তথ্য যাচাইয়ের কাজ এগোচ্ছে। তবে রাজ্যের যে দুই জেলায় সবচেয়ে বেশি নাম তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) সূত্রে ‘বিবেচনাধীন’ রয়েছে, সেই মুর্শিদাবাদ এবং মালদহ প্রশাসন সূত্রের দাবি, প্রায় ২০ লক্ষ নামের যোগ্যতা যাচাইয়ে সময় লাগবে অনেকটাই। সে সুবাদে ভোটারদের মধ্যেওবাড়ছে চিন্তা।
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পরে, মালদহে ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জন ভোটার ‘বিবেচনাধীন’। গত কয়েকদিন ধরে মালদহ জেলা প্রশাসনিক ভবনে ১৭ জন বিচারক জেলার ১২টি বিধানসভার নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজ করছেন। কত আবেদন দৈনিক গড়ে নিষ্পত্তি হচ্ছে? মালদহের জেলাশাসক প্রীতি গোয়েল বলেন, “আমাদের কাছে তথ্য নেই।” তবে প্রশাসনের একটি সূত্রের দাবি, প্রথম দিকে গড়ে দৈনিক সাড়ে তিন হাজার আবেদনের নথি যাচাই হচ্ছিল। সে কাজে গতি বেড়েছে। তার পরেও সব ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের নথি যাচাইয়ে অনেকটাই সময় লাগতে পারে। যদিও তথ্য যাচাইয়ের এ কাজে গতি আনতে আরও বিচারক যোগ দিতে পারেন বলে দাবি প্রশাসন সূত্রের।
মুর্শিদাবাদে ‘বিবেচনাধীন’ ভোটার ১১ লক্ষের উপরে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে তথ্য যাচাই শুরু হয়েছে। প্রথমে ১১, পরে ১৬, এখন ২৮ জন বিচারক কাজ করছেন। প্রশাসন সূত্রের খবর, সেখানেও গড়ে মালদহের মতো গতিতেই কাজ হচ্ছে। তবে বিচারকের সংখ্যা বেশি থাকায় নিষ্পত্তির সংখ্যাও বেশি। প্রশাসনের কর্তারা জানাচ্ছেন, আবেদন যাচাইয়ে গতি আনতে মুর্শিদাবাদ জেলায় আরও ৭০ জন বিচারককে কাজে লাগানো হবে। এ বিষয়ে শুক্রবার নির্দেশিকা জারি হয়েছে। ১০ মার্চ থেকে তাঁরাও জেলায় তথ্য যাচাইয়ের কাজে যোগ দেবেন। তবে জেলা প্রশাসনের এক কর্তা মনে করিয়ে দিয়েছেন, দৈনিক গড়ে ২৫ হাজার আবেদনের নিষ্পত্তি হলেও অন্তত চল্লিশ দিন লাগার কথা ১০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’-এর নথি যাচাইয়ে। ওই কর্তার কথায়, “দৈনিক কত ভোটারের নথি যাচাই হচ্ছে সে তথ্য কলকাতা হাই কোর্ট এবং নির্বাচন কমিশনে যাবে। কত ‘বিবেচনাধীনের’ আবেদনের নিষ্পত্তি হল, জানতে না পারায় আমরা চিন্তিত।”
চিন্তা বেশি ভোটারদের। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের যদুপুরের ৭ নম্বর বুথে ১৯৯৫ সাল থেকে ভোটার মতিউর রহমান। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল। ২০২৫ সালের ভোটার তালিকাতেও তাঁর নাম নির্ভুল ছিল। অভিযোগ, ২০২৬ সালের খসড়া ভোটার তালিকায় তাঁর নাম লেখা হয় ‘মতিউররহমান’। নাম এবং পদবির মাঝে ফাঁক না থাকার অভিযোগ তুলে মতিউরকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। মতিউর নথি জমা দিয়েছেন। তার পরেও চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নামের পাশে ‘বিবেচনাধীন’ লেখা রয়েছে। শুক্রবার বিকেলে মতিউর বলেন, “দাদুর নামে জমির দলিল রয়েছে। বাবার নামে জমির দলিল রয়েছে। আমার পাসপোর্ট রয়েছে। ২০০২ সালের এসআইআরের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে।এত নথি থাকলেও, আমার নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে নির্বাচন কমিশন। শেষ দেখে ছাড়ব। প্রয়োজনে, এই মানসিক নির্যাতনের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হব।”
মালদহের সুজাপুর বিধানসভার সামিউল শেখের নামও ছিল ২০০২-এর ভোটার তালিকায়। তার পরেও শুনানিতে ডাক পেয়ে মাধ্যমিকের শংসাপত্র, পাসপোর্ট-সহ নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নথি জমা দিয়েছিলেন। চূড়ান্ত তালিকায় তিনিও ‘বিবেচনাধীন’। সামিউল বলেন, “বিচারকেরা নথি যাচাই করছেন। কিন্তু তথ্য যাচাই হয়ে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা কবে বেরোবে, তা জানা নেই। বিধানসভায় ভোট দিতে পারব কি না, সে উদ্বেগ কিছুতে কাটছে না!”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)