রাজ্যে মিডডে মিল, হাসপাতালে রোগীদের রান্নার মতো জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহে টান পড়বে না। গৃহস্থের রান্নাঘরেও জোগান নিরবচ্ছিন্ন থাকবে। বৃহস্পতিবার আদর্শ কার্যপদ্ধতি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন প্রসিডিয়োর বা এসওপি) প্রকাশ করে এমনটাই জানিয়েছে রাজ্য সরকার। সেই সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে নবান্ন। কন্ট্রোল রুম খোলা থেকে পর্যবেক্ষক কমিটি গঠনের মতো পদক্ষেপ করার কথা জানিয়েছে রাজ্যের সচিবালয়। চালু করা হচ্ছে হেল্প লাইনও।
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের প্রভাবে এ দেশে রান্নার গ্যাসে সঙ্কট তৈরি হয়েছে বলে একাংশের অভিযোগ। তবে যতটা না সঙ্কট তৈরি হয়েছে, তার থেকে বেশি উদ্বেগ ছড়িয়েছে গ্রাহকদের মধ্যে। সেই উদ্বেগ কমাতেই এ বার সক্রিয় হল নবান্ন। এসওপি-তে জানানো হয়েছে, নবান্ন কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে সেই কন্ট্রোল রুম। সেখানে বসেই রাজ্যে এলপিজির জোগান, সরবরাহ, মজুতের উপর নজরদারি চালানো হবে। জেলা, সরবরাহকারী এবং তেল সংস্থাগুলি (ওএমসি)-র সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হবে। এই কাজের জন্য ওএমসির তরফে নোডাল অফিসারও নিয়োগ করা হতে পারে। কন্ট্রোল রুমের নম্বর হল ১০৭০/২২১৪৩৫২৬/ ৮৬৯৭৯৮১০৭০।
বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছে নবান্ন। সেই কমিটির মাথায় থাকবেন মুখ্যসচিব। কমিটিতে থাকবেন স্কুল শিক্ষা দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, বিপর্যয় মোকাবিলা ও ত্রাণ দফতরের প্রিন্সিপাল সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের প্রিন্সিপাল সচিব, শিল্প, বাণিজ্য দফতরের প্রিন্সিপাল সচিব, খাদ্য ও অসামরিক সরবরাহ দফতরের প্রিন্সিপাল সচিব, পর্যটন দফতরের সচিব, স্বরাষ্ট্র দফতরের সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, ডিজি (আইনশৃঙ্খলা), কলকাতার পুলিশ কমিশনার, এডিজি (এনফোর্সমেন্ট বিভাগ), এডিজি (আইবি)। সিএনজি, ডিজ়েল, পেট্রল, কেরোসিন কতটা মজুত রয়েছে, তা-ও দেখবে কমিটি।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ইন্ডিয়ান অয়েল, এইচপিসিএল, বিপিসিএলের মতো সংস্থাগুলিকে জরুরি পরিষেবা ক্ষেত্রে রান্নার গ্যাসের জোগান নিশ্চিত করতে বলেছে রাজ্য। শহর এবং গ্রামের বাড়ি, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, অঙ্গনওয়াড়ি, স্কুল, কলেজ, সরকারি হস্টেল, হোমে যাতে প্রয়োজন মতো এলপিজি মেলে, তা সংস্থাগুলিকে দেখতে বলা হয়েছে। যে গ্রাহকেরা একটি সিলিন্ডার ব্যবহার করেন, সরবরাহের ক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে এলপিজি সংস্থাগুলিকে। গ্রাহকদেরও বুঝে খরচ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এসওপি-তে। গ্রাহকদের যাতে দ্রুত এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা যায়, এলপিজি সংস্থাগুলিকে সেই ব্যবস্থাও করতে বলা হয়েছে। এলপিজি সিলিন্ডার যাতে সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দ্রুত নিয়ে যাওয়া যায়, সে জন্য পুলিশকেও সাহায্য করতে বলা হয়েছে। সংস্থাগুলিকেও এই কাজে বেশি করে গাড়ি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
রাজ্যের তৈরি কমিটি নিয়মিত এলপিজির সরবরাহের বিষয়টি দেখবে। গ্যাস ভরার কেন্দ্রে কত সিলিন্ডার মজুত রয়েছে, কত সিলিন্ডার সরবরাহের জন্য পাঠানো হয়েছে, সবই দেখা হবে। এর ফলে জোগান নিয়ে সমস্যা তৈরি হবে না। গ্রাহকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে বুক করছেন কি না, তা-ও বোঝা যাবে। সারা রাজ্যে কত এলপিজি সরবরাহ করা হল, তা দেখার জন্য তৈরি করা হতে পারে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড। তাতে দেখা যাবে, কোন জেলায় কত সিলিন্ডার মজুত রয়েছে, কত বণ্টন করা হয়েছে। জেলাশাসকদের অধীনে জেলায় জেলায় এলপিজি পর্যবেক্ষক কমিটি গঠন করা হবে। বাড়িতে ব্যবহার করার এলপিজি সিলিন্ডার যাতে কোনও মতেই বাণিজ্য ক্ষেত্রে ব্যবহার করা না হয়, কালোবাজারি যাতে না হয়, এ সব দিকেও কড়া নজর রাখবেন কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনে আইন মেনে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।
আরও পড়ুন:
গ্রাহকদের সাহায্যের জন্য ২৪ ঘণ্টার হেল্প লাইন চালু করেছে নবান্ন। বুকিং নিয়ে তাঁরা সমস্যায় পড়লে এই হেল্প লাইনে ফোন করে জানাতে পারবেন। হেল্প লাইনের নম্বরগুলি হল, ৪৯৫০৬১০১/ ৩৫০২৬২১৪/ ২৪৮৭৪৪০০। যেখানে প্রয়োজন, বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় কেরোসিনের জোগান বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে। সিএনজির সরবরাহ নিয়ে কোনও সমস্যা নেই বলে জানিয়েছে রাজ্য। তাই পরিবহণ ক্ষেত্রকে সিএনজি ব্যবহারের উপরেই জোর দিতে বলেছে।