বিশিষ্ট কবি শঙ্খ ঘোষ এবং প্রাক্তন বিদেশ সচিব সলমন হায়দারকে ডি-লিট দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। একই সঙ্গে ভারতরত্ন প্রাপ্ত সিএনআর রাও এবং ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের দিন ডি-এসসি সম্মান দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু, শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈঠকে এই তালিকা নিয়ে আপত্তি তোলেন আচার্য তথা রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। যদিও, শেষমেশ বাকি সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে ওই তালিকাতেই চূড়ান্ত সিলমোহর পড়ে। রাজ্যপালও বিষয়টি মেনে নেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বৈঠক (কোর্ট মিটিং)-এ উপাচার্য, সহ উপাচার্য এবং বিভাগীয় প্রধান (ডিন)-রা উপস্থিত থাকেন। এ ছাড়া থাকেন আচার্যের মনোনীত পাঁচ জন ছাড়াও অন্য সদস্যেরা। এ দিনের ওই বৈঠকে প্রায় ৪০ জন উপস্থিত ছিলেন। যে হেতু আচার্যের মনোনীত সদস্যরা বৈঠকে থাকেন, তাই সাধারণত তিনি নিজে এ সব বৈঠকে উপস্থিত থাকেন না। কিন্তু, এ দিনের বৈঠকে আচার্য জগদীপ ধনখড় নিজে উপস্থিত ছিলেন। এবং নজিরবিহীন ভাবে ডি-লিট এবং ডি-এসসি প্রাপকদের তালিকা নিয়ে আপত্তি তোলেন তিনি।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, এ দিনের বৈঠকে যখন প্রাপকদের নাম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তখন কারও নাম উল্লেখ না করে ওই তালিকা নিয়ে আপত্তি তোলেন জগদীপ। বৈঠকে হাজির থাকা ডিন-রা কাদের নামে আপত্তি রয়েছে, তা জানতে চান আচার্যের কাছে। কিন্তু আচার্য কোনও নাম উল্লেখ না করে, প্রাপকদের বায়োডেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর পর উপাচার্য সুরঞ্জন দাস-সহ ডিনদের প্রায় সকলেই ওই তালিকায় তাঁদের সম্মতি রয়েছে বলে হাত তুলে জানান। ওই বৈঠকে হাজির থাকা এক সদস্য বলেন, আচার্য জগদীপ ধনখড় প্রথমে বিষয়টি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। পরে সর্বসম্মতির কারণে শেষ পর্যন্ত রাজ্যপাল তা মেনে নেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন জুটার সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় এ প্রসঙ্গে বলেন, “প্রথমে আচার্যের আপত্তি ছিল। সকলের সম্মতি থাকায় পরে তাঁকে ওই তালিকা মেনে নিতে হয়।”

আরও পড়ুন: আইএনএক্স মামলায় চিদম্বরমের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করল সিবিআই, রয়েছে আরও ১৩ জনের নাম​

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বৈঠকে আচার্য জগদীপ ধনখড়। —নিজস্ব চিত্র।

বৈঠকে হাজির থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য এক সদস্য বলেন, “এর আগে এমন ভাবে কোনও আচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্ট মিটিংয়ে অংশ নেননি। রাজ্যপালের মনোনীত পাঁচ জন সদস্য থাকেন। তাই আচার্য সাধারণত আসেন না। এ বার আচার্য এলেন এবং তিনি নামের তালিকা নিয়ে ঘুরিয়ে আপত্তি তুললেন। এটা একেবারেই নজিরবিহীন।” ওই সদস্যের আরও মন্তব্য, ‘‘আচার্য এই নামের তালিকা আগেই শুনেছিলেন। সেটা নিয়ে মতবিরোধ হওয়াতেই সম্ভবত তিনি আজকের বৈঠকে এসেছিলেন।’’

যদিও রাজভবন সূত্রে খবর, আচার্য নাম নিয়ে নয় তিনি প্রাপকদের বায়োডেটা তৈরির ধরন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। বায়োডেটা আরও ভাল করে তৈরি করার কথা বলেছিলেন আচার্য।

আরও পড়ুন: সমঝোতায় সায় নেই, জানাল মুসলিম পক্ষের একাংশ, নয়া মোড় অযোধ্যা মামলায়​

ওই বৈঠকে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিভাগের প্রধান ওমপ্রকাশ মিশ্র। পরে তিনি আনন্দবাজারকে বলেন, “নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কি বায়োডাটা দরকার? প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মনমোহন সিংহ এখনও নিজেকে অর্থনীতির ছাত্র মনে করেন। যাঁদের সম্মান জানানো হবে বলে বলা হচ্ছে, তাঁদের কি বায়োডেটা দরকার? তাঁদের নামটাই তো যথেষ্ট!”