কথা ছিল ১ এপ্রিল থেকে যুবসাথীর টাকা আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে। কিন্তু শনিবার সকালে ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ১ এপ্রিল নয়, শনিবার থেকেই যুবসাথীর টাকা ঢুকবে অ্যাকাউন্টে। সেই ‘উপহার’ সন্ধ্যা গড়াতেই আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকে গিয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, যুবসাথীতে আবেদনকারীদের মধ্যে যাঁদের আবেদনপত্র খুঁটিয়ে দেখার পর মঞ্জুর করা হয়েছে, তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে গিয়েছে।
চলতি বছর রাজ্যের অন্তর্বর্তিকালীন বাজেটে যুবসাথী প্রকল্প চালু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তখন বলা হয়েছিল, ১৫ অগস্ট থেকে প্রকল্পটি চালু হবে। পরবর্তী কালে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে ১ এপ্রিল থেকে প্রকল্প চালুর নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে শনিবার ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা বলেন, ‘‘বলেছিলাম, ১ এপ্রিল থেকে যুবসাথীর টাকা অ্যাকাউন্টে যাবে। কাল আন্তর্জাতিক নারী দিবস রয়েছে। তার উপহার হিসাবে ১ এপ্রিলের দিন পরিবর্তন করে, শনিবার থেকেই তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা যাবে।’’
আরও পড়ুন:
মমতার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা কাটার পর সন্ধ্যায় চন্দ্রিমা ধর্নামঞ্চ থেকে বলেন, ‘‘যুবসাথীর ১,৫০০ টাকা ঢুকে গিয়েছে। দিদি সকালে বলেছিলেন। বিকেলে ঢুকে গিয়েছে।’’ কিছু ক্ষণ পরে মমতা যখন বক্তৃতা করতে ওঠেন, তখন ধর্মতলার ভিড়ে কয়েক জনের হাতে প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। তাতে লেখা, ‘যুবসাথীর ১,৫০০ টাকা পেয়েছি। ধন্যবাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’’ বক্তৃতার মাঝে তা নজরে পড়ে মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি জানতে চান, ‘‘পেয়েছ? আজ থেকেই ছেড়েছি।’’
মমতা সকালেই জানিয়েছিলেন, ১ থেকে ৪০ বছর বয়সি ৯০ লক্ষ থেকে এক কোটি ছেলেমেয়ে দরখাস্ত করেছেন, যাঁরা অন্য কোনও সাহায্য নেন না। উল্লেখ্য, যুবসাথীর সুবিধা পেতে রাজ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। এই জেলা থেকে মোট ৯ লক্ষ ৩৪ হাজার ২৮৫টি আবেদন জমা পড়েছে। তার পরেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ। সেখানে ৭ লক্ষ ১৪ হাজার ১৩৩টি আবেদন জমা পড়েছে। যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধা চেয়ে উত্তর ২৪ পরগনায় ৭ লক্ষ ২০ হাজার ৭০টি আবেদন জমা পড়েছিল।