শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করার দাবি উঠছে দীর্ঘদিন ধরে। তার ফয়সালা হয়নি। তবে ক্যাম্পাসে রাজনীতিবিদ এনে অনুষ্ঠান করার বিষয়ে কিছু বিধিনিষেধ চালু করার কথা ভাবছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় ক্যাম্পাসে আসার পরে যে-পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তারই প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষের এই চিন্তাভাবনা।

সহ-উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য সোমবার জানান, এ বার ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠানের জন্য আবেদনপত্র এলে তা ভাল করে দেখে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। কারা আবেদন করছে, বক্তা কারা, সবই দেখা হবে। তালিকায় রাজনীতিবিদ থাকলে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সব সংগঠনকে। যাদবপুরে সর্বত্র সিসি ক্যামেরা নেই। তাই বৃহস্পতিবারের ঘটনার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে নিজস্ব কোনও তথ্য নেই। তাই ভবিষ্যতে যে-সব অনুষ্ঠান হবে, তা ভিডিয়োয় তুলে রাখার কথা ভাবছেন কর্তৃপক্ষ। রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বসু জানান, ৩০ সেপ্টেম্বর কর্মসমিতির বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হবে।

উপাচার্য সুরঞ্জন দাস এ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। গোলমাল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে এ দিনই রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের কাছে প্রাথমিক রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। বাবুল-নিগ্রহ এবং ক্যাম্পাসে গেরুয়া বাহিনীর ভাঙচুর, দু’টি ঘটনারই নিন্দা করা হয়েছে তাতে। গেরুয়া বাহিনীর তাণ্ডবে সে-দিন চার নম্বর গেটের কাছে কলা বিভাগের ছাত্র সংসদের ঘর ভাঙচুর হয়। সেই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় দেখবে বলেই এ দিন জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘‘কত টাকার ক্ষতি হয়েছে, ছাত্রেরা জানাক। বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চয়ই বিষয়টি দেখবে।’’ ভবিষ্যতে এই ধরনের ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর কথাও ভাবছেন বিশ্ববিদ্যালয়-কর্তৃপক্ষ।