ভাটপাড়া পুরসভার দখল নিল বিজেপি। কয়েক দিন আগেই এই পুরসভার অধিকাংশ কাউন্সিলর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে, ওই ভাটপাড়া হারাতে চলেছে তৃণমূল। মঙ্গলবার বর্তমান বোর্ডের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট দিয়ে সরকারি ভাবে বোর্ডের দখল নিল বিজেপি। পুরপ্রধান নির্বাচিত হলেন অর্জুন সিংহের ভাইপো সৌরভ সিংহ।

নির্বাচনের আগে অর্জুন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ভাটপাড়া পুরসভা ঘিরে শুরু হয়ে গিয়েছিল অচলাবস্থা। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে পুরপ্রধান ছিলেন অর্জুন সিংহ নিজেই। তিনি দলত্যাগ করার পরই তাঁর সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেন তৃণমূলের ১১ জন কাউন্সিলর।

ওই সময়ে অর্জুনের অনুগামীরা তৃণমূল পুরবোর্ডের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনলেও তৃণমূল কংগ্রেস তখনকার মতো পরিস্থিতি সামাল দিতে সমর্থ হয়। কিন্তু অর্জুন সিংহ পদত্যাগ করার পর, তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন বোর্ড কোনও পুরপ্রধান নির্বাচিত না করে কাউন্সিলর সোমনাথ তালুকদারকে অ্যাক্টিং চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়।

আরও পড়ুন: কলকাতা বিমানবন্দরে গ্রেফতার বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহ, ফাঁসানো হয়েছে, দাবি দলের​

কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায় নির্বাচনের ফল সামনে আসার পরই। এক দিকে অর্জুন নিজে যেমন ব্যারাকপুর থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন, তেমনি ভাটপাড়া বিধানসভা ক্ষেত্রেও বিজেপির টিকিটে জয়ী হন অর্জুন পুত্র পবন। বদলে যায় গোটা এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণ।

আগের অনাস্থা ভোটের সময় যে কাউন্সিলররা অর্জুনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের একটা বড় অংশই ফের যোগ দেন অর্জুনের শিবিরে। ফলে ফের একবার সংখ্যালঘু হয়ে পড়ে তৃণমূলের বোর্ড।

ভাটপাড়া পুরসভায় ৩৫ জন কাউন্সিলর। তাঁদের মধ্যে এক জন মৃত। সাংসদ হওয়ার পর অর্জুন সিংহ পদত্যাগ করায় সেই জায়গাটি ফাঁকা। রয়েছেন একজন সিপিএমের কাউন্সিলর। বাকি ৩২ জনের মধ্যে মঙ্গলবার অনাস্থা ভোটে উপস্থিত ছিলেন ২৭ জন। তার মধ্যে ২৬ জনই বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোট দেন। ২৭ তম কাউন্সিলর অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান সোমনাথ তালুকদার। তাঁর বোর্ড পরাজিত হওয়ার পর তিনি গোটা ঘটনার জন্য দায়ী করেন নৈহাটির তৃণমূল বিধায়ক পার্থ ভৌমিককে। তিনি বলেন, ‘‘এই পরিস্থিতির জন্য পার্থদা দায়ী। তিনি যদি আগের বার আস্থা ভোটে জেতার পর পুরপ্রধান নির্বাচন করতে দিতেন তা হলে ফের এই অচলাবস্থা হত না।’’ যদিও এ বিষয়ে পার্থ ভৌমিকের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: কাটমানি! ক্ষুব্ধ মমতা, ভোটের ফল বিশ্লেষণে বার্তা দলকেও​

অন্য দিকে নবনির্বাচিত পুরপ্রধান সৌরভ সিংহের দাবি, ‘‘তৃণমূলের উপর আস্থা হারিয়েছেন কাউন্সিলররা। এলাকার মানুষ লোকসভা এবং বিধানসভায় তৃণমূলকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। সেই জনমতকেই সম্মান জানিয়ে কাউন্সিলররা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।’’