দেয় ২০১৬ সালে। তার পর দু’বার তিনি টেনিস থেকে সাময়িক বিরতি নেন। ফলে বিশ্ব ক্রমতালিকায় প্রথম কুড়ির বাইরেও চলে যান নোভাক। সেই অর্থে ঘুরে দাঁড়ানো শুরু এ’বছর ঠিক উইম্বলডনের আগে ইস্টবোর্ন টেনিসের ফাইনালে উঠে। এবং উইম্বলডনে ট্রফি জয়ের আগে আরও বড় সাফল্য রাফায়েল নাদালকে হারানো। সার্বিয়ান মহাতারকার র‌্যাঙ্কিং এখন ১০ নম্বর। তিনি লিখেছেন যে, ২০১৭ সালে তাঁর সব চেয়ে বড় সমস্যাটা ছিল নিজেকে উদ্বুদ্ধ করা। ‘‘সে সব সংশয়পূর্ণ সময়’’ মন্তব্য করে তাঁর সংযোজন, ‘‘মনে হচ্ছিল আমার জীবনটাই বোধহয় এ বার অন্য কোনও দিকে মোড় নেবে। হয়তো এক দিন আরও গভীর ভাবে বলতে পারব যে, ঠিক কী ধরনের চ্যালেঞ্জের সামনে পড়েছিলাম, এই সময়টাতে আমার মনের অবস্থাটা কেমন ছিল। শেষ কয়েক বছর বার বার ভেঙে পড়েছি। আমি এখনও হয়তো মনটাকে অতটা শক্ত করতে পারিনি। হয়তো আবার কখনও ভেঙে পড়ব। তবে তার জন্য আমি একটুও লজ্জিত নই।’’

চিঠিতে নোভাক লিখেছেন, ‘‘আসলে এখন বুঝছি, এই পরিস্থিতি আমাকে সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। নিজেকে বার বার প্রশ্ন করে দেখেছি, আমার নিজের ভিতরে ঠিক কী কী ঘটে যাচ্ছে।’’

উইম্বলডন জিতে উঠেই ছেলের কথা বলেছিলেন জোকোভিচ। চিঠিতে আরও বিস্তারিত ভাবে লিখেছেন, ‘‘ছেলে স্টেফানের সামনে উইম্বলডন জিততে পারায় আমার জীবনের একটা বড় স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। স্বপ্ন সত্যি করে যখন ছেলে আমায় ‘ড্যাডি-ড্যাডি’ বলে ডেকে উঠল, তখন খুবই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। এমন একটা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পেরে আমি যে, নিজেকে কতখানি ধন্য মনে করেছি, তা বলে বোঝাতে পারব না!’’

—ফাইল চিত্র।

Tennis Novak Djokovic Wimbledon
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy