দিলদারের বাড়ি ছুঁয়ে গেল পুলিশ, বাহিনী
দিলদার কোন দলের সমর্থক, তা নিয়ে চাপানউতরে জড়ায় বিজেপি এবং তৃণমূল।
central Force

নজরবন্দি: কড়িধ্যায় রুট মার্চ কেন্দ্রীয় বাহিনীর। শনিবার। নিজস্ব চিত্র

‘টাই’ হয়ে থাকা রামপুর দিয়ে শুক্রবার বীরভূমে টহল শুরু করেছিল বাহিনী। শনিবার, সিউড়িতে রুট মার্চে এসে কেন্দ্রীয় বাহিনী ছুঁয়ে গেল নিহত ‘তৃণমূল’ কর্মী দিলদার খানের বাড়িও।

গত বছরের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভাইয়ের স্ত্রী-র সঙ্গে মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার পথে কড়িধ্যায়, সিউড়ি ১ ব্লকের অদূরেই গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন ছোড়া গ্রামের ভাটিপাড়ার বাসিন্দা দিলদার খান। ঘটনার পরেই নিহত দিলদার কোন দলের সমর্থক, তা নিয়ে চাপানউতরে জড়ায় বিজেপি এবং তৃণমূল। সামান্য সময়ের ব্যবধানে দু’পক্ষের দাবিকেই সমর্থন জানিয়েছিল পরিবার। তবে নিজেদের অবস্থান বদলে নিহতের নিহতের স্ত্রী লুৎফা বিবি এবং বাবা তহিদ খানেরা জানিয়ে দেন বিজেপি নয়, দিলদার ছিলেন তৃণমূল কর্মী। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। শেষ পর্যন্ত অভিযোগ দায়ে হয় বিজেপির বিরুদ্ধে। সেই মামলা এখনও চলছে।

এ বার সেই নিহত রাজনৈতির কর্মীর পরিবারে ছুঁয়ে গেল কেন্দ্রীয় বাহিনী। এটাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বাহিনীকে অবশ্য পথ দেখান সিউড়ি থানার আইসি দেবাশিস পান্ডা। নেতৃত্বে ছিলেন ডেপুটি পুলিশ সুপার (আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক) অভিষেক মণ্ডল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যদের বাহিনীকে দেখিয়ে পুলিশ বলে, নির্বাচন নিয়ে কোনও ভয় নেই। 

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

বিষয়টিকে অবশ্য বাঁকা চোখে দেখছে বিজেপি। দলের জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায় বলছেন, ‘‘শুক্রবার ৩-৩ আসনে টাই হয়ে যাওয়া রামপুরে বাহিনীকে ঘোরানো হয়েছিল। শনিবার দিলদার খানের বাড়িতে বাহিনীকে নিয়ে গিয়ে বোঝানো হল এলাকা কতটা স্পর্শকাতর। কিন্তু, সকলেই জানেন দুটি জায়গায় আসলে ঠিক কী ঘটেছে। বাহিনী জেলায় এসেছে নিশ্চয়ই ঘুরবে। কিন্তু জেলা পুলিশ যদি বিভ্রান্তি ছড়ানো চেষ্টা করে আমরা নির্দিষ্ট জায়গায় অভিযোগ করব।’’

পুলিশের অবশ্য কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। জেলা পুলিশের এক কর্তা শুধু বলেন, ‘‘শুধু দিলদারের বাড়িতেই নয়, এ দিন সকালে সিউড়ি থানা এলাকার কুখুডিহি, আলুন্দা, করিমপুর সহ একাধিক এলাকায় রুট মার্চ করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।’’ পুলিশ সূত্রের খবর, জেলা পুলিশের আধিকারিররা শনিবার বিকেলে সিউড়ি থানা এলাকার কড়িধ্যা, শালবুনি-সহ একাধিক এলাকায় রুট মার্চ করে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথাও বলেন জওয়ানরা। শেষ বেলায় শুধু নিহত রাজনৈতিক কর্মীর বাড়ি ঘুরে যাওয়া হয়।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত