তাঁর এজলাস বয়কট করে সরকারি আইনজীবীরা তাঁর চেয়ারকে অপমান করছেন বলে মন্তব্য করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। সোমবার এজলাসে বসে বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, তিনি সরকারি আইনজীবীদের সিদ্ধান্তের পরোয়া করেন না। কারণ, তিনি কোন কোন মামলা শুনবেন, তা ঠিক করে দিয়েছেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। সরকার ঠিক করে দেয়নি।

গঙ্গারামপুর পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা বৈঠক নিয়ে মামলা দায়ের করার জন্য কয়েক জন আইনজীবী এ দিন সকালে বিচারপতি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিচারপতিকে অনুরোধ করা হয়, এ দিনই বিষয়টির শুনানি হোক। বিচারপতি জানান, সরকার পক্ষকে মামলার নোটিস দিতে হবে। তিনি জানতে চান, তাঁর এজলাসে সরকার পক্ষের কোনও আইনজীবী আছেন কি না। তখন ওই এজলাসে হাজির ছিলেন তৃণমূলের হাইকোর্ট সেলের নেতা তথা আইনজীবী ভাস্কর বৈশ্য। তিনি জানান, সরকারি আইনজীবীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বিচারপতি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে মামলা লড়তে আসবেন না। কারণ তাঁদের অপমানিত হতে হচ্ছে। অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তকে তাঁরা এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতির কার্যালয়েও বিষয়টি জানানো হবে।

বিকেলে হাইকোর্ট-চত্বরে দাঁড়িয়ে ভাস্করবাবু বলেন, ‘‘ওই এজলাসে অ্যাডভোকেট জেনারেলকে (এজি) অপমানিত হতে হয়েছে। আজও এক সরকারি আইনজীবী অপমানিত হয়েছেন। সরকার পক্ষের আইনজীবী হলেই অপমানিত হতে হবে, এমনটা বেশি দিন চলতে পারে না।’’

বিকেলে বনগাঁ পুরসভার মামলার শুনানিতে বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় অন্য আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘প্রধান বিচারপতির কাছে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। সরকারি আইনজীবীদের সিদ্ধান্তের পরোয়া করি না।’’ বনগাঁর পুরপ্রধান শঙ্কর আঢ্যের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে কয়েক জন কাউন্সিলর যে-সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাকে বৈধতা দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। সেই মামলায় এত দিন সরকারের হয়ে এজি বা অতিরিক্ত এজি সওয়াল করছিলেন। কিন্তু এ দিন সরকার পক্ষের কেউ ছিলেন না। পরে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, অরুণাভ ঘোষ-সহ ১১৬ জন আইনজীবী প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়ে জানান, সরকারি আইনজীবীরা এ ভাবে এজলাস বয়কট করতে পারেন না, এটা নিয়মবিরুদ্ধ।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।