Advertisement
E-Paper

ইচ্ছেশক্তির জোরে তেকাঠি ভেদ মাকড়দহের ফৈয়াজের

প্রায় দশ বছর আগে ছেলেটি যখন প্রথম ফুটবল শিখতে শুরু করেছিল তখন সে ছিল কিশোর। ছিপছিপে চেহারার সেই কিশোরকে দিন কয়েক দেখার পরেই তাঁর কোচ বুঝেছিলেন, সুযোগ পেলে এই ছেলে অনেক দূর যেতে পারে। তাঁর অনুমান ভুল হয়নি।

অভিষেক চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০১৭ ০২:৩২
অনুশীলন: প্রশিক্ষকের নজরদারিতে। নিজস্ব চিত্র

অনুশীলন: প্রশিক্ষকের নজরদারিতে। নিজস্ব চিত্র

প্রায় দশ বছর আগে ছেলেটি যখন প্রথম ফুটবল শিখতে শুরু করেছিল তখন সে ছিল কিশোর। ছিপছিপে চেহারার সেই কিশোরকে দিন কয়েক দেখার পরেই তাঁর কোচ বুঝেছিলেন, সুযোগ পেলে এই ছেলে অনেক দূর যেতে পারে। তাঁর অনুমান ভুল হয়নি।

হাওড়ার ডোমজুড়ের মাকড়দহ গ্রামের কাটলিয়া এলাকার বাসিন্দা সেই ছেলেটির নাম শেখ ফৈয়াজ। এখন বয়স হল ২২। মহমেডান স্পোর্টিংয়ের এই ফুটবলার এ বার সদ্য সমাপ্ত সন্তোষ ট্রফিতে বাংলা দলের অন্যতম ভরসা ছিলেন। তিনি ইতিমধ্যেই অনূর্ধ্ব ১৯ ভারতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করে ফেলেছেন। মাঝমাঠ এবং আক্রমণ দুই পজিশনেই সমান সচ্ছন্দ এই ছেলেটির হাতেখড়ি স্থানীয় মাকড়দহ ইউনাইটেড ফুটবল কোচিং ক্যাম্পে। তার পর মৌড়ি স্পোর্টিং, হাওড়া ইউনিয়নের মতো কয়েকটি ক্লাব হয়ে মহামেডান স্পোর্টিং। গোয়ায় অনূর্ধ্ব ১৯ ভারতীয় দলের আবাসিক শিবিরে ছিলেন প্রায় তিন বছর। সেই দলের হয়ে বিদেশ সফরে গিয়েছেন। গোলও করেছেন। সেখানে বিদেশি কোচের কাছে শিখেছেন আধুনিক ফুটবলের নানান খুঁটিনাটি। এ বার গোয়ায় অনূর্ধ্ব ২৩ ভারতীয় দলের শিবিরেও ডাক পেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ভোলেননি নিজের শিকড়। সুযোগ পেলে নিজের প্রথম ক্লাব মাকড়দহ ইউনাইটেড কোচিং ক্যাম্পের হয়েও মাঠে নামেন।

নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের এই ছেলেটি কয়েক বছর আগে বিদ্যুৎ দফতরে চাকরি পেয়েছেন। বাবা আতর বিক্রি করেন। ফৈয়াজ নিজের ফুটবল জীবনের প্রথম গুরু বলে মানেন মাকড়দহ ইউনাইটেড ফুটবল কোচিং ক্যাম্পের কোচ তথা প্রাক্তন ফুটবলার অরূপ শ্রীমানীকে (বাবলা)। মাকড়দহ রেল স্টেশন সংলগ্ন মাঠে দশ বছরের বেশি সময় ধরে ফুটবলার তৈরির কাজ করছেন রেলে কর্মরত অরূপবাবু। তিনি জানালেন, ফৈয়াজ ছোটবেলায় অন্য ছেলেদের মতোই পাড়ার মাঠে ফুটবল পেটাত। সেখানেই তাঁর স্কিল চোখে পড়ে যায় কয়েকজনের। তাঁদের মধ্যেই একজন ফৈয়াজকে তাঁর কাছে নিয়ে আসেন। নিজের অন্যতম প্রিয় শিষ্যের সাফল্য গর্বিত অরূপবাবু বলেন, ‘‘ফৈয়াজ ঠিক সময়ে অনুশীলনে আসে। মাঠের মধ্যে ওঁর পজিশন জ্ঞানও তারিফ করার মতো। তবে দেশের সিনিয়র দলে সুযোগ পেতে হলে ওঁকে আরও শৃঙ্খলাপরায়ণ হতে হবে।’’

Advertisement

ফৈয়াজের যে শৃঙ্খলাপরায়ণ তার প্রমাণ মিলেছিল গত ২৭ মার্চ। সে দিন সকালেই সন্তোষ জয়ী গোয়া দলের বাকিদের সঙ্গে বাড়ি ফিরেছিল মাকড়দহের এই ছেলে। সেই দিনই হাওড়া জেলা ফুটবল লিগে মাকড়দহ ইউনাইটেডের একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলা ছিল। তাই বাড়িতে ফিরে কয়েক ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়েই সেই ম্যাচে নিজের প্রথম ক্লাবকে জেতাতে মাঠে নেমেছিলেন তিনি।

সুনীল ছেত্রীর ভক্ত এই ফুটবলারের কথায়, ‘‘আমার পরিবার পাশে না থাকলে এই জায়গায় আসতে পারতাম না। ফুটবল আমার দ্বিতীয় মা। তার জন্য নিজের সবটুকু নিংড়ে দেওয়ার চেষ্টা করি।’’

স্বভাব লাজুক এই ফুটবলারের এখন লক্ষ্য, জুনিয়র দলের পরে দেশের সিনিয়র দলের প্রতিনিধিত্ব করা।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy