গরম ক্রমেই বাড়ছে। তাপমাত্রার পারদ যত চড়ছে, ততই শরীরে অস্বস্তি বাড়ছে। ঘরে ঘরে চলছে বাতানুকূল যন্ত্র। তবে দিনভর এসি চালিয়ে রাখা ব্যয়সাপেক্ষ। তাই এসির পাশাপাশি সঙ্গী হয়েছে এয়ার কুলারও। এটি বাতাসের তাপমাত্রা কমিয়ে ঘরকে শীতল করে ঠিকই, কিন্তু এর কার্যপদ্ধতি এসির চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। কুলার মূলত জলের বাষ্পীভবন ঘটিয়ে ঘর ঠান্ডা করে, যা ঘরের আর্দ্রতার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এয়ার কুলার যদি বেশি ক্ষণ চালাতে হয় তা হলে নিয়ম মানতে হবে। বিশেষ করে রাতে যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা এয়ার কুলার চালাতে হয়, তা হলে সতর্ক থাকতেই হবে। সামান্য অসতর্কতাতেও বড় বিপদ ঘটে যেতে পারে।
রাতে কুলার চালিয়ে রাখলে কী কী নিয়ম মানতে হবে?
পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা
কুলার চালানোর সময় ঘর কখনো পুরোপুরি বন্ধ রাখবেন না। কুলার ঘর থেকে গরম বাতাস টেনে নিয়ে আর্দ্রতা বাড়িয়ে দেয়। যদি ঘর পুরোপুরি বন্ধ থাকে, তবে আর্দ্রতা অতিরিক্ত বেড়ে গিয়ে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তাই ঘরের অন্তত একটি জানালা বা দরজা কিছুটা খোলা রাখুন, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে।
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ জরুরি
কুলারের তাপমাত্রা সেট করার সময়ে খেয়াল রাখতে হবে, তা যেন খুব কম না হয়। দীর্ঘ সময় ধরে যদি অতি কম তাপমাত্রায় কুলার চলতে থাকে, তা হলে সেটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
জল ভরার সময়ে সাবধান হতে হবে
কুলার চলার সময়ে তাতে জল ভরবেন না। এতে তড়িদাহত হতে পারেন। কুলারে জল ভরার আগে অতি অবশ্যই প্লাগটি খুলে নিতে হবে।
পুরনো কুলার ব্যবহারে সচেতন থাকুন
অনেকের বাড়িতেই খুব পুরনো কুলার থাকে। সেটি ব্যবহারের আগে এর অয়্যারিং ঠিক আছে কি না, তা পরীক্ষা নিতে হবে হবে। অনেক সময়েই তার ছিঁড়ে গিয়ে থাকতে পারে বা অয়্যারিংয়ে কোনও ত্রুটি থেকে যেতে পারে। এমন হলে বড়সড় বিপদের ঝুঁকি থাকবে। কুলার দীর্ঘ ক্ষণ চললে এর মোটর গরম হয়ে যেতে পারে। সাধারণ প্লাগ পয়েন্টের পরিবর্তে ভাল মানের সকেট ও সঠিক প্লাগ ব্যবহার করুন। রাতে শোয়ার আগে কুলারের তার কোথাও গরম হচ্ছে কি না, তা এক বার পরীক্ষা করে নেওয়া ভাল।
পরিচ্ছন্নতা
কুলারের জল নিয়মিত বদলাতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে সে জল থাকলে তাতে ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। ফলে কুলারের বাতাসের সঙ্গে জীবাণু ছড়িয়ে যেতে পারে ঘরে। এতে ফুসফুসের সংক্রমণ হতে পারে। অ্যালার্জির সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
অটো-টাইমার ব্যবহার
টানা ৮-১০ ঘণ্টা কুলার না চালিয়ে টাইমার ব্যবহার করুন। ভোরের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমে যায়, তাই এমন ভাবে টাইমার সেট করুন যেন ৩-৪ ঘণ্টা পর কুলারটি স্বয়ংক্রিয় ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং যান্ত্রিক ত্রুটির ঝুঁকিও কমবে।