মাসের প্রথম দিনে, আবার মাসের শেষ দিনে। জল্পনা বাড়িয়ে একই মাসে দু’বার কলকাতা সফরে সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। ৩১ অগস্ট তিন দিনের সফরে কলকাতায় আসছেন সঙ্ঘ প্রধান। সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর একাধিক বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে বলে সঙ্ঘ সূত্রের খবর। বিজেপির অন্দরে শুরু হওয়া আদি বনাম নব্য টানাপড়েন সামলানোর জন্য ভাবগবতের বিশেষ বার্তা থাকতে পারে এই সফরে— গুঞ্জন রাজনৈতিক শিবিরের একাংশে। তবে সঙ্ঘ সে সম্ভাবনার কথা নস্যাৎ করে জানাচ্ছে, ভাগবতের এই সফর পুরোপুরি সাংগঠনিক, বিজেপির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের প্রশ্নই নেই।

৩১ অগস্ট মোহন ভাগবত কলকাতায় আসছেন। সঙ্ঘের দক্ষিণবঙ্গের সদর দফতর কেশব ভবনেই উঠছেন ভাগবত। তিন দিন তিনি কলকাতায় থাকছেন বলে সঙ্ঘ সূত্রে জানানো হয়েছে।

ভাগবতের কলকাতা সফরের দ্বিতীয় দিনটি অর্থাৎ আগামী রবিবার দিনভর কেশব ভবনে বৈঠক চলবে বলে খবর। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের প্রান্ত প্রচারক এবং প্রান্ত কার্যবাহদের নিয়ে বৈঠকে বসার কথা তাঁর। মূলত সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্যই বৈঠকগুলো হবে। সঙ্ঘ সূত্রের জানানো হচ্ছে, এই ধরনের বৈঠক নির্দিষ্ট সময় অন্তর হয়েই থাকে, একে রুটিন পর্যালোচনা বললেও ভুল হয় না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মোহন ভাগবতের এই তিন দিনের সফর এবং বিশদ সাংগঠনিক পর্যালোচনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে রাজনৈতিক শিবির মনে করছে।

এ বারের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিজেপির যে উত্থান ঘটেছে, তা অভূতপূর্ব। ফলে সঙ্ঘ নেতৃত্বও বাংলাকে এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। এ রাজ্যের সঙ্ঘ নেতাদের প্রায় প্রত্যেকেই মানেন যে, গত কয়েক বছর ধরে সঙ্ঘ সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গে আগ্রহ বাড়ছিল। লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে তা আরও বেড়েছে। এমন এক প্রেক্ষাপটেই এক মাসের মধ্যে দু’বার মোহন ভাগবত কলকাতা সফরে। সুতরাং এ রাজ্যে আরএসএসের সাংগঠনিক বিস্তার নিয়ে যে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, তা বলাই বাহুল্য।

আরও পড়ুন: জঙ্গি ঢোকানোর চেষ্টা না করে প্রতিবেশীর মতো আচরণ করুন, পাকিস্তানকে তোপ বিদেশমন্ত্রকের

তবে শুধু স্থানীয় সঙ্ঘ নেতৃত্বের সঙ্গে আলাচনা বা বৈঠকের মধ্যেই ভাগবতের এই সফর সীমাবদ্ধ থাকছে না। রাজ্যের বেশ কয়েক জন বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে ভাগবতের সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই কেশব ভবনে গিয়ে দেখা করবেন বলে খবর। তবে কয়েক জনের বাড়িতে সরসঙ্ঘচালক নিজেই যেতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে। সে সব কর্মসূচির বিষয়ে অবশ্য সঙ্ঘের তরফে কিছুই জানানো হয়নি।

রাজনৈতিক শিবিরের একটি অংশের মত, তিন দিনের এই কলকাতা সফরে বিজেপির অভ্যন্তরীণ টানাপড়েন কমানোর বার্তাও দিয়ে যাবেন সঙ্ঘ প্রধান। বাংলায় বিজেপির জনভিত্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দলের অন্দরে টানাপড়েন যে বেড়েছে, তা কারও অজানা নয়। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যাঁরা বিজেপিতে যোগ দিতে চাইছেন, তাঁদের সকলকে দলে স্বাগত জানানো উচিত কি না, স্বাগত জানালেও বড় দায়িত্ব এখনই দেওয়া উচিত কি না— এ সব নিয়ে বিস্তর জলঘোলা চলছে মুরলীধর সেন লেনে। সে সব থামিয়ে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের বার্তা এবং প্রয়োজনে ঐক্যের কোনও ফর্মুলাও সঙ্ঘ প্রধানের তরফ থেকে আসতে পারে— গুঞ্জন এমনই।

আরও পড়ুন: জলপথে ঢুকতে পারে পাক কম্যান্ডো-জঙ্গিরা, গুজরাতের সব বন্দরে জারি সর্বোচ্চ সতর্কতা

আরএসএস অবশ্য সেই গুঞ্জনকে আদ্যন্ত ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দিচ্ছে। সঙ্গের দক্ষিণবঙ্গের প্রান্ত কার্যবাহ জিষ্ণু বসুর কথায়, ‘‘শুধুমাত্র সাংগঠনিক কাজেই সরসঙ্ঘচালক কলকাতায় আসছেন। বিজেপির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের কোনও প্রশ্নই ওঠে না।’’