লোকসভা ভোটের পরে জনসংযোগ ফিরে পেতে তৃণমূল শুরু করেছে ‘দিদিকে বলো’। শাসক পক্ষকে বিঁধে এ বার ‘মুখ্যমন্ত্রীকেই বলছি’ নামে পুস্তিকা নিয়ে এল বামফ্রন্ট। কংগ্রেস ও বাম তো বটেই, তৃণমূল বিধায়কদের হাতেও ওই বই তুলে দিতে চান বিরোধী নেতারা। বিধানসভায় বৃহস্পতিবার ওই পুস্তিকা প্রকাশ করতে গিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র এবং বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান ফের ডাক দিয়েছেন গ্রামে গ্রামে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার।

তৃণমূল দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পরে গত তিন বছরে মুখ্যমন্ত্রীকে দেড়শোরও বেশি চিঠি দিয়েছেন বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী। এক বার প্রাপ্তি স্বীকার ছাড়া কোনও চিঠিরই জবাব আসেনি মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে। পাঠানো চিঠির মধ্যে ৩০টি বেছে নিয়ে ‘মুখ্যমন্ত্রীকেই বলছি’ সংকলন করেছে বাম পরিষদীয় দল। বিধানসভার নৌসর আলি কক্ষে এ দিন এক দিকে কংগ্রেসের মান্নান এবং তার পাশাপাশি সিপিআই, আরএসপি ও ফরওয়ার্ড ব্লকের তিন রাজ্য সম্পাদক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ চৌধুরী ও নরেন চট্টোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে সেই সংকলন আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করেছেন সূর্যবাবু। তৃণমূল সরকারের প্রথম দফায় মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা তৎকালীন বিরোধী দলনেতা সূর্যবাবুর চিঠির সংকলন দু’পর্বে বেরিয়েছিল ‘জবাব মেলেনি’ নামে।

পুস্তিকা প্রকাশের মঞ্চেই বিরোধী দলনেতা মান্নান বলেন, ‘‘বিধানসভায় আমরা মানুষের নানা সমস্যা নিয়ে যৌথ ভাবে প্রতিবাদ করছি। আমাদের চেয়েও গ্রামে গ্রামে রাজনীতি বেশি করেন সূর্যবাবুরা। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গ্রামে গ্রামে নিয়ে যেতে হবে। কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট একসঙ্গে রাস্তায় থাকলে বিজেপির বাংলায় ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন ধাক্কা খাবে।’’ সূর্যবাবুরও বক্তব্য, ‘‘বিধানসভায় সমন্বয় করেই আন্দোলন চলছে। তার বাইরেও ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক শক্তির ব্যাপক ঐক্য গড়তে হবে। নানা গণসংগঠনের আন্দোলন সে ভাবেই চলছে এখন।’’

বিধানসভায় বুধবার লোকসভায় বিরোধী দলের নেতা অধীর চৌধুরীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কংগ্রেস পরিষদীয় দলের আমন্ত্রণে যোগ দিয়েছিলেন বাম বিধায়কেরা। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ দিন বামেদের আমন্ত্রণে একই মঞ্চে কংগ্রেস বিধায়কেরা এসেছিলেন অনুষ্ঠানে। কংগ্রেস নেতাদের সুরেই সূর্যবাবু জানিয়েছেন, আগামী বিধানসভা ভোটে দু’দল সমঝোতা করে লড়তে তৈরি। আর সুজনবাবু বলেন, ‘‘শাসক দলকে এখন পেশাদারি সংস্থা ভাড়া করে ‘দিদিকে বলো’ করতে হচ্ছে মানুষের কী বলছেন, তা শোনার জন্য! বলা তো ইতিমধ্যেই হয়েছে অনেক। মুখ্যমন্ত্রী এ বার উত্তর দেবেন কি?’’ পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাল্টা মন্তব্য, ‘‘বিজেপিকে ছেড়ে ওঁরা এখন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করছেন কেন? আর অন্তহীন চিঠির জবাব দেওয়া তো মুখ্যমন্ত্রীর কাজ নয়! অনেক চিঠিই তিনি আমাদের মতো মন্ত্রীদের পাঠিয়ে দেন।’’