বাম সরকারের আমলের একটি নির্দেশিকাই শেষপর্যন্ত কর্মচারীদের হাত শক্ত করতে পারে বলে মনে করছে রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলি।

২০০৮ সালের ২৮ অগস্ট পঞ্চম বেতন কমিশন গঠন করেছিল তৎকালীন বাম সরকার। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই সেই কমিশন রিপোর্ট দেয় সরকারকে। সূত্রের তথ্য, বেতন কমিশনের সুপারিশ রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে পেশ করার পরে সেগুলি মেনে নেওয়ার বিষয়টি নির্দেশিকার মাধ্যমে ২০০৯ সালের ২৩ জুলাই জানিয়ে দেয় অর্থ দফতর। ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারির পরিবর্তে রাজ্য সরকার সেই বেতন কমিশন কার্যকর করেছিল ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে। কমিশনের সেই সুপারিশগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল মহার্ঘভাতার বিষয়টি। নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে রাজ্য সরকারের নির্ধারিত হারে কর্মীদের মহার্ঘভাতা দেওয়া হবে।

অধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়ে সম্প্রতি মহার্ঘভাতার বাকি বিষয়গুলি স্থির করার জন্য স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল বা স্যাট’কে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সংগঠনের নেতারা মনে করছেন, ২০০৯ সালের সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী তাঁদের বকেয়া মহার্ঘভাতার দাবিটা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। মামলাকারী কর্মচারী সংগঠনগুলির মধ্যে অন্যতম আইএনটিইউসি প্রভাবিত কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লইজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ক্ষমতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করে দাবিদাওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তা মানা হয়নি। আশা করি স্যাটে বিগত সরকারের নির্দেশিকা আমাদের যুক্তি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করবে।’’ তবে মহার্ঘভাতা দেওয়ার প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকায় ‘রাজ্য সরকারের নির্ধারিত হার’ কথাটির উল্লেখ থাকায় বিষয়টার মধ্যে কিছুটা ফাঁক থেকে গিয়েছে বলে অনেকের ধারণা। যা স্বীকারও করছে কর্মচারী সংগঠনগুলি।

মামলাকারী এবং বিরোধী কর্মী সংগঠনগুলির ব্যাখ্যা, আদর্শ পরিস্থিতিতে পঞ্চম বেতন কমিশন ২০১৬ সাল পর্যন্ত চলার পরে ষষ্ঠ বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার হওয়ার কথা। কিন্তু ষষ্ঠ বেতন কমিশন গঠিত হলেও এখনও পর্যন্ত তারা সরকারকে সুপারিশ জমা দেয়নি। আগামী নভেম্বর মাসে কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ফলে আগের বেতন কমিশন অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন সরকারি কর্মীরা। তাই উল্লিখিত নির্দেশিকাটিও বাতিল হয়ে যায়নি। সেই কারণেই ধারাবাহিক ভাবে মহার্ঘভাতা পাওয়ার কথা সরকারি কর্মচারীদের। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকার মূল বেতনের সঙ্গে ১২৫ শতাংশ মহার্ঘভাতা সংযুক্ত করে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করেছিল। ওই একই সময় রাজ্য সরকারের কর্মীদের মহার্ঘভাতা ছিল ৭৫ শতাংশ। সেই যুক্তিতে কেন্দ্র-রাজ্যের মহার্ঘভাতার ফারাক ছিল ৫০ শতাংশ। তাই সংগঠনের নেতাদের দাবি, এই যুক্তিতে ওই সময় থেকেই কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা দেওয়া উচিত।

কর্মী সংগঠনগুলির বক্তব্য, বাম সরকারের শেষ পর্যন্ত মহার্ঘভাতার দেওয়ার সময় ক্রমশ পিছিয়ে গেলেও তা কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই) অনুযায়ী দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময় থেকে মহার্ঘভাতার একেকটি কিস্তির সঙ্গে সিপিআই সূচকের ফারাক বাড়তে থাকে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের বছরে দু’বার নির্দিষ্ট কিস্তিতে মহার্ঘভাতা দেয়। ফলে তাদের কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি হয় পৌনপৌনিক হারে। কিন্তু রাজ্য সরকার বছরে একবার করে ভিন্ন হারে মহার্ঘভাতা দেওয়ায় এই সুফল আর থাকছে না। ফলে বাড়তি লোকসান হচ্ছে রাজ্য সরকারের কর্মীদের। এবার স্যাটের কাছে এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছে কর্মী সংগঠনগুলি।