রাজ্য বিজেপির নেতাদের সঙ্গে বুধবার রাতে একান্ত বৈঠকে অমিত শাহ বলেছিলেন, তাঁর সভাপতিত্বের সময়কালে রাজ্যে ৪০ জন দলীয় কর্মী খুন হয়েছেন। এই খুনের প্রতিশোধ তুলতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তিনি সরাবেন। অমিত নেতাদের বলেন, ‘‘আপনাদের এ কথা অবিশ্বাস্য মনে হলেও বলছি, এই কাজ আমি করে দেখাব।’’   

বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ায় খোলা মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই সুরেই তাঁর বক্তব্য,  ‘‘আমি তারাপীঠে পুজো দিয়ে বলেছি, মা, কর্মীদের এমন শক্তি দাও, যাতে তারা এই হিংসা সৃষ্টিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে উৎখাত করতে পারে।’’

দু’দিনের বঙ্গ সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ার শিমুলিয়া মাঠে সভা ছিল তাঁর। তৃণমূল সরকারকে উৎখাতের ডাক  দিলেও তিনি অবশ্য এ দিন সারদা ও নারদ-কাণ্ড, বলরামপুরের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাগুলির সিবিআই তদন্তের ব্যাপারে নীরবই থেকেছেন। যদিও বিজেপির কর্মীদের এই বিষয়গুলি নিয়ে সর্বভারতীয় সভাপতি কী বলেন তা জানার কৌতূহল ছিল।

এ দিন রাজ্য সরকারের বেহাল আর্থিক অবস্থা, তৃণমূল নেত্রীর জাতীয় স্তরে জোট গঠন এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আক্রমণ করেন অমিত। তাঁর বক্তব্য, ‘‘পঞ্চায়েত ভোটের হিংসায় ২০ জন বিজেপি কর্মীর রক্তস্রোত বয়েছে। আমাদের কর্মীদের ভয় দেখানো হয়েছে। দু’কোটি মানুষকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। এত কিছুর পরও ৬০ হাজার গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপির পতাকা উড়েছে।’’ এই প্রেক্ষিতেই তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাবছেন, এই ভাবে হিংসা করেই সরকার চালাতে পারবেন। কিন্তু আমি চ্যালেঞ্জ করছি, এই ভাবে দীর্ঘ দিন সরকার চলবে না।’’

এ দিন পুরুলিয়াতেও শাহের অভিযোগ, মমতার রাজ্যে শিল্প বলতে আছে বোমার কারখানা। আর কোনও শিল্প হয়নি। শাহের কটাক্ষ, ‘‘রবীন্দ্রসঙ্গীতের থেকে এখানে বেশি শোনা যায় বোমার আওয়াজ।’’

ইউপিএ-২ সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গ ১ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকা পেয়েছিল। আর মোদী জমানায় তারা পেয়েছে ৩ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকা। এই তথ্য জানিয়ে শাহ প্রশ্ন তোলেন, ‘‘এত বেশি টাকা যে পেল, সেটা কোথায় গেল?’’ শাহর অভিযোগ, ‘‘সিন্ডিকেট, কয়লা আর গরু পাচারকারী— এই সবই শুধু এখানে আছে। উন্নয়নের স্বপ্ন অধরাই থেকে গিয়েছে।’’

পুরুলিয়ায় এ দিন শাহর সভায় ভিড় হয়েছিল ভালই। তা দেখে মমতার প্রতি তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘মমতাজি, আপনি মহাজোট করছেন, করুন। আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু বাংলাটা সামলান! এখানে কিন্তু আপনাদের জমি আলগা হচ্ছে।’’

সাম্প্রতিক ভোটের ফলে রাজ্যে দু’ নম্বরে আছে তাঁর দল। এ দিন সভার শেষে শাহ স্বপ্ন দেখান, ‘‘২০১৪ সালে আমরা ছিলাম চতুর্থ দল। পঞ্চায়েতের পর এখন দ্বিতীয়। ২০১৯-এ ২২-এর বেশি আসন জিতে আমরা এখানে ১ নম্বর হব।’’

রাজ্য নেতাদের শাহ জানান, আগামী তিন মাস ধরে ৬টি রথ রাজ্যে ঘুরবে। তার পর বছরের শেষ দিক থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যে  আসা শুরু করবেন।