সুর নরম হয়েছিল শনিবার রাতেই। রবিবার আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকরা শেষ পর্যন্ত সহমত হলেন যে অচলাবস্থা কাটাতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের আলোচনায় যেতেই হবে।

তবে শুক্রবার থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত যে দাবিতে তাঁরা অনড় ছিলেন, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাও তাঁরা করতে পারছেন না। সূত্রের খবর, তাই আলোচনার জন্য তাঁরা খুঁজছেন অন্য পথ।

আন্দোলনকারীদের সূত্রেই খবর, জুনিয়র চিকিৎসকরা এখন দু’টি বিষয়ে আপাতত সহমত— মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হবে, কিন্তু সেই বৈঠক নবান্নে হবে না। তবে কোথায় হবে সেই বৈঠক?

আরও পড়ুন: অবস্থানে অনড় থেকে রফাসূত্রের খোঁজ, আলোচনা রাজ্যপালের দ্বারস্থ হওয়া নিয়েও​

সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আন্দোলনকারীরা ফের রবিবার দুপুরে বসছেন জেনারেল বডি বা জিবি-র বৈঠকে। কিন্তু বৈঠকে বসার আগেই কার্যত আড়াআড়ি ভাবে বিভক্ত আন্দোলনকারীরা।

সূত্রের খবর, একটি বড় অংশ চাইছেন মুখ্যমন্ত্রীকে প্রস্তাব দেওয়া হোক তাঁরা রাজভবনে তাঁর সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। আবার অন্য একটি অংশের দাবি, রাজভবন-নবান্ন নয়, বৈঠক হোক তৃতীয় কোনও জায়গায়। একটি ছোট অংশ এখনও অনড় থাকার চেষ্টা করছেন পুরনো দাবিতে, অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রীকে এনআরএস-এ এসে বৈঠক করতে হবে। তবে সেই দলের আওয়াজ গুরুত্ব পাচ্ছে না সংখ্যালঘু হয়ে যাওয়ায়।

সূত্রের খবর, রাজভবনকে টার্গেট করেই এগোতে চাইছেন আন্দোলনকারীদের বড় একটি অংশ। এবং শেষ পর্যন্ত রফা সূত্র খুঁজে পেতে তাঁরা রাজ্যপালের দ্বারস্থ হওয়ার পক্ষপাতী। রাজ্যপালের কাছে সরকারের সঙ্গে মধ্যস্থতার আবেদনের প্রস্তাব দিতে চান আন্দোলনকারীদের একটি বড় অংশ।

আরও পড়ুন: আন্দোলন এ বার ঔদ্ধত্যে পৌঁছচ্ছে

রবিবার আন্দোলনকারীদের জিবি বৈঠকের আগেই এনআরএস-এ পৌঁছন স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা প্রদীপ মিত্র। সঙ্গে ছিলেন এনআরএসের পদত্যাগী সুপার শৈবাল মুখোপাধ্যায়। তাঁরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একদফা বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পর আন্দোলনকারীরা নিজেরা বৈঠক করে ঠিক করবেন কোন পথে খুঁজবেন রফা সূত্র। আন্দোলনকারীদের একাংশ স্বীকার করেন, এই অচলাবস্থার কারণে যে ভাবে স্বাস্থ্য পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছে, তাতে তাঁদের আন্দোলন এত দিন যে সমর্থন পেয়েছে, সেই সমর্থনে ভাটা পড়বে। দ্রুত জনসমর্থন হারাবেন তাঁরা।

আর তাই আন্দোলনের সম্মানজনক একটি পরিসমাপ্তির জন্য একটি রফাসূত্র খুঁজে পেতে এখন মরিয়া আন্দোলনকারীরাও। তবে সেই রফা সূত্র কতটা মিলবে তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। কারণ রাজ্যপাল মধ্যস্থতায় কতটা রাজি হবেন তার উপর নির্ভর করছে বাকি বিষয়গুলি। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের মধ্যে আড়াআড়ি বিভাজন আশঙ্কা তৈরি করেছে খোদ আন্দোলনকারীদের মধ্যেই। আর তাই রবিবারের জিবি বৈঠক থেকেই গত ছ’দিন ধরে চলা অচলাবস্থা কাটার সূত্র মিলতে পারে বলে আশাবাদী স্বাস্থ্যকর্তারা।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।