পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদে শপথ নিলেন জগদীপ ধনখড়। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি বি রাধাকৃষ্ণণ শপথবাক্য পাঠ করালেন নতুন রাজ্যপালকে। শপথের পরে নতুন রাজ্যপালের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা হল মুখ্যমন্ত্রীর। তবে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে এ দিন কোনও আলাপচারিতায় যাননি ধনখড়।

এ দিন বেলা সাড়ে ১২টায় শুরু হয় নতুন রাজ্যপালের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো ছিলেনই। মলয় ঘটক, অরূপ রায়, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বেশ কয়েক জন মন্ত্রীও এ দিনের শপথ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। ছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরাও।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত মন্ত্রী এবং অন্যান্য বিশিষ্টদের সঙ্গে রাজ্যপালের আলাপ করানো হয় শপথের পরে। আলাপ করানো হয় রাজ্যপালের পরিবারের লোকজনের সঙ্গেও। তার পরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ রাজ্যপালের কথোপকথন চলে।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপচারিতায়।—নিজস্ব চিত্র।

আরও পড়ুন: কাশ্মীরে গোলা বর্ষণ পাক সেনার, নিহত ১ জওয়ান, পাল্টা আঘাতে মৃত্যু ২ পাক রেঞ্জার্সের

রাজ্যের নতুন রাজ্যপালের নাম ঘোষিত হওয়ার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে ধনখড়কে স্বাগত জানিয়েছিলেন। পরে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানান নতুন রাজ্যপালের নাম। মমতা জানান, তিনি আগেই নাম জেনেছেন এবং স্বাগতও জানিয়েছেন।

পরবর্তী কয়েক দিনে বেশ কয়েক বার নতুন রাজ্যপালকে নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তিনি বিশদ মন্তব্যে যেতে চাননি। যথাসম্ভব সৌজন্য বজায় রেখে যে তিনি নতুন রাজ্যপালকে স্বাগত জানিয়েছেন, শুধু সে কথাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: সারদার টাকা ফেরত দিতে চান শতাব্দী রায়, চিঠি দিয়ে জানালেন ইডিকে​

ধনখড়ের পূর্বসূরি কেশরীনাথ ত্রিপাঠী নিজের বিদায়বেলায় যে খোঁচা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে গিয়েছেন, তার জেরেই যে মুখ্যমন্ত্রীর মেজাজ বিগড়েছিল, সে কথা বুঝতে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অসুবিধা হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোষণ রাজনীতির অভিযোগ তুলেছিলেন কেশরী। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন। তার ছাপ কিন্তু নতুন রাজ্যপালের শপথ অনুষ্ঠানে পড়েনি। মঙ্গলবার উষ্ণতাই দেখা গেল নতুন রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর পারস্পরিক আলাপচারিতায়। গোলাপের স্তবক দিয়ে নতুন রাজ্যপালকে আনুষ্ঠানিক ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর স্বাগত জানানো, শপথ গ্রহণের পরে মুখ্যমন্ত্রীকে পাশে বসিয়ে অন্যদের সঙ্গে রাজ্যপালের পরিচিত হওয়া, রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ কথোপকথন— সব মিলিয়ে জমজমাটই দেখাল ধনখড়ের শপথ অনুষ্ঠানকে।