হস্টেল সমস্যা মিটে যাওয়ায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়াদের অনশন উঠে গেল সোমবার দুপুরে। আর সন্ধ্যায় বদলি হয়ে গেলেন স্বাস্থ্যসচিব অনিল বর্মা।

নতুন স্বাস্থ্যসচিব হচ্ছেন রাজীব সিনহা। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা দেবাশিস ভট্টাচার্যকেও। নবান্নের খবর, তাঁর জায়গায় প্রদীপ মিত্রের নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন অ্যান্ড মেডিক্যাল এডুকেশনের অধিকর্তা ছিলেন। কুকুরের ডায়ালিসিস বিতর্কের পরে তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি (ওএসডি) করা হয়। তিনি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালগুলির দেখভাল করতেন।

নবান্নের এক শীর্ষ কর্তার কথায়, ‘‘এই বদলির সঙ্গে অনশন-কাণ্ডের যোগ নেই। এটি রুটিন বদলি।’’

নবান্ন যা-ই বলুক, স্বাস্থ্যসচিব বর্মাকে সরানোর ব্যাপারে প্রশাসনিক শিবিরে বেশ কিছু দিন ধরেই গুঞ্জন চলছিল। সরকারি চিকিৎসকদের একাংশ তাঁর ‘দুর্ব্যবহার’ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অভিযোগ জানান। ইস্তফাও দিতে চান কলকাতার কিছু মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক-চিকিৎসকেরা। সচিবের কড়াকড়ি বন্ধ না-হলে ধর্মঘটের হুমকিও দিয়েছিল সরকারি চিকিৎকদের সংগঠন। সমস্যা মেটাতে প্রথম পর্বে মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন সভাঘরে স্বাস্থ্য প্রশাসনের সকলকে ডেকে বৈঠক করেন। আলোচনা করেন চিকিৎসক-প্রতিনিধিদের সঙ্গেও।

কিন্তু সমস্যা মেটেনি। সচিব নিজের অবস্থানে অটল থাকেন। তিনি ডাক্তারদের হাসপাতালে দৈনিক উপস্থিতি, বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া এবং রোগী দেখা বা অস্ত্রোপচারের সবিস্তার রিপোর্ট চাইতেই থাকেন বলে স্বাস্থ্য ভবনের খবর। ডাক্তারদের রোজ হাসপাতালে অন্তত ছ’ঘণ্টা থাকতে হবে বলে জেদ ধরে বসেন সচিব। মেডিক্যাল সার্ভিস কর্পোরেশনের কোটি কোটি টাকার কেনাকাটায় নিয়মবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বর্মার সঙ্গে কোনও কোনও মহলের মতান্তর হয়। শেষ পর্যন্ত সরিয়েই দেওয়া হল তাঁকে। ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে কাজ করেছি। সরকার যেখানে পাঠাবে, সেখানেই কাজ করব,’’ বলেন বর্মা।

বর্মা যাচ্ছেন প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দফতরে। ওই দফতরের সচিব বি পি গোপালিকা পাচ্ছেন পরিবহণ দফতর। বদলি হয়েছেন আরও কয়েক জন আইএএস অফিসার। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দফতরে যাচ্ছেন পরিবহণসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-এর প্রধান সচিব সুব্রত বিশ্বাস জনশিক্ষা প্রসার এবং গ্রন্থাগার দফতরের সচিব হয়েছেন। ওই পদে থাকা অনুপ অগ্রবাল গেলেন স্বনির্ভর গোষ্ঠী দফতরের সচিবের দায়িত্বে। জিটিএ-র প্রধান সচিব হলেন স্বনির্ভর দফতরের সচিব ছোটেন লামা।