নারদ কাণ্ডে মুকুল রায়কে ডেকে পাঠাল ইডি। গত সপ্তাহেই নোটিস পাঠানো হয়েছে। চলতি মাসের শেষে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। গত সেপ্টেম্বরেই মুকুলকে ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইডি। কিন্তু সে বার কোনও কারণে পিছিয়ে আসে তারা।

বৃহস্পতিবার মুকুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। এসএমএস-এর জবাবও দেননি।

মুকুল ছাড়াও এ বার ডেকে পাঠানো হয়েছে তৃণমূলের তিন সাংসদ সৌগত রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। ইডি জানিয়েছে, অক্টোবরের শেষে বা নভেম্বরের গোড়ার মধ্যে নারদে প্রাথমিক এই জেরা পর্ব তারা সেরে রাখতে চাইছে। এর আগে বাকি ৯ অভিযুক্তকে ডেকে জেরা করেছে ইডি। তার মধ্যে তৃণমূল সাংসদ সুলতান আহমেদ মারা গিয়েছেন।

নারদে সরাসরি অভিযুক্তদের বাইরেও মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্নাদেবীকেও এর মধ্যে দু’বার ডেকে পাঠানো হয়েছে। তিনি বিদেশে থাকার জন্য আসতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। অক্টোবরের শেষে তাঁকেও তৃতীয় বারের মতো ডেকে পাঠানো হয়েছে। এ বারেও তিনি না এলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইডি।

প্রাথমিক তদন্তের পরে কী হবে?

ইডি সূত্রের খবর, নারদে মূল তদন্ত করছে সিবিআই। প্রভাবশালীদের ঘুষ কাণ্ডের এই তদন্তে সিবিআই যদি মনে করে দীর্ঘদিন ধরে এই ঘুষ নেওয়ার পরম্পরা চলছে, তখন আবার সক্রিয় হবে ইডি। তখন প্রাথমিক এই জেরা পর্ব কাজে আসবে তাদের। সেই সময়ে ‘আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি’-র মামলা শুরু করবে ইডি। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তও করা হতে পারে।

নারদ কাণ্ডে ৮ জন ইতিমধ্যেই ইডি-র সামনে বয়ান দিয়েছেন। ইডি-র দাবি, এঁদের মধ্যে শুধু শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র জানিয়েছেন, তাঁরা ম্যাথু স্যামুয়েলকে চেনেন না। ম্যাথুর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথাও তাঁরা অস্বীকার করেছেন। বাকি ৬ জন টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে, সেই টাকা কোথায় কী ভাবে খরচ করেছেন, তার একটি প্রাথমিক তালিকা দিয়েছেন।

সেই তালিকা অনুযায়ী এ বার ওই টাকার প্রাপকদের ডেকে পাঠানো হচ্ছে। কেউ কেউ যেমন জানিয়েছেন, ম্যাথুর দেওয়া টাকা তাঁরা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে দিয়েছেন। কেউ বলেছেন, স্থানীয় ক্লাবকে টাকা দিয়েছেন। কেউ জানিয়েছেন, নির্বাচনে খরচ করেছেন। এ সমস্ত তথ্যই এখন যাচাই করে দেখছে ইডি।